বিজ্ঞান শুধু পাঠ্যবইয়ের পাতা বা পরীক্ষার খাতায় সীমাবদ্ধ কোনো বিষয় নয়, বিজ্ঞান মানেই প্রশ্ন, অনুসন্ধান, পরীক্ষা আর নতুন কিছু আবিষ্কারের আনন্দ। এই বিশ্বাসকে বাস্তবে রূপ দিতেই রাজবাড়ী জেলার শিক্ষার্থীদের জন্য এক ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন হিসেবে সফলভাবে অনুষ্ঠিত হলো বিজ্ঞান ও গণিত উৎসব “বিজ্ঞান আনন্দ ২০২৬”।
গত ১৬ জানুয়ারি ২০২৬, শুক্রবার, সকাল ৮টা ৩০ মিনিট থেকে রাজধরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী এই উৎসবের আয়োজন করে আমার স্কুল প্রজেক্ট (ASP)। সহযোগিতায় ছিল রাজধরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাক্তন ছাত্র সমিতি।
রাজবাড়ী জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত প্রাইমারি, জুনিয়র ও সেকেন্ডারি স্তরের শিক্ষার্থীদের পদচারণায় উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পুরো ভেন্যু। বিজ্ঞান ও গণিতকে ভয় নয়, বরং আনন্দের জায়গা হিসেবে তুলে ধরাই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। হাতে-কলমে বিজ্ঞান কার্যক্রম, চিন্তাভিত্তিক গণিত চ্যালেঞ্জ, দলগত সমস্যা সমাধান ও সৃজনশীল প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা এক ভিন্ন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়।
অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে উদ্বোধক ও প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান শিকদার, সভাপতি, রাজধরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাক্তন ছাত্র সমিতি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব মো: সোহান সুলতান, সাধারণ সম্পাদক, রাজধরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাক্তন ছাত্র সমিতি।
দ্বিতীয় পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব অদ্বৈত কুমার দাস, সহকারী অধ্যাপক (গণিত), রাজবাড়ী সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব শেখ মুহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান, প্রধান শিক্ষক, রাজধরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জনাব নীলমনি মন্ডল, সভাপতি, আমার স্কুল প্রজেক্ট এবং সিনিয়র শিক্ষক (গণিত), রাজধরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়।
অনুষ্ঠানের একটি বিশেষ আকর্ষণ ছিল “শিক্ষা প্রদীপ সম্মাননা”। প্রাথমিক শিক্ষা ক্ষেত্রে অনুপ্রেরণামূলক নেতৃত্ব ও আদর্শিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এই সম্মাননা প্রদান করা হয় স্বাবলম্বী ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব মো: শহিদুল ইসলাম–কে। এই সম্মাননা শিক্ষাক্ষেত্রে নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠে।
বিজ্ঞান আনন্দ ২০২৬ অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয় সকল ইভেন্ট। সকাল ৯:৪০ মিনিটে শুভ উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়ে একে একে চলতে থাকে গণিত অলিম্পিয়াড, বিজ্ঞান ও পদার্থবিজ্ঞান অলিম্পিয়াড এবং ইংরেজি অলিম্পিয়াড।
দুপুরে জুনিয়র ও সেকেন্ডারি ক্যাটাগরির জন্য শুরু হয় কেস স্টাডি। পাশাপাশি অন্যদিকে প্রাইমারি ক্যাটাগরিতে চলতে থাকে বিজ্ঞানভিত্তিক বিভিন্ন খেলা। একই সময় অনুষ্ঠিত হয় বিজ্ঞান প্রজেক্ট ও পোস্টার প্রদর্শনী, যেখানে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও সৃজনশীলতা দর্শকদের মুগ্ধ করে।
দুপুর নামাজ ও মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয়। এসময় অনুষ্ঠিত হয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা, এরপর পর্যায়ক্রমে কুইজ প্রতিযোগিতা, প্রশ্ন-উত্তর পর্ব, এবং রুবিকস কিউব প্রতিযোগিতা। সব শেষে অনুষ্ঠিত হয় পুরষ্কার বিতরণ অনুষ্ঠান। এর পাশাপাশি ভেন্যু জুড়ে সারাদিন চলতে থাকে বিভিন্ন বিজ্ঞান ও গণিতভিত্তিক মজার খেলা।
প্রাইমারি, জুনিয়র ও সেকেন্ডারি—এই তিনটি ক্যাটাগরিতে গণিত অলিম্পিয়াড, বিজ্ঞান ও পদার্থবিজ্ঞান অলিম্পিয়াড, ইংরেজি ইভেন্ট, কেস স্টাডি, কুইজ, বিজ্ঞান প্রজেক্ট, পোস্টার প্রদর্শন, ম্যাথ এস্কেপ রুম, সুডোকু, রুবিকস কিউব, ব্যাডমিন্টনসহ নানা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি ইভেন্টে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ উৎসবকে প্রাণবন্ত করে তোলে।
আয়োজকদের মতে, বিজ্ঞান আনন্দ ২০২৬–এর লক্ষ্য ছিল শুধু বিজয়ী নির্ধারণ নয়; বরং শিক্ষার্থীদের মধ্যে কৌতূহল জাগানো, বিজ্ঞান ও গণিতের প্রতি ভয় দূর করা এবং ভবিষ্যতের জন্য যুক্তিনির্ভর, চিন্তাশীল ও আত্মবিশ্বাসী প্রজন্ম গড়ে তোলা। ২০১৯ সাল থেকে ধারাবাহিক আয়োজনের অভিজ্ঞতা নিয়ে এবার আরও বড় পরিসরে ও পরিকল্পিতভাবে এই উৎসব আয়োজন করা হয়, যা অংশগ্রহণকারীদের জন্য এক অনুপ্রেরণামূলক স্মৃতি হয়ে থাকবে।
“বিজ্ঞান আনন্দ ২০২৬” প্রমাণ করেছে, যথাযথ পরিকল্পনা ও আন্তরিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে বিজ্ঞানকে উৎসবের রূপ দেওয়া সম্ভব। এটি শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং কৌতূহল থেকে আবিষ্কারের পথে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে যাওয়ার এক অনুপ্রেরণামূলক যাত্রা।
———
বিজ্ঞান আনন্দ ২০২৬ এর মাগাজিন পার্টনার হিসাবে বিজ্ঞানবার্তা অংশগ্রহণ করে।
নিয়মিত আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের নিউজলেটারে এবং ফলো করুন আমাদের টেলিগ্রাম, ইনস্টাগ্রাম, টুইটার এবং ফেসবুক-এ। এছাড়াও যুক্ত হতে পারেন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে।

এই নিবন্ধটি Creative Commons Attribution-NoDerivatives 4.0 International License-এর অধীনে লাইসেন্সকৃত। পুনঃপ্রকাশের জন্য পুনঃপ্রকাশের নির্দেশিকা দেখুুন।










