চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলায় অবস্থিত খৈয়াছড়া ঝরনায় বিজ্ঞানীরা এমন একটি ক্ষুদ্র পতঙ্গের সন্ধান পেয়েছেন, যা আগে বিজ্ঞানের কাছে অজানা ছিল। Ephemera primitiva নামের এই নতুন প্রজাতির মাছমাছি (Mayfly)-এর সন্ধান বাংলাদেশের স্বাদুপানির জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে জ্ঞানের পরিধি বাড়িয়েছে। তবে পর্যটকদের ফেলে যাওয়া প্লাস্টিক, পলিথিন ও খাবারের উচ্ছিষ্ট এর প্রাকৃতিক আবাসস্থলের জন্য হুমকি হয়ে উঠছে।
২০২৬ সালের ৬ আগস্ট আন্তর্জাতিক প্রাণিবিদ্যাবিষয়ক জার্নাল Zootaxa-এ প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে নতুন প্রজাতিটির আনুষ্ঠানিক বিবরণ দেওয়া হয়েছে। গবেষণাটি করেছেন চীনের নানজিং নরমাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক চাংফা ঝৌ এবং একই বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি গবেষক শিবলী সাদিক শশী। শশী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেসের সাবেক শিক্ষার্থী।
গবেষকেরা পতঙ্গটির দেহের গঠন, জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ের নমুনা এবং ডিএনএর ক্রম বিশ্লেষণ করে এর স্বতন্ত্র পরিচয় নিশ্চিত করেছেন। গবেষণাপত্র অনুযায়ী, বাংলাদেশে Ephemera গণের কোনো প্রজাতির এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে নামকরণ ও বর্ণনার রেকর্ড। এর আগে বাংলাদেশে এই গণের একটি পতঙ্গের নমুনা পাওয়া গেলেও সেটিকে নির্দিষ্ট কোনো প্রজাতি হিসেবে শনাক্ত করা যায়নি।
কীভাবে শনাক্ত হলো নতুন প্রজাতি?
গবেষকেরা ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে খৈয়াছড়া ঝরনার নিচের অংশ থেকে পতঙ্গটির নমুনা সংগ্রহ করেন। ঝরনার নিচের দিকে নদীর বালুময় ও পাথুরে তলদেশে এর অপরিণত দশার পতঙ্গ, অর্থাৎ নিম্ফ পাওয়া যায়। প্রাপ্তবয়স্ক পতঙ্গ সংগ্রহে রাতে আলোর ফাঁদ ব্যবহার করা হয়। অন্যদিকে দিনের বেলায় স্রোতধারা থেকে হাতজাল দিয়ে নিম্ফ সংগ্রহ করেন গবেষকেরা।
ক্রেডিট: Shashi & Zhou/Zootaxa (2026)
গবেষণায় প্রাপ্তবয়স্ক পতঙ্গের পাশাপাশি নিম্ফ এবং প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগের মধ্যবর্তী দশার নমুনাও পরীক্ষা করা হয়। এসব নমুনার বাহ্যিক গঠন অণুবীক্ষণযন্ত্রের সাহায্যে পর্যবেক্ষণ ও ছবি তোলা হয়। বিশেষভাবে দেখা হয় ডানা, পা, মুখের বিভিন্ন অংশ, ফুলকার গঠন এবং প্রজনন অঙ্গের বৈশিষ্ট্য। কারণ কাছাকাছি প্রজাতির পতঙ্গের মধ্যে পার্থক্য অনেক সময় এসব অঙ্গের সূক্ষ্ম গঠনে প্রকাশ পায়।
পতঙ্গটির পরিচয় নিশ্চিত করতে গবেষকেরা আণবিক বিশ্লেষণও করেন। দুটি পুরুষ প্রাপ্তবয়স্ক নমুনার বক্ষদেশের পেশি থেকে ডিএনএ সংগ্রহ করে মাইটোকন্ড্রিয়ার COI জিনের একটি অংশের ক্রম নির্ণয় করা হয়। এরপর বাংলাদেশে পাওয়া নমুনাটির জিনগত তথ্যের সঙ্গে এশিয়ার আরও আটটি Ephemera প্রজাতির ডিএনএ তথ্য তুলনা করা হয়।
ক্রেডিট: Shashi & Zhou/Zootaxa (2026)
তুলনায় দেখা যায়, নতুন প্রজাতিটির সঙ্গে অন্য আটটি প্রজাতির জিনগত দূরত্ব ২১ শতাংশের বেশি। জাপানের Ephemera formosana প্রজাতির সঙ্গে দূরত্ব ২১.৩৩ শতাংশ, চীনের Ephemera rufomaculata-এর সঙ্গে ২২.২৭ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার Ephemera sachalinensis-এর সঙ্গে ২২.৫৯ শতাংশ। গবেষকদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই পার্থক্য নতুন প্রজাতিটির স্বতন্ত্র পরিচয় প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজ করেছে।
শুধু ডিএনএ বিশ্লেষণের ওপর নির্ভর করেননি গবেষকেরা। পতঙ্গটির দেহের রং, ডানার গায়ে থাকা দাগ, পায়ের গঠন, উদরদেশের রেখা এবং পুরুষ পতঙ্গের প্রজনন অঙ্গের বৈশিষ্ট্যও অন্য প্রজাতির সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। এসব বৈশিষ্ট্যের সমন্বিত বিশ্লেষণ থেকে তাঁরা নিশ্চিত হন, এটি আগে বর্ণিত কোনো প্রজাতি নয়।
দেখতে কেমন এই পতঙ্গ?
Ephemera primitiva-এর দেহের রং ফ্যাকাশে হলুদ থেকে সোনালি। দেহের বিভিন্ন অংশে রয়েছে বাদামি থেকে গাঢ় বাদামি বা কালচে দাগ ও রেখা। ডানা, পা এবং উদরদেশেও এসব চিহ্ন দেখা যায়। প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ পতঙ্গের দেহের দৈর্ঘ্য ১২ থেকে ১৫ মিলিমিটার। স্ত্রী পতঙ্গের দৈর্ঘ্য ১৩ থেকে ১৫.৫ মিলিমিটার।
পুরুষ পতঙ্গটির সামনের ও পেছনের ডানায় একটি করে স্পষ্ট গাঢ় দাগ রয়েছে। পেছনের পায়ের গোড়ার অংশেও দেখা যায় এমন একটি দাগ। উদরদেশের ওপরের অংশে গাঢ় বাদামি রেখার নির্দিষ্ট বিন্যাস রয়েছে, যা প্রজাতিটিকে কাছাকাছি অন্য প্রজাতি থেকে আলাদা করতে সাহায্য করে।
ক্রেডিট: Shashi & Zhou/Zootaxa (2026)
নিম্ফের দেহেও প্রাপ্তবয়স্ক পতঙ্গের মতো রঙের বিন্যাস দেখা যায়। এদের দেহ হালকা সোনালি এবং বক্ষ ও উদরদেশে বাদামি থেকে গাঢ় বাদামি রেখা রয়েছে। দেহের অধিকাংশ অংশে সোনালি রঙের সূক্ষ্ম লোমের মতো গঠন দেখা যায়। নিম্ফের মাথার সামনের অংশ এবং চোয়ালের মতো মুখের অঙ্গের গঠনও শনাক্তকরণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
গবেষণাপত্রে প্রজাতিটির সঙ্গে চীনে পাওয়া Ephemera rufomaculata-এর তুলনা করা হয়েছে। দুটি প্রজাতির কিছু বৈশিষ্ট্যে মিল থাকলেও তাদের মধ্যে বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে। যেমন, E. rufomaculata-এর দেহ সাধারণত লালচে বাদামি, কিন্তু নতুন প্রজাতিটির দেহ হলুদ থেকে সোনালি। আগের প্রজাতিটির ডানায় একাধিক দাগ থাকতে পারে, অন্যদিকে নতুন প্রজাতিটির ডানায় নির্দিষ্ট স্থানে একটি করে স্পষ্ট গাঢ় দাগ দেখা যায়। নিম্ফের চোয়ালের দৈর্ঘ্য এবং প্রজনন অঙ্গের গঠনেও পার্থক্য রয়েছে।
নতুন প্রজাতিটির বৈজ্ঞানিক নামের শেষাংশ ‘primitiva’ এসেছে লাতিন শব্দ ‘primitivus’ থেকে, যার অর্থ প্রথম বা আদিম। বাংলাদেশে Ephemera গণের প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে বর্ণিত নতুন প্রজাতি হিসেবে এর নামকরণ করা হয়েছে।
জীবনের বেশির ভাগ সময় কাটে পানির নিচে
মেফ্লাই (mayfly) বা মাছমাছি বা Ephemera গণের পতঙ্গেরা তাদের জীবনচক্রের বড় একটি অংশ কাটায় পানির নিচে। নদী, ঝরনা ও অন্যান্য স্বাদুপানির পরিবেশে ডিম ফুটে বের হওয়ার পর এদের অপরিণত দশা, অর্থাৎ নিম্ফ, বেড়ে ওঠে। প্রজাতিভেদে কয়েক মাস বা তারও বেশি সময় ধরে এই দশায় থাকার পর তারা ডানা গজিয়ে প্রাপ্তবয়স্ক পতঙ্গে পরিণত হয়।
প্রাপ্তবয়স্ক মাছমাছি সাধারণত খুব অল্প সময় বেঁচে থাকে, অনেক ক্ষেত্রে মাত্র কয়েক দিন। এ সময়ের মধ্যে তারা প্রজনন করে এবং পরবর্তী প্রজন্মের জন্য ডিম রেখে যায়। এ কারণেই এদের জীবনচক্রের সবচেয়ে দীর্ঘ পর্যায়টি কাটে পানির নিচে, আর ডানাযুক্ত প্রাপ্তবয়স্ক দশাটি তুলনামূলকভাবে ক্ষণস্থায়ী।
খৈয়াছড়ায় পাওয়া নতুন প্রজাতিটির জীবনচক্র সম্পর্কেও গবেষকেরা কিছু তথ্য পেয়েছেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে এর প্রথম নিম্ফ সংগ্রহ করা হয়। একই বছরের আগস্টে আলোর ফাঁদ ব্যবহার করে তিনটি স্ত্রী প্রাপ্তবয়স্ক পতঙ্গ পাওয়া যায়। পরের বছর জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে একই স্থান থেকে কয়েক ডজন নিম্ফ, প্রাপ্তবয়স্ক পতঙ্গ এবং প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগের দশার নমুনা সংগ্রহ করা হয়।
এই তথ্যের ভিত্তিতে গবেষকেরা ধারণা করছেন, প্রজাতিটি বছরে একাধিক প্রজন্ম তৈরি করতে পারে। জীববিজ্ঞানে এ ধরনের জীবনচক্রকে মাল্টিভোল্টাইন (multivoltine) বলা হয়। তবে এর জীবনচক্রের সময়কাল ও প্রজননের ধরন আরও ভালোভাবে বুঝতে দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।
স্বাদুপানির বাস্তুতন্ত্রে মাছমাছির ভূমিকা
মেফ্লাই বা মাছমাছি স্বাদুপানির বাস্তুতন্ত্রের খাদ্যজালের একটি অংশ। পানির নিচে বেড়ে ওঠা নিম্ফ এবং প্রাপ্তবয়স্ক পতঙ্গ উভয়ই বিভিন্ন প্রাণীর খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ফলে এদের উপস্থিতি জলজ পরিবেশে বিভিন্ন প্রাণীর পারস্পরিক সম্পর্কের সঙ্গে যুক্ত।
তবে খৈয়াছড়ায় পাওয়া Ephemera primitiva স্থানীয় মাছের খাদ্য হিসেবে ঠিক কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা এখনো জানা যায়নি। মানুষের খাদ্যনিরাপত্তার সঙ্গে এই প্রজাতির কোনো নির্দিষ্ট সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়েও গবেষণায় সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি। এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে স্থানীয় খাদ্যজাল ও জলজ প্রাণীদের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে আরও গবেষণা করতে হবে।
নতুন প্রজাতিটির সন্ধান বাংলাদেশের স্বাদুপানির পতঙ্গবৈচিত্র্য সম্পর্কে বিদ্যমান জ্ঞানের সীমাবদ্ধতাও সামনে এনেছে। বাংলাদেশে নদী, খাল, ঝরনা, হ্রদ ও অন্যান্য স্বাদুপানির আবাসস্থল বিস্তৃত হলেও মেফ্লাই নিয়ে গবেষণা তুলনামূলকভাবে সীমিত। গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত এই পতঙ্গের অল্প কয়েকটি পরিবার ও প্রজাতির সন্ধান পাওয়ার তথ্য রয়েছে। ১৯৭৮ সালে প্রকাশিত একটি তালিকায় Baetidae ও Palingeniidae পরিবারের পাঁচটি প্রজাতির উল্লেখ ছিল। ২০১৪ সালের আরেকটি গবেষণায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার দুটি জলাশয় থেকে তিনটি পরিবারের চারটি প্রজাতি সংগ্রহের কথা জানানো হয়।
অন্যদিকে প্রতিবেশী ভারতসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে Ephemera গণের বহু প্রজাতি শনাক্ত হয়েছে। গবেষকদের মতে, বাংলাদেশে আরও বিস্তৃত জরিপ চালানো হলে মেফ্লাইয়ের নতুন প্রজাতির সন্ধান পাওয়ার পাশাপাশি এদের বিস্তৃতি, বিবর্তনীয় সম্পর্ক এবং স্বাদুপানির পরিবেশে ভূমিকা সম্পর্কেও ধারণা স্পষ্ট হবে।
তবে নতুন প্রজাতিটির বিবর্তনীয় অবস্থান নিয়ে এখনো কিছু প্রশ্ন রয়ে গেছে। Ephemera গণের অনেক প্রজাতিকে আলাদা করতে দেহের রং, ডানা ও উদরের দাগ এবং প্রজনন অঙ্গের মতো সূক্ষ্ম বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভর করতে হয়। এশিয়ার অনেক প্রজাতির ক্ষেত্রেও এসব বৈশিষ্ট্য ও তাদের পারস্পরিক বিবর্তনীয় সম্পর্ক নিয়ে পর্যাপ্ত গবেষণা নেই। তাই নতুন প্রজাতিটির অবস্থান আরও স্পষ্ট করতে ভবিষ্যতে বিস্তৃত তুলনামূলক গবেষণা প্রয়োজন।
পর্যটকদের বর্জ্যে হুমকির মুখে আবাসস্থল
নতুন প্রজাতিটির সন্ধান যেমন বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে নতুন তথ্য দিয়েছে, তেমনি এর আবাসস্থল রক্ষার প্রয়োজনীয়তাও সামনে এনেছে। গবেষকেরা নমুনা সংগ্রহের সময় খৈয়াছড়া ঝরনার নিচের অংশে প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিনের ব্যাগ এবং খাবারের উচ্ছিষ্ট জমে থাকতে দেখেছেন। পর্যটকের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব বর্জ্যের উপস্থিতিও চোখে পড়েছে।
নমুনা সংগ্রহের স্থানটি মানুষের বসতি থেকে কিছুটা দূরে হলেও সেখানে পর্যটকদের ফেলে যাওয়া বর্জ্য পৌঁছে যাচ্ছে। গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, পর্যটকদের আনাগোনার কারণে নতুন প্রজাতিটির আবাসস্থল দূষিত হচ্ছে। এ বিষয়ে গবেষকেরা জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে শিবলী সাদিক শশী জানান, ঝরনায় ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক ও পলিথিন পানির স্রোতে ভেসে নিচের দিকে যেতে পারে। এতে পানির তলদেশে বসবাসকারী নিম্ফের আবাসস্থল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। খাবারের উচ্ছিষ্ট ও অন্যান্য বর্জ্যও জলজ বাস্তুতন্ত্রের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
মেফ্লাইয়ের নিম্ফ সাধারণত নদী বা ঝরনার তলদেশে বালু, পাথর ও অন্যান্য পলির মধ্যে বসবাস করে। ফলে এসব স্থানের পরিবেশে পরিবর্তন ঘটলে তাদের জীবনযাত্রা প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তবে Ephemera primitiva-এর ওপর দূষণের প্রভাব কতটা পড়েছে, তা গবেষণায় পরিমাপ করা হয়নি। প্রজাতিটির সংখ্যা কমছে কি না, কিংবা এটি বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে কি না, সে সম্পর্কেও কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি।
এসব বিষয় জানতে প্রজাতিটির সংখ্যা, বিস্তৃতি ও আবাসস্থলের অবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে। একই সঙ্গে পানিতে বর্জ্য প্রবেশের মাত্রা এবং দূষণের সঙ্গে পতঙ্গটির উপস্থিতির সম্পর্কও পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
গবেষকেরা খৈয়াছড়ার মতো পর্যটনকেন্দ্রে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং দর্শনার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। ঝরনা ও জলধারায় প্লাস্টিক, পলিথিন এবং খাবারের উচ্ছিষ্ট ফেলা বন্ধ করা নতুন প্রজাতিটির আবাসস্থল রক্ষার পাশাপাশি অন্যান্য জলজ প্রাণীর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের স্বাদুপানির পরিবেশে এখনো অনেক অজানা পতঙ্গ ও অন্যান্য প্রাণী থাকতে পারে। খৈয়াছড়ায় Ephemera primitiva-এর সন্ধান সেই অজানা জীববৈচিত্র্য অনুসন্ধানের গুরুত্ব তুলে ধরেছে। তবে নতুন প্রজাতি শনাক্ত করার পাশাপাশি এর আবাসস্থল সংরক্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত না করলে প্রজাতিটি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অজানাই থেকে যেতে পারে।
———
The first named new Ephemera species from Bangladesh (Ephemeroptera: Ephemeridae), Zootaxa (2026).
DOI: 10.11646/ZOOTAXA.5862.3.11
নিয়মিত আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের নিউজলেটারে এবং ফলো করুন আমাদের টেলিগ্রাম, ইনস্টাগ্রাম, টুইটার এবং ফেসবুক-এ। এছাড়াও যুক্ত হতে পারেন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে।

এই নিবন্ধটি Creative Commons Attribution-NoDerivatives 4.0 International License-এর অধীনে লাইসেন্সকৃত। পুনঃপ্রকাশের জন্য পুনঃপ্রকাশের নির্দেশিকা দেখুুন।





