বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নীরব অরণ্যে গবেষকেরা এমন দুই প্রজাতির গাছে বাস করা সাপের সন্ধান পেয়েছেন, যাদের আগে দেশে কখনো নথিভুক্ত করা হয়নি।
সম্প্রতি Check List নামক পিয়ার-রিভিউ জার্নালে প্রকাশিত এই আবিষ্কার বাংলাদেশের সরীসৃপ তালিকায় নতুন সংযোজন এবং প্রমাণ করছে যে বিরল প্রাণী সংরক্ষণে সুরক্ষিত বনাঞ্চলের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত, গবেষকেরা কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান এবং দুধপুকুরিয়া-ধোপাছড়ি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে সমীক্ষা চালান। এগুলো মিশ্র চিরসবুজ অরণ্যের আবাসভূমি। তাদের নজর ছিল গাছে বসবাসকারী সাপের দিকে, যাদের নিয়ে বাংলাদেশে গবেষণা খুব কম হয়েছে।
দলটি নতুন যে দুটি প্রজাতির উপস্থিতি নিশ্চিত করেছে সেগুলো হলে Dendrelaphis cyanochloris ও Dendrelaphis haasi। দুটোই Dendrelaphis গণের অন্তর্ভুক্ত নির্বিষ ব্রোঞ্জব্যাক সাপ। এরা লম্বাটে, দ্রুতগামী এবং মূলত গাছে বসবাসকারী।
একটি D. cyanochloris পাওয়া যায় বালুময় ঝরনার ওপর একটি ছোট ডালে, মাটি থেকে প্রায় ১২ ফুট ওপরে। আরেকটি দেখা যায় বাঁশের কাণ্ডে, পাথুরে ঝরনার উপর দিয়ে। গবেষকরা জানান, এরা সাধারণত ছোট ছোট ডালে ঘুমাতে পছন্দ করে, যা ঝরনার ওপর থাকে। সম্ভবত শিকারি প্রাণীর আক্রমণ এড়াতে এবং অনুকূল পরিবেশ কাজে লাগানোর জন্য এরা এমন করে থাকে।
এই সাপের শরীর জলপাই-সবুজ থেকে ব্রোঞ্জ রঙের, আঁশের কিনারা কালো হওয়ায় জালের মতো নকশা তৈরি হয়। শরীর ফুলে উঠলে ভেতরের নীল আঁশ দৃশ্যমান হয়। এরা ছোট টিকটিকি ও ব্যাঙ খায়, গাছের ফাঁকে তিন থেকে পাঁচটি ডিম পাড়ে এবং দিনের বেলায় সক্রিয় থাকে।
অন্যদিকে, D. haasi মূলত রাতের বেলায় ঝরনার পাশে সরু বাঁশের ডালে বিশ্রামে দেখা গেছে, মাঝে মাঝে মানুষের বসতির কাছেও। এর গায়ে জলপাই রঙ, মাথা সোনালি-বাদামি, আর জিভ লাল যার আগা কালো। গবেষকরা জানান, তারা বেশিরভাগ সময় সাপটিকে ঝরনার ধারে পাহাড়ি ঢালের বাঁশ ও ঝোপঝাড়ের মধ্যে বিশ্রামরত অবস্থায় পেয়েছেন।
দুটি প্রজাতিই আগে ভারত ও মিয়ানমারে পাওয়া গিয়েছিল, কিন্তু বাংলাদেশে এদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়নি। বিশেষ করে D. haasi সম্প্রতি আবিষ্কৃত হয়েছে ২০০৮ সালে, তাই এর বিস্তৃত আবাসভূমি পাওয়া গবেষণার জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, “দুধপুকুরিয়া-ধোপাছড়ি অভয়ারণ্য এবং কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানে এদের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে সুরক্ষিত বনাঞ্চল লুকানো বা উপেক্ষিত প্রজাতি সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”
তবে গবেষকেরা সতর্ক করেছেন, আবাসস্থল ধ্বংস, বনভূমির অবক্ষয় এবং মানুষ-প্রাণীর সংঘাত এখনো বৃক্ষবাসী সাপের জন্য বড় হুমকি।
———
New records of two species of the genus Dendrelaphis Boulenger, 1890 (Serpentes, Colubridae) from Bangladesh. Check List (2025).
DOI: 10.15560/21.5.831
নিয়মিত আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের নিউজলেটারে এবং ফলো করুন আমাদের টেলিগ্রাম, ইনস্টাগ্রাম, টুইটার এবং ফেসবুক-এ। এছাড়াও যুক্ত হতে পারেন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে।

এই নিবন্ধটি Creative Commons Attribution-NoDerivatives 4.0 International License-এর অধীনে লাইসেন্সকৃত। পুনঃপ্রকাশের জন্য পুনঃপ্রকাশের নির্দেশিকা দেখুুন।


