স্বাদ ও স্বাস্থ্যগুণের জন্য পেস্তা বাদাম বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এটি শুধু একটি মুখরোচক স্ন্যাক নয়, বরং একটি জলবায়ু সহনশীল এবং বৈশ্বিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ফসল হিসেবে নতুন করে মনোযোগ পাচ্ছে। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, ডেভিস-এর নেতৃত্বে পরিচালিত একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় পেস্তা বাদাম (Pistacia vera)-এর এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সুনির্দিষ্ট ও বিস্তারিত জিনগত মানচিত্র (genetic map) তৈরি হয়েছে, যা এই ফসলের চাষাবাদ এবং পুষ্টিমূল্য নিয়ে বৈপ্লবিক উন্নতির সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
পেস্তা বাদাম আনাকার্ডিয়াসি (Anacardiaceae) গোত্রের অন্তর্ভুক্ত, যেখানে কাজু ও আমের মতো গাছও রয়েছে। এটি আসলে পুরোপুরি বাদাম নয়, বরং একটি ‘ডিহিসেন্ট ড্রুপ’—যার বাইরের চামড়ার মতো আবরণ, শক্ত খোল এবং ভোজ্য বীজ বা কার্নেল থাকে। শুধু স্বাদের জন্য নয়, এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অসম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রয়োজনীয় ভিটামিন, যা একে একটি পুষ্টিগুণে ভরপুর খাদ্য উপাদানে পরিণত করেছে।
শুক্রতা ও লবণাক্ততার মতো কঠিন পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ সহ্য করার ক্ষমতার কারণে, পেস্তা গাছকে এখন জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে একটি টেকসই খাদ্য উৎস হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত দুই দশকে বিশ্বজুড়ে পেস্তা উৎপাদন দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে, যা এই ফসলের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বকে প্রমাণ করে।
নতুন রেফারেন্স জিনোম তৈরি এই গবেষণায় একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক। গবেষক ড. জে. গ্রে মনরো বলেন, “এই জিনগত নির্ভুলতার উন্নতি হাতে আঁকা মানচিত্র থেকে স্যাটেলাইট চিত্রে যাওয়ার মতো।” এই উন্নত স্পষ্টতা বিজ্ঞানী ও কৃষকদের জন্য গাছটির আণবিক ও শারীরবৃত্তীয় গঠন আরও ভালোভাবে বোঝার সুযোগ করে দেয়।
এই গবেষণার একটি বড় সাফল্য হলো পেস্তা গাছের বিকাশের চারটি প্রধান ধাপ চিহ্নিত করা—ফুল ফোটার মুহূর্ত থেকে শুরু করে ফসল তোলার সময় পর্যন্ত। এই বিকাশমান মানচিত্রে খোল শক্ত হওয়া ও বীজের বৃদ্ধি-সহ গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলো অন্তর্ভুক্ত আছে। এই তথ্যের মাধ্যমে কৃষকেরা সেচের সময়সূচি ঠিক করতে, ফসল তোলার কৌশল উন্নত করতে এবং কীট বা ছত্রাকের আক্রমণে ফসলের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে পারবেন।
তবে গবেষণাটি শুধু গাছের শারীরিক পরিবর্তন নিয়েই সীমাবদ্ধ নয়। এটি পেস্তা বাদামের বিকাশকে নিয়ন্ত্রণ করে এমন জিন ও আণবিক প্রক্রিয়াগুলোও বিশ্লেষণ করেছে। গবেষকেরা বেশ কিছু জিন এবং বায়োকেমিক্যাল পথ চিহ্নিত করেছেন, যা প্রোটিন ও অসম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিডের সঞ্চয়ে ভূমিকা রাখে—যা পেস্তা বাদামের পুষ্টিমূল্য ও সংরক্ষণ ক্ষমতার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।
গবেষণক ড. বারবারা ব্লাঙ্কো-উলাতে বলেন, “এই জিনগত তথ্য চাষিদের হাতে কার্যকরী তথ্য তুলে দেয়, যা পেস্তার মান ও টেকসই উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করবে। এটি আরও ভালো ফসল ব্যবস্থাপনা ও লক্ষ্যভিত্তিক প্রজনন কৌশলের দরজা খুলে দেয়।”
জলবায়ুর চাপ বাড়তে থাকায় এবং পুষ্টিকর ও টেকসই ফসলের চাহিদা বাড়তে থাকায়, পেস্তা বাদাম ভবিষ্যতে বৈশ্বিক খাদ্য ব্যবস্থায় আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে—এবার বিজ্ঞানের সহযোগিতায় আরও সুনির্দিষ্ট পথে।
———
In a nutshell: pistachio genome and kernel development. New Phytologist (2025)
DOI: 10.1111/nph.70060
নিয়মিত আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের নিউজলেটারে এবং ফলো করুন আমাদের টেলিগ্রাম, ইনস্টাগ্রাম, টুইটার এবং ফেসবুক-এ। এছাড়াও যুক্ত হতে পারেন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে।

এই নিবন্ধটি Creative Commons Attribution-NoDerivatives 4.0 International License-এর অধীনে লাইসেন্সকৃত। পুনঃপ্রকাশের জন্য পুনঃপ্রকাশের নির্দেশিকা দেখুুন।


