জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা একটি বিস্ময়কর আবিষ্কার করেছেন WASP-121b নামের এক অতি-উষ্ণ বৃহস্পতি সদৃশ এক্সোপ্ল্যানেটের বায়ুমণ্ডলে। এটি পৃথিবী থেকে প্রায় ৮৮১ আলোকবর্ষ দূরে, Puppis নক্ষত্রমণ্ডলে অবস্থিত। জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা প্রথমবারের মতো এই গ্রহের বায়ুমণ্ডলে সিলিকন মনোক্সাইডের উপস্থিতি নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করেছেন — যা এর আগে কোনো গ্রহে কখনো দেখা যায়নি।
WASP-121b একটি বিশাল গ্যাসীয় গ্রহ, যা বৃহস্পতির চেয়ে প্রায় ১.৮৭ গুণ বড় এবং ১.১৮ গুণ বেশি ভারী। ২০১৬ সালে WASP-South জরিপের মাধ্যমে এটি আবিষ্কৃত হয়। এটি WASP-121 (TYC 7630-352-1) নামক একটি F-টাইপ তারাকে মাত্র ১.৩ দিনে একবার প্রদক্ষিণ করে। এতটাই কাছাকাছি কক্ষপথে রয়েছে যে, গ্রহটি তারার মহাকর্ষীয় টানে প্রায় ছিঁড়ে পড়ার উপক্রম।
এই এক্সোপ্ল্যানেটটির তাপমাত্রা চরম মাত্রায় ওঠানামা করে। এর দিনের দিকে তাপমাত্রা ৩০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি, আর রাতের দিকটি ঠান্ডা হয়ে নেমে যায় প্রায় ১৫০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এই চরম পরিবেশ গবেষকদেরকে গ্রহটির বায়ুমণ্ডলে রাসায়নিক পরিবর্তন বোঝার সুযোগ দিয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, গ্রহটির বায়ুমণ্ডলে গ্যাসের উল্লম্ব মিশ্রণ (vertical mixing) ঘটে — অর্থাৎ নিচের স্তর থেকে গ্যাস উপরের দিকে উঠে আসে, বিশেষ করে রাতের দিকে। আশ্চর্যের বিষয়, ঠান্ডা অঞ্চলে মিথেনের (methane) কিছু চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা এত তাপমাত্রায় পাওয়ার কথা নয়।
গ্রহটির বায়ুমণ্ডলে কার্বন, অক্সিজেন, হাইড্রোজেন এবং সিলিকনের অনুপাত বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, এটি বরফাচ্ছাদিত পাথরের টুকরো (icy pebbles) ও উচ্চতাপে টিকে থাকা কঠিন পদার্থ (refractory compounds) এর সংমিশ্রণে গঠিত হয়েছে। সাধারণত এ ধরনের কঠিন পদার্থ WASP-121b-এর অতিরিক্ত উষ্ণ দিনের দিকে গ্যাসীয় অবস্থায় পাওয়া যাচ্ছে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা ‘ফেজ কার্ভ পর্যবেক্ষণ’ (phase curve observation) নামে একটি পদ্ধতি ব্যবহার করে গ্রহটির উজ্জ্বলতার পরিবর্তন বিশ্লেষণ করেছেন, যেটি গ্রহটি তারার চারপাশে ঘুরে বেড়ানোর সময় ঘটে। এর ফলে দিনের দিক ও রাতের দিকের রাসায়নিক গঠন আলাদা আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করা সম্ভব হয়েছে।
“এই গবেষণাটি ওয়েব টেলিস্কোপের অসাধারণ ক্ষমতা দেখিয়ে দিয়েছে — এটি দূরবর্তী জগতের জটিল বায়ুমণ্ডলে একক অণু পর্যন্ত শনাক্ত করতে পারে। এটি ভবিষ্যতের এক্সোপ্ল্যানেট গবেষণার জন্য একটি উত্তেজনাপূর্ণ দিকনির্দেশনা,” বলেন ইউনিভার্সিটি অব বার্মিংহামের ড. অঞ্জলি পিয়েট।
এই আবিষ্কার শুধু অতি-উষ্ণ এক্সোপ্ল্যানেটগুলোর আচরণ বুঝতে সাহায্য করে না, বরং সৌরজগতের বাইরে ভিনগ্রহ অন্বেষণে পরবর্তী প্রজন্মের মহাকাশ দূরবীক্ষণের ক্ষমতাও প্রমাণ করে।
———
SiO and a super-stellar C/O ratio in the atmosphere of the giant exoplanet WASP-121 b. Nat Astron (2025).
DOI: 10.1038/s41550-025-02513-x
নিয়মিত আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের নিউজলেটারে এবং ফলো করুন আমাদের টেলিগ্রাম, ইনস্টাগ্রাম, টুইটার এবং ফেসবুক-এ। এছাড়াও যুক্ত হতে পারেন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে।

এই নিবন্ধটি Creative Commons Attribution-NoDerivatives 4.0 International License-এর অধীনে লাইসেন্সকৃত। পুনঃপ্রকাশের জন্য পুনঃপ্রকাশের নির্দেশিকা দেখুুন।


