ড. ক্লেটেটস্কা, একজন তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী, বাস্তবতা সম্পর্কে আমাদের প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এক বৈপ্লবিক তত্ত্ব উপস্থাপন করেছেন। তিনি প্রস্তাব করেছেন যে, সময় হতে পারে তিনটি স্বাধীন মাত্রায় বিভক্ত, ঠিক যেমনভাবে আমরা স্থানকে X, Y ও Z অক্ষে কল্পনা করি। তার মতে, সময়ই আসল ভিত্তি বা ক্যানভাস, আর স্থান হলো তাতে আঁকা রঙের মতো।
একটি নতুন গাণিতিক কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে ড. ক্লেটেটস্কা দাবি করেছেন, প্রচলিত পদার্থবিজ্ঞানে যেখানে একমাত্র সময় ও তিনটি স্থানীয় মাত্রা মিলিয়ে চার-মাত্রিক স্পেসটাইম তৈরি হয়, সেখানে আরও দুটি অতিরিক্ত সময়মাত্রা যোগ করা সম্ভব। এর ফলে, এক মুহূর্তেই একাধিক সম্ভাব্য ফলাফল একসঙ্গে বিদ্যমান থাকতে পারে — এবং এগুলোর মাঝে চলাচল করা যাবে সময়ের স্বাভাবিক ধারায় সামনে বা পেছনে না গিয়ে। এই তত্ত্বে, দ্বিতীয় সময়মাত্রা একটি ঘটনার বিকল্প শাখাগুলো দেখায়, আর তৃতীয় মাত্রা সেগুলোর মধ্যে স্থানান্তরকে নিয়ন্ত্রণ করে।
এরকম দাবি এই প্রথম নয়। তবে এই কাজটিকে ব্যতিক্রমী করে তোলে এর পরীক্ষণযোগ্যতার দাবি। পূর্ববর্তী তিন-মাত্রিক সময়তত্ত্বগুলো বেশিরভাগই কেবল গাণিতিক ধারণা ছিল, তবে ড. ক্লেটেটস্কার মতে, তার তত্ত্ব একটি বাস্তব পরীক্ষার আওতায় আনার পথ তৈরি করেছে। সময়ের জ্যামিতি যতই জটিল হোক না কেন, তার কাঠামো কারণ-ফলাফলের ধারাবাহিকতাকে অক্ষুণ্ণ রাখে — ফলে আগের তত্ত্বগুলোর মত বিভ্রান্তিকর বিপরীতধর্মী ফলাফল এড়ানো যায়।
যদি এই তত্ত্ব সত্যি প্রমাণিত হয়, তবে এটি পদার্থবিজ্ঞানের বহু পুরনো ধাঁধাগুলোর সমাধান দিতে পারে — যেমন কণার ভর কোথা থেকে আসে, বা কোয়ান্টাম বলবিদ্যা ও মহাকর্ষকে একত্রীকরণ। তার গাণিতিক মডেল ইলেকট্রন, মিউওন এবং কোয়ার্কের মতো কণার ভর নির্ভুলভাবে রিপ্রোডিউস করতে সক্ষম, যা ইঙ্গিত দেয় যে এই সময় কাঠামো একাধিক সমস্যার একটি অভিন্ন সমাধান দিতে পারে।
তবে, এই অতিরিক্ত সময়মাত্রাগুলো বাস্তবে কীভাবে প্রকাশ পায় — তা আরও গবেষণার প্রয়োজন। ধারণা করা হচ্ছে, এরা কেবলমাত্র মহাবিশ্বের আদিকালে বা উচ্চ-শক্তির কণাকণার সংঘর্ষে ধরা দিতে পারে। তবুও, সময়কে একটি সরল অগ্রগামী রেখা হিসেবে না দেখে একটি জটিল বহুমাত্রিক কাঠামো হিসেবে কল্পনা করার এই দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের নিয়ে যেতে পারে সেই বহু কাঙ্ক্ষিত “সবকিছুর তত্ত্ব”-এর দিকে — যা প্রকৃতির চারটি মৌলিক বলকে একীভূত করার চূড়ান্ত লক্ষ্য।
সম্পাদকের কথা: যদিও ক্লেটেটস্কার তিন-মাত্রিক সময় তত্ত্ব একটি মজার ও নতুন ধারণার ভিত্তি গড়ে দেয়, তবে এটি এখনো বৈজ্ঞানিক মহলে স্বীকৃতি পায়নি। এই তত্ত্ব এখনো পর্যালোচনার প্রাথমিক ধাপে রয়েছে এবং শীর্ষস্থানীয় পদার্থবিজ্ঞান জার্নালে প্রকাশিত হয়নি বা কোনো স্বাধীন পরীক্ষা কিংবা অন্য কোন পিয়ার দ্বারা পুনরায় যাচাইয়ের মধ্য দিয়ে যায়নি। যে জার্নালে এটি প্রকাশিত হয়েছে—Reports in Advances of Physical Sciences (World Scientific Publishing)—তা বৈধ হলেও, এত বড় দাবির জন্য যথেষ্ট নয়। এই জার্নালটি তুলনামূলকভাবে নিম্ন-প্রভাবসম্পন্ন ও নির্দিষ্ট পাঠকগোষ্ঠীর জন্য। এর মান Physical Review Letters বা Nature Physics-এর মতো উচ্চমানের জার্নালের তুলনায় অনেকটাই দুর্বল। একটি বৈপ্লবিক ধারণা স্বীকৃতি পেতে হলে তা অবশ্যই পদার্থবিজ্ঞানী সমাজের কঠোর সমালোচনামূলক মূল্যায়নের মুখোমুখি হতে হবে, মর্যাদাসম্পন্ন জার্নালে প্রকাশিত হতে হবে, এবং পরীক্ষণযোগ্য পূর্বাভাস দিতে হবে যেগুলো বিদ্যমান তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ—এবং এখন পর্যন্ত, এই তত্ত্ব সেই মানদণ্ডে পৌঁছাতে পারেনি।
———
Three-Dimensional Time: A Mathematical Framework for Fundamental Physics. Reports in Advances of Physical Sciences (2025)
DOI: 10.1142/S2424942425500045
নিয়মিত আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের নিউজলেটারে এবং ফলো করুন আমাদের টেলিগ্রাম, ইনস্টাগ্রাম, টুইটার এবং ফেসবুক-এ। এছাড়াও যুক্ত হতে পারেন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে।

এই নিবন্ধটি Creative Commons Attribution-NoDerivatives 4.0 International License-এর অধীনে লাইসেন্সকৃত। পুনঃপ্রকাশের জন্য পুনঃপ্রকাশের নির্দেশিকা দেখুুন।


