দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর চালু হওয়ার মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই ভেরা সি. রুবিন অবজারভেটরি মহাবিশ্বের ইতিহাস নতুনভাবে লিখতে শুরু করেছে। চিলির একটি পাহাড়ের চূড়ায় স্থাপিত এই মানমন্দিরের বিশাল ক্যামেরাটি এখনো আনুষ্ঠানিক বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা শুরু করেনি। তবুও, প্রথম পরীক্ষামূলক ছবিটি বিশ্লেষণ করেই জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা একটি চমকপ্রদ বিষয় আবিষ্কার করেছেন, একটি আলোয়ের লম্বা রেখা, যাকে “নাক্ষত্রিক স্রোত” (stellar stream) বলা হয়। এই স্রোতটি একটি সুপরিচিত গ্যালাক্সি থেকে বেরিয়ে এসেছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে অতীতে সেই গ্যালাক্সিটি একটি অনেক ছোট গ্যালাক্সিকে ছিঁড়ে ফেলেছিল।
“এটাই রুবিন থেকে শনাক্ত হওয়া প্রথম নাক্ষত্রিক স্রোত,” বলেন কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্পদার্থবিদ সারা পিয়ারসন। “এটা শুধু শুরু, এমন আরও অগণিত বৈশিষ্ট্য আমরা ভবিষ্যতে খুঁজে পাব।” গবেষণার ফলাফল Research Notes of the American Astronomical Society জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
এই গ্যালাক্সিটির নাম মেসিয়ে ৬১ (Messier 61), যা প্রথম আবিষ্কৃত হয় ১৭৭৯ সালে, ভার্গো ক্লাস্টারের গ্যালাক্সিগুলির মধ্যে। তখন থেকেই এটি জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আছে। এই গ্যালাক্সিতে বহু সুপারনোভা ঘটনা ঘটেছে এবং অস্বাভাবিক হারে নতুন নক্ষত্র তৈরি হচ্ছে। তাই একে “স্টারবার্স্ট গ্যালাক্সি” বলা হয়, কারণ এখানে নক্ষত্র সৃষ্টি অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে ঘটে।
গ্যালাক্সিটির গঠন বোঝার জন্য বিজ্ঞানীরা শক্তিশালী দূরবীক্ষণযন্ত্র ব্যবহার করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ এবং হাবল স্পেস টেলিস্কোপ। “এত গভীর গবেষণার পরও কেউ আগে এই নাক্ষত্রিক স্রোতটি খুঁজে পায়নি,” বলেন ক্যালিফোর্নিয়ার স্যান হোসে স্টেট ইউনিভার্সিটির জ্যোতির্বিজ্ঞানী এবং গবেষণাপত্রের লেখক অ্যারন রোমানোস্কি।
রুবিনের প্রথম ছবি (যা বিশ্বের সবচেয়ে বড় ডিজিটাল ক্যামেরা দিয়ে তোলা) পর্যালোচনা করার পর গবেষক দলটি অতিরিক্ত আলো ফিল্টার করে এই নাক্ষত্রিক স্রোতটি স্পষ্টভাবে দেখতে পায়। নক্ষত্রগুলোর এই লম্বা রেখাটি প্রায় ৫৫ কিলোপার্সেক বা ১,৮০,০০০ আলোকবর্ষ দীর্ঘ, যা এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত দীর্ঘ স্রোতগুলোর মধ্যে একটি। ধারণা করা হয়, এটি একটি বামন গ্যালাক্সি থেকে এসেছে, যেটিকে মেসিয়ে ৬১-এর শক্তিশালী মহাকর্ষ ছিঁড়ে ফেলেছে। এমন সংঘর্ষ মেসিয়ে ৬১-এ নক্ষত্র সৃষ্টির হার বাড়িয়ে দিতে পারে এবং গ্যালাক্সিটির কিছু অস্বাভাবিক বৈশিষ্ট্যের ব্যাখ্যা দিতে সাহায্য করতে পারে বলে গবেষকরা মনে করেন।
রুবিনের প্রথম ছবিতেই ধরা পড়েছে প্রায় এক কোটি (১০ মিলিয়ন) গ্যালাক্সি, এবং এটি কেবল ভবিষ্যৎ পর্যবেক্ষণের একটি ছোট “অ্যাপেটাইজার” মাত্র। আগামী দশ বছরে রুবিন অবজারভেটরি ২০ বিলিয়ন গ্যালাক্সির আলো সংগ্রহ করবে, যা এখন পর্যন্ত যেকোনো মানমন্দিরের চেয়ে বেশি।
“প্রত্যাশা করা হয় যে প্রতিটি গ্যালাক্সির চারপাশেই এমন নাক্ষত্রিক স্রোত থাকে। গ্যালাক্সি গঠনের একটি মৌলিক অংশ এটি,” বলেন রোমানোস্কি। “আমাদের শুধু আরও ক্ষীণ আলোয় দেখতে শিখতে হবে, আর রুবিনের মাধ্যমে সেটাই সম্ভব হবে বলে আমরা আশা করছি।”
——
A Stellar Stream around the Spiral Galaxy Messier 61 in Rubin First Look Imaging. Research Notes of the AAS (2025)
DOI: 10.3847/2515-5172/ae1829
নিয়মিত আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের নিউজলেটারে এবং ফলো করুন আমাদের টেলিগ্রাম, ইনস্টাগ্রাম, টুইটার এবং ফেসবুক-এ। এছাড়াও যুক্ত হতে পারেন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে।

এই নিবন্ধটি Creative Commons Attribution-NoDerivatives 4.0 International License-এর অধীনে লাইসেন্সকৃত। পুনঃপ্রকাশের জন্য পুনঃপ্রকাশের নির্দেশিকা দেখুুন।


