ক্যালোরি শব্দের দুটি সামান্য ভিন্ন অর্থ থাকতে পারে। তবে উভয় অর্থই শক্তির সাথে সম্পর্কিত। “বড়” ক্যালোরি (kcal) বিভিন্ন প্যাকেটজাত খাদ্যের পুষ্টি লেবেলে সচারাচর দেখতে পারি, একে অনেকে ‘কিলোক্যালোরি’ ও বলে। এই ক্যালোরি খাদ্য দ্বারা প্রদত্ত শক্তির পরিমাণ পরিমাপ করে। অন্যদিকে “ছোট” ক্যালোরি (cal) রসায়নে ব্যবহৃত হয়। এই ক্যালরি পানি গরম করার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তির একটি অনুমান প্রদানে ব্যবহৃত হয়।
১৯০০-এর প্রথম দশকের মাঝামাঝি সময়ের আগে, বিজ্ঞানীরা সমুদ্রপৃষ্ঠের বায়ুচাপে এক গ্রাম পানিকে এক ডিগ্রি সেলসিয়াস গরম করার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি হিসাবকে এক “ছোট” ক্যালোরিকে সংজ্ঞায়িত করেছিলেন। কিন্তু তারপর বিজ্ঞানীরা বুঝতে পেরেছিলেন যে পানির মূল তাপমাত্রার উপর নির্ভর করে এই পরিমাণ শক্তি পরিবর্তিত হয়। ফলে এখন একটি “ছোট” ক্যালোরিকে সহজভাবে ৪.২ জুল হিসাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়। এই জুল হল শক্তির আরেকটি একক। রসায়নবিদরা সাধারণত এই ক্যালোরি ব্যবহার করেন কোনো একটি নির্দিষ্ট পদার্থ পোড়ালে কতটা তাপ নির্গত হয় তা বর্ণনা করার সময়।
প্রতি ১ “বড়” ক্যালোরি ১,০০০ “ছোট” ক্যালোরির সমান। আমরা খাদ্য লেবেলে “বড়” ক্যালোরি দেখতে পাই। এক বোতল মোজো, পেপসি বা কোকাকোলার কথা চিন্তা করুন। সেখানকার পুষ্টির লেবেল আপনি “প্রতি পরিবেশন ২৫০ ক্যালোরি” বা “250 calories per serving” লেখা দেখতে পাবেন। এই সংখ্যাটি দিয়ে অনুমান করা যায় যে সেই কোমল পানীয় খাওয়া থেকে আমাদের শরীর কতটা শক্তি পাবে। প্রতিটি পরিবেশন একজন ব্যক্তির শরীরকে প্রায় ২৫০ “বড়” ক্যালোরি দেয় – প্রায় ২৫০,০০০ “ছোট” ক্যালোরির সমান।
বেশিরভাগ খাদ্য উৎপাদন কোম্পানি সাধারণত খাবারে কত প্রোটিন, চর্বি এবং কার্বোহাইড্রেট রয়েছে তার দ্বারা খাবারের ক্যালোরি নির্ধারণ করে। উদাহরণস্বরূপ, প্রতি গ্রাম চর্বি একজন ব্যক্তির শরীরকে প্রায় ৯ ক্যালোরি দেয় বলে মনে করা হয়। প্রতি গ্রাম কার্বোহাইড্রেট এবং প্রোটিন প্রায় ৪ ক্যালোরি দেয় বলে মনে করা হয়।
আমাদের খাবার রান্না করার পদ্ধতির ওপরও সেই খাবার থেকে আমরা কতটা শক্তি পেতে পারি তার পরিবর্তন হতে পারে। ২০১১ সালে প্রকাশিত এক গবেষণা পত্রে দেখা গেছে মাংস এবং মিষ্টি আলু রান্নার সময় তাপ প্রয়োগের ওপর এর মধ্যে ক্যালরির তারতম্য ঘটেছে। তাই খাদ্য লেবেলে থাকা ক্যালোরি শুধুমাত্র একটি অনুমান সম্পূর্ণ নির্ভুল না।
মানুষের শরীরকে সুস্থ রাখতেও বিভিন্ন পরিমাণ ক্যালোরির প্রয়োজন হয়। একজন ১২ বছর বয়সী মানুষের সারাদিন চলতে প্রায় ১,৮০০ থেকে ২,২০০ ক্যালোরি (kcal)-র প্রয়োজন হতে পারে। কিছু প্রাণীর আবার অনেক বেশি শক্তি প্রয়োজন। যেমন একটি নীল তিমি দৈনিক ১ কোটি থেকে ২ কোটি ক্যালোরি প্রয়োজন পড়ে!
মজার ব্যাপার হলো রক্তে ক্যালোরি কম থাকায় ভ্যাম্পায়ার বাদুড়কে বেঁচে থাকার জন্য তাদের শরীরের ওজনের ১.৪ গুণ পর্যন্ত রক্ত পান করতে হয়।
———
বিজ্ঞান কথা-র সম্পূর্ণ তালিকা দেখুন
নিয়মিত আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের নিউজলেটারে এবং ফলো করুন আমাদের টেলিগ্রাম, ইনস্টাগ্রাম, টুইটার এবং ফেসবুক-এ। এছাড়াও যুক্ত হতে পারেন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে।

এই নিবন্ধটি Creative Commons Attribution-NoDerivatives 4.0 International License-এর অধীনে লাইসেন্সকৃত। পুনঃপ্রকাশের জন্য পুনঃপ্রকাশের নির্দেশিকা দেখুুন।


