দশকের পর দশক ধরে ব্যর্থ প্রচেষ্টার পর, বিজ্ঞানীরা অবশেষে প্রাণী কোষকে সালোকসংশ্লেষণের যোগ্য করতে তুলতে সফল হয়েছেন। এখন পর্যন্ত গবেষকরা শুধুমাত্র ল্যাবে তৈরি কোষে এই কৃতিত্ব অর্জন করতে পেরেছেন — যার মানে হলো সূর্যালোক গ্রহণকারী স্তন্যপায়ী প্রাণী তৈরির ক্ষেত্রে আমাদের সামনে এখনো অনেক পথ বাকি। তবে এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে চিকিৎসা ক্ষেত্রে বা ল্যাবে তৈরি মাংস উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত হতে পারে। টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাচিহিরো মাতসুনাগার নেতৃত্বে এই সাফল্য অর্জিত হয়েছে। এ বিষয়ের গবেষণাটি Proceedings of the Japan Academy, Series B জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
বেশিরভাগ উদ্ভিদ (এবং শৈবাল) সূর্যালোকের শক্তিকে কাজে লাগাতে ক্লোরোপ্লাস্ট ব্যবহার করে। তারা এই শক্তিকে পানি এবং কার্বন ডাই অক্সাইডের সাথে মিশিয়ে তাদের বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় কার্বোহাইড্রেট তৈরি করে এবং অক্সিজেনকে উপজাত হিসেবে পরিবেশে মুক্ত করে। বছরের পর বছর ধরে, বিজ্ঞানীরা এমন সালোকসংশ্লেষণ-ক্ষমতাসম্পন্ন গবাদি পশু তৈরির স্বপ্ন দেখেছেন, যা মূলত নিজে থেকেই খাদ্য গ্রহণ করতে পারবে।
তবে, সমস্যাটি হলো প্রাণীদের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা ক্লোরোপ্লাস্টকে তাদের কোষে প্রবেশ করার মুহূর্তেই ধ্বংস করে ফেলে। এজন্য আগে কেউই প্রাণী কোষে ক্লোরোপ্লাস্টকে স্থায়ীভাবে রাখাতে পারেনি। এমনকি এই ক্লোরোপ্লাস্ট যদি কোনোভাবে সেই আক্রমণ থেকে বেঁচেও যায়, তারা প্রাণী কোষের তুলনামূলক উষ্ণ (প্রায় ৩৭° সেলসিয়াস) পরিবেশে কাজ করতে পারে না।
ক্রেডিট: R. Aoki, Y. Inui, Y. Okabe et al./ Proceedings of the Japan Academy, Series B
এই সমস্যাগুলো এড়াতে, গবেষকরা একধরনের প্রিমেটিভ লাল শৈবাল প্রজাতির Cyanidioschyzon merolae (সংক্ষেপে স্কাইজন) থেকে ক্লোরোপ্লাস্ট নিয়েছেন। এই শৈবালগুলি ইতালির আগ্নেয়গিরির উষ্ণ প্রস্রবণে জন্মায় এবং ৩৭° সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রাতেও সালোকসংশ্লেষণ করতে সক্ষম। এই স্কাইজন ক্লোরোপ্লাস্টকে প্রাণী কোষে জোরপূর্বক প্রবেশ করানোর পরিবর্তে, গবেষকরা এগুলোকে কালচার করে চাইনিজ হ্যামস্টারের ডিম্বাশয়ে যোগ করেন।
গবেষকরা জানান, দুই দিনের এই কো-কাল্টিভেটের পর, এক শতাংশ কোষ “ক্লোরোপ্লাস্ট সমৃদ্ধ” হয়ে ওঠে, যার অর্থ তারা সাত বা তার বেশি ক্লোরোপ্লাস্ট ধারণ করেছে। আরও ২০ শতাংশ কোষের মধ্যে এক থেকে তিনটি ক্লোরোপ্লাস্ট পাওয়া গেছে।
গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো, এই ক্লোরোপ্লাস্টগুলো আরও দুই দিন অ্যাকটিভিটি শো করে, যার মধ্যে তাদের হোস্ট কোষগুলোতে দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এটি নির্দেশ করে যে সত্যিই সালোকসংশ্লেষণ ঘটছে, যেখানে ক্লোরোপ্লাস্ট সম্ভবত একটি কার্বন উৎস হিসেবে কাজ করছে।
এই সফলতা সত্ত্বেও, দেখা গেছে যে ক্লোরোপ্লাস্টগুলো দুই দিন পর ক্ষয় হতে শুরু করে এবং চতুর্থ দিনে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। অতএব, এই প্রযুক্তি উন্নত করার জন্য আরও কাজ প্রয়োজন।
তাই ভবিষ্যতে সালোকসংশ্লেষণ-ক্ষমতাসম্পন্ন গবাদি পশু খামারে দেখা না গেলেও, প্ল্যানিমাল কোষ খাদ্য উৎপাদন এবং চিকিৎসা ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
———
Incorporation of photosynthetically active algal chloroplasts in cultured mammalian cells towards photosynthesis in animals, Proceedings of the Japan Academy, Series B, Physical and Biological Sciences (2024).
DOI: 10.2183/pjab.100.035.
নিয়মিত আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের নিউজলেটারে এবং ফলো করুন আমাদের টেলিগ্রাম, ইনস্টাগ্রাম, টুইটার এবং ফেসবুক-এ। এছাড়াও যুক্ত হতে পারেন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে।

এই নিবন্ধটি Creative Commons Attribution-NoDerivatives 4.0 International License-এর অধীনে লাইসেন্সকৃত। পুনঃপ্রকাশের জন্য পুনঃপ্রকাশের নির্দেশিকা দেখুুন।




তাহলে তো কোনো লাভ হলো না।