আধুনিক মানুষ অন্তত দুটি পূর্বপুরুষ জনগোষ্ঠী থেকে বিবর্তিত হতে পারে, যারা প্রায় ১৫ লাখ বছর আগে পৃথক হয়ে গিয়েছিল এবং পরে প্রায় ৩ লাখ বছর আগে আবার একত্রিত হয়েছিল। পূর্বে ধারণা করা হতো যে হোমো সাপিয়েন্স (Homo sapiens) একটি একক বংশধারার মাধ্যমে এসেছে, যেখানে প্রায় ৫০ হাজার বছর আগে নিয়ানডারথাল ও ডেনিসোভানদের সঙ্গে কিছুটা জেনেটিক মিশ্রণ ঘটেছিল। তবে, নেচার জেনেটিক্স জার্নালে প্রকাশিত নতুন গবেষণা আরও জটিল বিবর্তনীয় ইতিহাসের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে অনেক আগেই উল্লেখযোগ্য জেনেটিক মিশ্রণ ঘটেছে বলে প্রমাণ মিলছে।
ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক্স বিভাগের গবেষক রিচার্ড ডারবিনের নেতৃত্বে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, দুটি জনগোষ্ঠী প্রায় ১০ লাখ বছর ধরে পৃথকভাবে বিবর্তিত হওয়ার পর আবার একত্রিত হয়েছিল এবং তাদের মধ্যে আবার জিন আদান-প্রদান হয়েছিল। গবেষকরা একটি অ্যালগরিদম তৈরি করেন, যা জনগোষ্ঠীর বিবর্তনীয় বিভাজনকে মডেল করতে পারে। তারপর তারা এটাকে ১০০০ জিনোম প্রজেক্ট (1000 Genomes Project) এর ডেটার ওপর পরীক্ষা করেন। এবং তাদের বিশ্লেষণে দুটি পূর্বপুরুষ জনগোষ্ঠীর অস্তিত্বের প্রমাণ মেলে।
ক্যামব্রিজের আইলউইন স্ক্যালি বলেন, আধুনিক ডিএনএ বিশ্লেষণ থেকে অতীতের এই ঘটনা পুনর্গঠন করার সক্ষমতা আমাদের মানব ইতিহাসের জটিলতাকে তুলে ধরে। গবেষণায় আরও প্রকাশ পায় যে, এই দুটি জনগোষ্ঠীর মধ্যে একটি শুরুতে কঠিন সংকটে পড়ে এবং তাদের সংখ্যা ভয়াবহভাবে কমে যায়। তবে, পরবর্তী প্রায় ১০ লাখ বছরে তারা ধীরে ধীরে সংখ্যায় বৃদ্ধি পায়। এই জনগোষ্ঠী পরবর্তীতে নিয়ানডারথাল ও ডেনিসোভানদের পূর্বপুরুষ হয় এবং আধুনিক মানবজাতির জিনের প্রায় ৮০% এই দল থেকে এসেছে। অন্যদিকে, দ্বিতীয় জনগোষ্ঠী আধুনিক মানুষের জিনের প্রায় ২০% সরবরাহ করেছে।
অ্যাডিলেড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইয়াসিন সৌলমি জানান, এই গবেষণার ফলাফল জীবাশ্ম তথ্য ও অন্যান্য জেনেটিক বিশ্লেষণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে, তিনি সতর্ক করেন যে, এই মডেল এখনও মানব বিবর্তনের পূর্ণ জটিলতাকে তুলে ধরতে সক্ষম নাও হতে পারে। রোমের সাপিয়েনজা বিশ্ববিদ্যালয়ের জর্জিও মানজি জোর দেন যে, এই ধরনের জেনেটিক গবেষণাকে অবশ্যই জীবাশ্ম ও প্রত্ন-নৃতাত্ত্বিক (প্যালিওঅ্যান্থ্রোপোলজিক্যাল) তথ্যের সঙ্গে সমন্বিত করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রায় ২.৫ লাখ বছর আগে পূর্ব আফ্রিকায় গোলাকার আকৃতির মাথার খুলির বিকাশ মানব বিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ছিল।
তবে, এই দুটি পূর্বপুরুষ জনগোষ্ঠীর প্রকৃত পরিচয় এখনও অনিশ্চিত। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে হোমো ইরেকটাস (Homo erectus) এবং হোমো হাইডেলবার্গেনসিস (Homo heidelbergensis) অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে, তবে এই সংযোগ নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। ক্যামব্রিজের গবেষণা দল তাদের তৈরি অ্যালগরিদমটি গরিলা, শিম্পাঞ্জি, ডলফিন ও বাদুড়ের জিনগত ডেটার ওপরও পরীক্ষা করেছে। এতে দেখা গেছে যে, প্রজাতির বিবর্তন সাধারণত সরলরৈখিক (লিনিয়ার) পথে ঘটে না। ক্যামব্রিজের ট্রেভর কাউসিন্স বলেন, আন্তঃপ্রজনন ও জিনগত আদান-প্রদান প্রাণিজগতের বিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
–––
A structured coalescent model reveals deep ancestral structure shared by all modern humans, Nature Genetics (2025).
DOI: 10.1038/s41588-025-02117-1
নিয়মিত আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের নিউজলেটারে এবং ফলো করুন আমাদের টেলিগ্রাম, ইনস্টাগ্রাম, টুইটার এবং ফেসবুক-এ। এছাড়াও যুক্ত হতে পারেন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে।

এই নিবন্ধটি Creative Commons Attribution-NoDerivatives 4.0 International License-এর অধীনে লাইসেন্সকৃত। পুনঃপ্রকাশের জন্য পুনঃপ্রকাশের নির্দেশিকা দেখুুন।


