ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা মেক্সিকান বিজ্ঞানীদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে মেক্সিকোর ইউকাটান উপদ্বীপের উপকূলে অবস্থিত কোজুমেল দ্বীপ এবং বানকো চিনচোরো এটলে দুটি নতুন কুমির প্রজাতির সন্ধান পেয়েছেন। তাদের গবেষণার ফলাফল সম্প্রতি Molecular Phylogenetics and Evolution জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে, যা আমেরিকান কুমির (Crocodylus acutus) নিয়ে বহুদিনের প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছে এবং সংরক্ষণের জরুরি প্রয়োজনীয়তার ওপর নতুন করে আলোকপাত করেছে।
প্রায় ৫০ লক্ষ বছর আগে আফ্রিকা থেকে কুমিররা প্রথম নিওট্রপিক অঞ্চলে প্রবেশ করে এবং সময়ের সাথে সাথে বিবর্তিত হয়ে আজকের বিদ্যমান (নিওট্রপিক অঞ্চলে) চারটি প্রজাতিতে রূপ নিয়েছে (Crocodylus acutus, Crocodylus moreletii, Crocodylus intermedius, Crocodylus rhombifer)। আমেরিকান কুমির তার বিস্তৃত আবাসস্থলের জন্য পরিচিত — এটি হাইপারসলাইন উপকূলীয় অঞ্চল থেকে শুরু করে মিঠা পানির এলাকাতেও বাস করে, ক্যারিবিয়ান ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় নিওট্রপিক অঞ্চলে। কিছু অঞ্চলে এটি অন্য তিনটি কুমির প্রজাতির সঙ্গে সহাবস্থানও করে। বর্তমানে, আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘ (IUCN) আমেরিকান কুমির (Crocodylus acutus)-কে “ঝুঁকিপূর্ণ” তালিকাভুক্ত করেছে, যেখানে এর সাথে সম্পর্কিত দুইটি প্রজাতি “গভীরভাবে বিপন্ন” হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ হয়েছে।
ড. হান্স লারসনের নেতৃত্বে ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান গবেষকদল নির্জন ক্যারিবিয়ান দ্বীপগুলিতে কুমিরের প্রকৃত বৈচিত্র্য অন্বেষণের উদ্যোগ নেয়। তারা কোজুমেল ও বানকো চিনচোরোর কুমিরদের জিনগত উপাদান বিশ্লেষণ করে এবং ক্যারিবিয়ান, মধ্য আমেরিকা ও মেক্সিকোর প্রশান্ত উপকূলের অন্যান্য কুমিরদের সঙ্গে তুলনা করে দেখতে পান, এসব দ্বীপের কুমিরদের মধ্যে জিনগতভাবে অত্যন্ত উচ্চমাত্রার পার্থক্য রয়েছে। এই প্রমাণ থেকে তারা সিদ্ধান্তে পৌঁছান, এগুলি শুধুমাত্র আমেরিকান কুমিরের আঞ্চলিক বৈচিত্র্য নয়, বরং সম্পূর্ণ নতুন দুটি আলাদা প্রজাতি। তবে, এখনো এদের আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নাম দেওয়া হয়নি।
গবেষকরা শারীরিক গঠনেরও বিশ্লেষণ করেছেন, যা এই অঞ্চলের কুমির জনগোষ্ঠীর জিনগত ও শারীরিক উভয় বৈচিত্র্যের ওপর প্রথম বিস্তৃত গবেষণা। তাদের কাজ ইঙ্গিত দেয়, ক্যারিবিয়ানে কুমিরের জীববৈচিত্র্য দীর্ঘদিন ধরেই অবমূল্যায়িত হয়েছে।
নতুন আবিষ্কৃত উভয় প্রজাতির আবাসস্থল অত্যন্ত সীমিত এবং প্রতিটির প্রজননক্ষম সদস্যের সংখ্যা এক হাজারেরও কম। যদিও বর্তমান জনসংখ্যা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল। তবে তাদের ছোট পরিসর এবং সীমিত সংখ্যার কারণে তারা পরিবেশগত হুমকির প্রতি খুবই বেশি সংবেদনশীল, বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলের দ্রুত উন্নয়নের কারণে তাদের আবাসস্থল ধ্বংসের ঝুঁকি রয়েছে।
গবেষকদলের মতে, বৈশ্বিকভাবে জীববৈচিত্র্যের দ্রুত বিলুপ্তি বিজ্ঞানীদের আবিষ্কারের গতি ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এই নতুন কুমির প্রজাতিগুলোকে স্বীকৃতি দেওয়া তাদের রক্ষার জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ। কোজুমেল ও বানকো চিনচোরো দ্বীপে ভূমি উন্নয়ন সীমিত করা এবং প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংরক্ষণে উদ্যোগ নেওয়া এই বিরল সরীসৃপদের বাঁচিয়ে রাখার জন্য অত্যাবশ্যক।
———
Novel island species elucidate a species complex of Neotropical crocodiles, Molecular Phylogenetics and Evolution (2025).
DOI: 10.1016/j.ympev.2025.108341
নিয়মিত আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের নিউজলেটারে এবং ফলো করুন আমাদের টেলিগ্রাম, ইনস্টাগ্রাম, টুইটার এবং ফেসবুক-এ। এছাড়াও যুক্ত হতে পারেন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে।

এই নিবন্ধটি Creative Commons Attribution-NoDerivatives 4.0 International License-এর অধীনে লাইসেন্সকৃত। পুনঃপ্রকাশের জন্য পুনঃপ্রকাশের নির্দেশিকা দেখুুন।


