আমরা প্রায়ই শুনে থাকি যে, মঙ্গলের পৃষ্ঠের চেয়ে পৃথিবীর সমুদ্রের তলদেশ সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান কম। এবার এই দাবির পরিমাণ নির্ধারণ করেছেন সমুদ্রবিজ্ঞানী ক্যাথরিন বেল ও তাঁর সহকর্মীরা। তাঁদের গবেষণা অনুযায়ী, গভীর সমুদ্রের তলদেশের যে অংশ বিজ্ঞানীরা সরাসরি দেখেছেন, তা মোট এলাকার মাত্র ০.০০১ শতাংশেরও কম — যা আয়তনে বেলজিয়ামের এক দশমাংশের সমান। এই গবেষণাটি ৭ মে, ২০২৫ এ Science Advances জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষণা দলটি প্রায় ৪৪,০০০টি গভীর সমুদ্র ডাইভের তথ্য সংগ্রহ করেছে, যেগুলো চালানো হয়েছিল মানুষচালিত যান কিংবা রিমোট-কন্ট্রোল বা স্বয়ংক্রিয় যান ব্যবহার করে। এসব তথ্য দিয়ে তাঁরা ডাইভ কার্যক্রমের একটি মানচিত্র তৈরি করেন। দেখা যায়, ডাইভগুলোর বেশিরভাগই হয়েছে কিছু নির্দিষ্ট দেশের জলসীমায় — বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও নিউজিল্যান্ডের কাছাকাছি। এছাড়াও, এই ডাইভগুলোর অনেক তথ্যই ব্যক্তিমালিকানাধীন কোম্পানির কাছে রয়ে গেছে, যা গবেষকদের জন্য অপ্রাপ্য। ফলে সমুদ্রের বিশাল অংশ এখনও শুধু সোনার (Soner) ব্যবহার করে প্রাথমিক মানচিত্র তৈরি করা হয়েছে — যা খসড়া বটে। বেল বলেন, “ভারত মহাসাগর হলো সবচেয়ে কম অনুসন্ধান করা অঞ্চলের একটি।”
ক্রেডিট: Ocean Discovery League
ক্যাথরিন বেল হচ্ছেন রোড আইল্যান্ডের সন্ডার্সটাউনের Ocean Discovery League-এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক। এটি একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, যারা সাশ্রয়ী রিমোট চালিত যান তৈরিতে সহায়তা করছে এবং সমুদ্রের গভীর তলদেশে অনুসন্ধানের জন্য ১০,০০০ সম্ভাব্য ডাইভ স্থানের তালিকা তৈরি করছে, যেন এর মাধ্যমে অনাবিষ্কৃত গভীর সমুদ্রের একটি প্রতিনিধিত্বমূলক অংশ অনুসন্ধান করা যায়।
———
How little we’ve seen: A visual coverage estimate of the deep seafloor. Sci. Adv. (2025).
DOI: 10.1126/sciadv.adp8602
নিয়মিত আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের নিউজলেটারে এবং ফলো করুন আমাদের টেলিগ্রাম, ইনস্টাগ্রাম, টুইটার এবং ফেসবুক-এ। এছাড়াও যুক্ত হতে পারেন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে।

এই নিবন্ধটি Creative Commons Attribution-NoDerivatives 4.0 International License-এর অধীনে লাইসেন্সকৃত। পুনঃপ্রকাশের জন্য পুনঃপ্রকাশের নির্দেশিকা দেখুুন।



