বিজ্ঞানীরা মস্তিষ্কের এমন একদল নিউরন শনাক্ত করেছেন, যারা হয়তো ব্যাখ্যা করতে পারে কীভাবে মানসিক চাপ বা স্ট্রেস ঘুম এবং স্মৃতির সমস্যার জন্ম দেয়।
২০২৫ সালের ৯ জুন The Journal of Neuroscience-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস নামের একটি নির্দিষ্ট অংশে থাকা নিউরনগুলো স্ট্রেসের প্রভাবে ঘুম এবং স্মৃতির ওপর কীভাবে প্রভাব পড়ে, সেই কাজটি পরিচালনা করে। গবেষকরা বলছেন, এই আবিষ্কার ভবিষ্যতে স্ট্রেসজনিত কারণে হওয়া ঘুমের সমস্যার চিকিৎসায় নতুন পথ দেখাতে পারে।
এর আগে জানা গিয়েছিল, হাইপোথ্যালামাসের ভেতরে প্যারাভেন্ট্রিকুলার নিউক্লিয়াস নামের একটি গঠন রয়েছে, যেখানকার নিউরনগুলো ঘুম এবং স্মৃতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য মস্তিষ্কের অংশের সাথে যোগাযোগ করে। এই নিউরনগুলো “কর্টিকোট্রপিন” নামের একটি হরমোন নিঃসরণ করে এবং স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। কিন্তু এতদিন এই নিউরনগুলো কীভাবে স্ট্রেসের মাধ্যমে ঘুম ও স্মৃতিতে প্রভাব ফেলে, তা অস্পষ্ট ছিল।
ঘুম হারানো সেই রাত্রি
গবেষকরা এই রহস্যের সমাধান খুঁজতে ল্যাবরেটরির ইঁদুরদের তাদেরকে প্লাস্টিকের টিউবে আটকে রাখার মাধ্যমে স্ট্রেসের মধ্যে ফেলে দেন। পরে তাদের ঘুম এবং স্থানভিত্তিক স্মৃতি (spatial memory) পরীক্ষা করা হয়।
প্রতীক্ষিতভাবেই দেখা যায়, স্ট্রেসপ্রাপ্ত ইঁদুরদের ঘুমের সমস্যা হয় এবং পরদিন স্মৃতিশক্তি পরীক্ষায় তারা খারাপ করে। পরবর্তীতে যখন প্যারাভেন্ট্রিকুলার নিউক্লিয়াসের নিউরনগুলোকে কৃত্রিমভাবে উদ্দীপ্ত করা হয়, তখনও একই সমস্যা দেখা যায়। আবার যখন এই নিউরনগুলোকে ব্লক করে দেওয়া হয়, তখন ইঁদুরদের ঘুম কিছুটা উন্নত হয় এবং স্মৃতিশক্তি আরও ভালোভাবে কাজ করে।
গবেষকদের ধারণা, স্ট্রেসের সময়ে এই নিউরনগুলো ঘুম এবং স্মৃতির ওপর ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতিতে প্রভাব ফেলে।
স্ট্রেসজনিত মানসিক রোগ যেমন পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডার (PTSD) বা বড় ধরনের ডিপ্রেশন—এই রোগগুলোর প্রাথমিক লক্ষণই ঘুম ও স্মৃতির সমস্যা। গবেষকরা বলছেন, যদি এই প্যারাভেন্ট্রিকুলার নিউক্লিয়াসের নিউরনগুলোকে টার্গেট করে চিকিৎসা করা যায়, তাহলে এসব রোগের অগ্রগতি ধীর করা সম্ভব হতে পারে।
———
Role of hypothalamic CRH neurons in regulating the impact of stress on memory and sleep, Journal of Neuroscience (2025).
DOI: 10.1523/JNEUROSCI.2146-24.2025
নিয়মিত আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের নিউজলেটারে এবং ফলো করুন আমাদের টেলিগ্রাম, ইনস্টাগ্রাম, টুইটার এবং ফেসবুক-এ। এছাড়াও যুক্ত হতে পারেন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে।

এই নিবন্ধটি Creative Commons Attribution-NoDerivatives 4.0 International License-এর অধীনে লাইসেন্সকৃত। পুনঃপ্রকাশের জন্য পুনঃপ্রকাশের নির্দেশিকা দেখুুন।


