চিলির আন্দিজ পর্বতমালার সেরো পাচন পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত ভেরা সি. রুবিন অবজারভেটরি সম্প্রতি তাদের ৩২০০ মেগাপিক্সেলের ডিজিটাল ক্যামেরার (বিশ্বের সবচেয়ে বড়) প্রথম ছবি প্রকাশ করেছে, যা দেখে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা অভিভূত। গত মাসে (এপ্রিল ২০২৫) টেলিস্কোপটির নির্মাণকাজ শেষে এই ক্যামেরা দিয়ে একটি পরীক্ষামূলক পর্যবেক্ষণের সময় এই ছবি তোলা হয়।
এই পর্যবেক্ষণাগারটির নামকরণ করা হয়েছে মার্কিন জ্যোতির্বিজ্ঞানী ভেরা সি. রুবিন-এর নামে, যিনি মহাবিশ্বে বিপুল পরিমাণ ডার্ক ম্যাটার থাকার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ দিয়েছিলেন।
একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে ট্রিফিড নেবুলা ও লাগুন নেবুলা, মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির এমন একটি অংশে যা আয়নিত হাইড্রোজেন ও নবগঠিত বা গঠনের প্রক্রিয়াধীন নক্ষত্রে পরিপূর্ণ। এই ছবিটি তৈরি হয়েছে ৬৭৮টি আলাদা এক্সপোজার থেকে, যা তোলা হয়েছে পর্যবেক্ষণাগারের সিমোনি সার্ভে টেলিস্কোপ দিয়ে মাত্র সাড়ে সাত ঘণ্টায়। প্রতিটি ছবি চারটি আলাদা রঙের ফিল্টার দিয়ে তোলা হয়, যার ফলে চূড়ান্ত ছবিটি এত প্রাণবন্ত রঙে ফুটে উঠেছে।
৮১০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই পর্যবেক্ষণাগারের দৃষ্টিসীমা অত্যন্ত বিস্তৃত। এটি প্রতি ৩-৪ রাতেই পুরো দক্ষিণ আকাশ স্ক্যান করতে সক্ষম। যেখানে হাবল এবং জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ নির্দিষ্ট আকাশের ক্ষুদ্র অংশ পর্যবেক্ষণ করে (যদিও তারা সূক্ষ্মভাবে পর্যবেক্ষণ করে)।
অবজারভেটরি নির্মাণের ডেপুটি ডিরেক্টর সানড্রিন টমাস জানিয়েছেন, প্রথম প্রকাশিত এই ছবিগুলো মূলত অ্যাস্থেটিক ইমপ্যাক্ট তৈরি করতে ও পর্যবেক্ষণাগারের ক্যামেরার ক্ষমতা প্রদর্শনের জন্য তৈরি। এটি আসল গবেষণা-উপযোগী ‘ডেটা প্রোডাক্ট’ নয় । তবে এই ছবিগুলোই স্মরণ করিয়ে দেয় কেন মানুষ জ্যোতির্বিজ্ঞানে আগ্রহী হয়।
Introducing…your sneak peek at the cosmos captured by @NSF–@doescience Vera C. Rubin Observatory!
Can you guess what regions of sky they are?
This is just a peek…join us at 11am US EDT for your full First Look at how Rubin will #CaptureTheCosmos!https://t.co/1a74X2edp8 pic.twitter.com/DE3tx2RQI4
— NSF-DOE Rubin Observatory (@VRubinObs) June 23, 2025
এই টেলিস্কোপের ধারণাটি ১৯৯০-এর দশকে দিয়েছিলেন ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটি, ডেভিস-এর জ্যোতির্বিজ্ঞানী টনি টাইসন। তিনি বলেন, “টেলিস্কোপটি যেমন কাজ করার কথা ছিল, ঠিক তেমনই করেছে। কিন্তু চোখে দেখা একেবারেই ভিন্ন অনুভূতি — আমি মুগ্ধ এবং গর্বিত, শত শত প্রকৌশলী ও বিজ্ঞানীর অবদানে এই অসাধারণ সাফল্য এসেছে।”
২০২৫ সালের শেষের দিকে, রুবিন অবজারভেটরি তার মূল মিশন শুরু করবে যার নাম লিগেসি সার্ভে অব স্পেস অ্যান্ড টাইম (LSST)। এই মিশনে পরবর্তী ১০ বছর ধরে প্রতি রাতেই আকাশ স্ক্যান করা হবে নিরবচ্ছিন্নভাবে, যেন মহাবিশ্বের দৃশ্যমান প্রতিটি পরিবর্তন নিখুঁতভাবে ধরা যায়। এর ফলে তৈরি হবে এক অতি-বিস্তৃত ও আল্ট্রা-হাই-ডেফিনিশন টাইম-ল্যাপ্স আকারে মহাবিশ্বের এক আশ্চর্য দলিল। এ যেন হবে জীবন্ত এক মহাজাগতিক চিত্রপট।
এই ছবিগুলো আমাদের দেখাবে গ্রহাণু, ধূমকেতু, পালসার, সুপারনোভার বিস্ফোরণ, দূরবর্তী ছায়াপথ — এমনকি এমন মহাজাগতিক ঘটনা যেগুলোর অস্তিত্ব হয়তো কেউ আগে কখনও দেখেইনি।
রুবিন অবজারভেটরি হবে এযাবৎকালের মধ্যে সবচেয়ে দক্ষ এবং কার্যকর সৌরজগত আবিষ্কার যন্ত্র।
এটি গ্রহরক্ষা (planetary defense)-এর ক্ষেত্রেও এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে, কারণ এটি অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি সংখ্যক গ্রহাণু শনাক্ত করতে পারবে।
ইউনিভার্সিটি অব এডিনবার্গ-এর জ্যোতির্বিজ্ঞানী এবং স্কটল্যান্ডের রয়্যাল অ্যাস্ট্রোনোমার ক্যাথেরিন হেমন্স বলেন, “আমরা যেন দীর্ঘদিন ধরে এই মুহূর্তটির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম — আমাদের ১০ বছরের মিশন অবশেষে শুরু হতে চলেছে।”
নিয়মিত আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের নিউজলেটারে এবং ফলো করুন আমাদের টেলিগ্রাম, ইনস্টাগ্রাম, টুইটার এবং ফেসবুক-এ। এছাড়াও যুক্ত হতে পারেন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে।

এই নিবন্ধটি Creative Commons Attribution-NoDerivatives 4.0 International License-এর অধীনে লাইসেন্সকৃত। পুনঃপ্রকাশের জন্য পুনঃপ্রকাশের নির্দেশিকা দেখুুন।


