একটি বড় পরিসরের গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব পরিবারের সব সন্তান একই লিঙ্গের (শুধু ছেলে বা শুধু মেয়ে), তাদের পরবর্তী সন্তানও সেই একই লিঙ্গের হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। অর্থাৎ, যদি কারো তিনটি ছেলে থাকে, তাহলে চতুর্থ সন্তানও ছেলে হওয়ার সম্ভাবনা ৬১%, আর যদি তিনটি মেয়ে থাকে, তাহলে পরবর্তী সন্তান মেয়ে হওয়ার সম্ভাবনা ৫৮%।
এই ফলাফল আমাদের প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করছে, যেখানে আমরা ভাবি প্রতিটি গর্ভধারণে ছেলে ও মেয়ে হওয়ার সমান ৫০:৫০ সম্ভাবনা থাকে। গবেষক ও স্ত্রীরোগবিশেষজ্ঞ অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালেক্স পলিয়াকভ বলেন, এই নতুন তথ্য অনুযায়ী, দম্পতিদের জানাতে হবে যে তারা যে লিঙ্গের সন্তান এখনো পায়নি, সেই লিঙ্গের সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা প্রকৃতপক্ষে ৫০ শতাংশেরও কম।
যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা ১৯৫৬ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ৫৮,০০৭ জন মার্কিন নারী নার্সের সন্তানদের তথ্য বিশ্লেষণ করেন। এতে দেখা যায়, দুই সন্তানের পরিবারে ছেলে-মেয়ের মিশ্রণই বেশি দেখা যায়, কিন্তু তিন বা তার বেশি সন্তানের পরিবারে একই লিঙ্গের সন্তানই বেশি হয়। গবেষণায় শেষ সন্তানকে বাদ দেওয়া হয়েছে যাতে বাবা-মার সচেতন সন্তান নির্বাচন (যেমন ছেলে-মেয়ে দুটিই পেয়ে গেছেন বলে সন্তান নেওয়া বন্ধ করেছেন) গবেষণার ফলকে প্রভাবিত না করে।
এছাড়া দেখা যায়, যারা ২৯ বছর বা তার বেশি বয়সে প্রথম সন্তান জন্ম দিয়েছেন, তাদের মধ্যে শুধু ছেলে বা শুধু মেয়ে সন্তানের সম্ভাবনা ১৩% বেশি ছিল তুলনামূলকভাবে ২৩ বছরের কম বয়সীদের চেয়ে। গবেষকরা মনে করছেন, বয়স বাড়ার সাথে মহিলাদের শরীরের pH পরিবর্তনের কারণে Y বা X ক্রোমোজোমের স্পার্মের সফলতা ভিন্ন হতে পারে, যার ফলে সন্তানের লিঙ্গে প্রভাব পড়ে।
জিন-ভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কিছু নারীর শরীরে এমন দুটি সাধারণ জিনগত পরিবর্তন থাকে, যা একটি নির্দিষ্ট লিঙ্গের সন্তান হওয়ার প্রবণতা বাড়ায়। NSUN6 নামের একটি জিনের পরিবর্তন মেয়ে সন্তানের সম্ভাবনা বাড়ায়, আর TSHZ1 নামের একটি জিনের পাশে থাকা এক অক্ষরের পরিবর্তন ছেলে সন্তানের সম্ভাবনা বাড়ায়।
তবে এই গবেষণায় পুরুষ সঙ্গীদের প্রভাব বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। পলিয়াকভ বলেন, বর্তমান সময়ে কম সন্তান নেওয়ার প্রবণতার কারণে পুরুষদের অন্তর্ভুক্ত করে এ ধরনের গবেষণা করা কঠিন হবে।
গবেষণার সহ-লেখক এবং হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি শিক্ষার্থী সিউয়েন ওয়াং বলেন, ভবিষ্যতে আরও গবেষণা দরকার যাতে মাতৃবয়স ও অন্যান্য জৈবিক প্রভাবগুলো বিস্তারিতভাবে বোঝা যায়। যেমন, নারীদের হরমোনের পরিবর্তন বা পিতার বয়সের ভূমিকা এখানে থাকতে পারে।
সবশেষে গবেষকরা সাবধান করেন যে, এই ফলাফল ব্যক্তিগতভাবে কার ছেলে বা মেয়ে হবে তা নির্ধারণ করতে সাহায্য করবে না। তাই সন্তান লিঙ্গ নির্ধারণের ভবিষ্যদ্বাণীর জন্য এ তথ্য ব্যবহার করা উচিত নয়।
———
Is sex at birth a biological coin toss? Insights from a longitudinal and GWAS analysis. Sci. Adv. (2025).
DOI: 10.1126/sciadv.adu7402
নিয়মিত আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের নিউজলেটারে এবং ফলো করুন আমাদের টেলিগ্রাম, ইনস্টাগ্রাম, টুইটার এবং ফেসবুক-এ। এছাড়াও যুক্ত হতে পারেন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে।

এই নিবন্ধটি Creative Commons Attribution-NoDerivatives 4.0 International License-এর অধীনে লাইসেন্সকৃত। পুনঃপ্রকাশের জন্য পুনঃপ্রকাশের নির্দেশিকা দেখুুন।


