এক ধরনের মারাত্মক মস্তিষ্কের টিউমার তার দ্রুত বৃদ্ধি ধরে রাখতে আশপাশ থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি ‘চুরি’ করে নেয় এবং বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই অভ্যাসকে কাজে লাগিয়ে ক্যান্সারের বিস্তার ধীর করা সম্ভব।
গবেষণায় দেখা গেছে, গ্লিওব্লাস্টোমা নামের মস্তিষ্কের টিউমারগুলো নিজেরা তৈরি না করে আশপাশ থেকে সেরিন নামক গুরুত্বপূর্ণ অ্যামিনো অ্যাসিড টেনে নেয়। বিজ্ঞানীরা যখন নির্দিষ্ট প্রজাতির গ্লিওব্লাস্টোমা-আক্রান্ত ইঁদুরকে সেরিন-মুক্ত খাদ্য খাওয়ালেন, তখন দেখা গেল তাদের টিউমার ধীরে বাড়ছে এবং ইঁদুরগুলোর আয়ুও বেড়ে যাচ্ছে। এই ফলাফলকে গবেষকরা ক্যান্সারের এক নতুন “মেটাবলিক দুর্বলতা” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। গবেষণার ফলাফলটি ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ এ Nature জার্নালে প্রকাশিত হয়।
গ্লিওব্লাস্টোমা মস্তিষ্কের টিস্যুতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ চিকিৎসা যেমন অস্ত্রোপচার, কেমোথেরাপি ও রেডিয়েশনের পরও প্রায়শই ফিরে আসে। এই রোগে আক্রান্ত বেশিরভাগ মানুষ সাধারণত মাত্র ১–২ বছর বেঁচে থাকেন। টিউমার শরীর থেকে চিনি ও অন্যান্য সম্পদ কেড়ে নেয়, এবং তা ব্যবহার করে নিজের বৃদ্ধি বজায় রাখে।
গবেষকরা আটজন মস্তিষ্কের টিউমার রোগীর ওপর পরীক্ষা চালান। অস্ত্রোপচারের সময় রোগীদের শরীরে বিশেষ আইসোটোপ-লেবেলযুক্ত চিনি প্রবেশ করানো হয়। বিশ্লেষণে দেখা গেল, কিছু গ্লিওব্লাস্টোমা আশপাশ থেকে নেয়া চিনি ব্যবহার করে ডিএনএ তৈরির উপকরণ তৈরি করে, যা টিউমারকে দ্রুত বাড়তে সাহায্য করে।
পরীক্ষার দ্বিতীয় ধাপে, মানব গ্লিওব্লাস্টোমা টিস্যু প্রতিস্থাপিত ইঁদুরের ওপর গবেষণা চালানো হয়। দেখা গেল, যেখানে সুস্থ মস্তিষ্ক নিজে সেরিন তৈরি করে, সেখানে টিউমারগুলো বাইরে থেকে সেরিন টেনে নেয়। ফলে চিনি বাঁচে, যা তারা ডিএনএ, আরএনএ ও কোষ বিভাজনের জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য উপাদান তৈরিতে ব্যবহার করে।
গবেষকরা বুঝলেন, এই সেরিন-নির্ভরতা আসলে টিউমারের একটি দুর্বল দিক। যখন ইঁদুরগুলোকে সেরিন ও গ্লাইসিনমুক্ত খাদ্য দেওয়া হলো, তখন অনেক ক্ষেত্রে টিউমার ধীরে বাড়ল এবং ইঁদুরগুলো আয়ুও বাড়লো। বিশেষত কেমোথেরাপি ও রেডিয়েশনের সঙ্গে এই খাদ্যাভ্যাস মিলিয়ে দিলে সব প্রজাতির টিউমার-আক্রান্ত ইঁদুরই বেশি দিন বেঁচে রইল।
গবেষকরা আগামী বছর মানুষের ওপর সেরিন-মুক্ত খাদ্যের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু করার পরিকল্পনা করছেন। এটি রোগ সারাবে না, তবে কিছু রোগীর ক্ষেত্রে সময় বাড়াতে পারে বলে আশা করছেন তারা।
———
Rewiring of cortical glucose metabolism fuels human brain cancer growth. Nature (2025).
DOI: 10.1038/s41586-025-09460-7
নিয়মিত আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের নিউজলেটারে এবং ফলো করুন আমাদের টেলিগ্রাম, ইনস্টাগ্রাম, টুইটার এবং ফেসবুক-এ। এছাড়াও যুক্ত হতে পারেন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে।

এই নিবন্ধটি Creative Commons Attribution-NoDerivatives 4.0 International License-এর অধীনে লাইসেন্সকৃত। পুনঃপ্রকাশের জন্য পুনঃপ্রকাশের নির্দেশিকা দেখুুন।


