আংশিক পক্ষাঘাতগ্রস্ত এক ব্যক্তি নন-ইনভেসিভ (শরীরে অস্ত্রোপচার ছাড়া ব্যবহারযোগ্য) মস্তিষ্ক-সংযুক্ত যন্ত্র ব্যবহার করে রোবোটিক হাত চালাতে সক্ষম হয়েছেন। এই ডিভাইসটিকে আংশিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)। গবেষণায় দেখা গেছে, এআই-সক্ষম এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তিনি স্ক্রিনভিত্তিক কাজও চার গুণ ভালোভাবে সম্পন্ন করতে পেরেছেন।
ব্রেইন–কম্পিউটার ইন্টারফেস (BCI) মস্তিষ্ক থেকে বৈদ্যুতিক সংকেত সংগ্রহ করে, তারপর সেগুলো বিশ্লেষণ করে বোঝে মানুষ কী করতে চাইছে এবং সেই সংকেতকে যন্ত্রের কমান্ডে রূপান্তর করে। কিছু BCI অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মস্তিষ্কে স্থাপন করা হয়, ফলে এগুলো সাধারণত মাথার ত্বকে লাগানো নন-ইনভেসিভ ডিভাইসগুলোর তুলনায় বেশি নির্ভুল হয়।
ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, লস অ্যাঞ্জেলেসের জনাথন কাও ও তাঁর সহকর্মীরা নন-ইনভেসিভ BCI-এর কার্যকারিতা উন্নত করতে চেয়েছিলেন। তাঁদের গবেষণার ফলাফল সম্প্রতি Nature Machine Intelligence জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
প্রথম ধাপে তাঁরা চারজনকে (একজন পক্ষাঘাতগ্রস্ত এবং বাকি তিনজন সুস্থ) স্ক্রিনে নির্দিষ্ট স্থানে কম্পিউটার কার্সর সরানোর কাজ দেন। চারজনই বেশিরভাগ সময় সফলভাবে কাজটি সম্পন্ন করতে পেরেছিলেন।
পরে যখন ডিভাইসটিতে এআই কো-পাইলট যোগ করা হলো, তখন অংশগ্রহণকারীরা আরও দ্রুত এবং বেশি নির্ভুলভাবে কাজ শেষ করলেন। কাও-এর ভাষায়, “এই কো-পাইলট আসলে BCI ব্যবহারকারীর সাথে মিলে কাজ করে, ব্যবহারকারী কোন লক্ষ্য অর্জন করতে চাইছেন তা আন্দাজ করে নেয়, তারপর সেই কাজ সম্পন্ন করতে সহায়তা করে।”
এরপর গবেষকরা এআই কো-পাইলটকে রোবোটিক হাত নিয়ন্ত্রণে প্রশিক্ষণ দেন। পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের রোবোটিক হাত দিয়ে রঙিন ব্লক তুলে নির্দিষ্ট স্থানে রাখতে বলা হয়। পক্ষাঘাতগ্রস্ত ব্যক্তি শুধুমাত্র প্রচলিত নন-ইনভেসিভ BCI দিয়ে কাজটি সম্পন্ন করতে পারেননি, কিন্তু এআই কো-পাইলট যুক্ত BCI ব্যবহার করলে ৯৩% ক্ষেত্রে সফল হয়েছেন। সুস্থ অংশগ্রহণকারীরাও এআই কো-পাইলটের সাহায্যে দ্রুত কাজ শেষ করতে পেরেছেন।
হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার ঝেংউ লিউ বলেন, এআই কো-পাইলট ব্যবহার করা নন-ইনভেসিভ BCI-এর পারফরম্যান্স উন্নত করার নতুন উপায়। তাঁর মতে, “এআই ব্যবহারকারীর সাথে মিলে কাজ করতে পারে এবং কাজের লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করতে পারে।” তিনি মনে করেন, এ ধরনের প্রযুক্তি প্রতিবন্ধী মানুষের জীবনমান উন্নত করতেও সাহায্য করবে।
তবে মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নায়ুবিজ্ঞানী মার্ক কুক সতর্ক করে বলেন, “ব্যবহারকারীর স্বায়ত্তশাসন ক্ষুণ্ণ না করে এআই-এর নিয়ন্ত্রণের মাত্রা সঠিকভাবে ভারসাম্য রাখা জরুরি। নইলে ঝুঁকি থাকে যে এআই ব্যবহারকারীর আসল ইচ্ছাকে ভুল বুঝতে পারে কিংবা অতিক্রম করে যেতে পারে।”
কাওও একমত। তাঁর মতে, শেয়ারড অটোনমি (shared autonomy)-এর বড় চ্যালেঞ্জ হলো, ব্যবহারকারীকে সাহায্য করা কিন্তু তাঁর স্বাধীন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে না ফেলা। পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীরা এমন ভার্সন পছন্দ করেননি যেখানে এআই সরাসরি রোবোটিক হাতের গতিপথ নিয়ন্ত্রণ করেছে। তিনি মনে করেন, ভবিষ্যতে আরও উন্নত কো-পাইলট তৈরি করা সম্ভব এবং সেগুলো হয়তো অস্ত্রোপচারে বসানো BCI-তেও সংযোজিত হতে পারে।
———
Brain–computer interface control with artificial intelligence copilots. Nat Mach Intell (2025).
DOI: 10.1038/s42256-025-01090-y
নিয়মিত আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের নিউজলেটারে এবং ফলো করুন আমাদের টেলিগ্রাম, ইনস্টাগ্রাম, টুইটার এবং ফেসবুক-এ। এছাড়াও যুক্ত হতে পারেন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে।

এই নিবন্ধটি Creative Commons Attribution-NoDerivatives 4.0 International License-এর অধীনে লাইসেন্সকৃত। পুনঃপ্রকাশের জন্য পুনঃপ্রকাশের নির্দেশিকা দেখুুন।


