এক শতাব্দীরও বেশি আগে, জ্যোতির্বিজ্ঞানী হিবার কার্টিস প্রথমবারের মতো ব্ল্যাক হোল জেট আবিষ্কার করেছিলেন। এটি অত্যন্ত উত্তপ্ত প্লাজমার এক বিশাল স্রোত, যা গ্যালাক্সি এম৮৭ (Messier 87 বা M87)-এর কেন্দ্রে থাকা সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোল থেকে নির্গত হয়। এবার জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ (JWST) এই জেটকে অভূতপূর্ব বিশদভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে।
১৯১৮ সালে প্রথম আবিষ্কারের পর থেকে এম৮৭ ব্ল্যাক হোলের এই জেট (যেটি ২০১৯ সালে ইতিহাসের প্রথম ব্ল্যাক হোলের ছবিতে ধরা পড়েছিল) অসংখ্য টেলিস্কোপ দ্বারা পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে এবং একে সবচেয়ে বেশি স্টাডি করা ব্ল্যাক হোল জেট বলা যায়। তবুও এর অনেক বৈশিষ্ট্য এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে। জেটের ভেতরে উজ্জ্বল আলোকিত অঞ্চল থেকে শুরু করে অন্ধকার সর্পিলাকার গঠন, এসবের ব্যাখ্যা এখনো স্পষ্ট নয়।
স্পেনের ইনস্টিটিউট অব অ্যাস্ট্রোফিজিক্স অব আন্দালুসিয়ার গবেষক মাচেক ভিয়েলগাস এবং তাঁর সহকর্মীরা জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ ব্যবহার করে এম৮৭-এর জেটকে আরও নিখুঁতভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন। তাঁরা শুধু পরিচিত উজ্জ্বল অঞ্চলগুলোই নয়, বরং প্রায় অদৃশ্য বিপরীতমুখী জেটকেও (counter-jet) শনাক্ত করতে পেরেছেন, যা ব্ল্যাক হোলের অন্য পাশ থেকে বিপরীত দিকে ছুটে বেরোয়।
এই গবেষণার জন্য তাঁরা এম৮৭-এর নক্ষত্র পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত এক অন্য ডেটাসেট ব্যবহার করেন। যেহেতু JWST ইনফ্রারেড আলোয় বিশেষভাবে সংবেদনশীল, তাই নক্ষত্রগুলোর বিপুল আলো জেটকে প্রায় আড়াল করে ফেলেছিল। ফলে তাঁদের ডেটা পুনঃবিশ্লেষণ করে অপ্রয়োজনীয় আলোকদূষণ সরাতে হয়েছে। ভিয়েলগাস মজা করে বলেন—“এটি জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের সেই কথাটির বাস্তব উদাহরণ, যেখানে বলা হয় একজন জ্যোতির্বিজ্ঞানীর ফেলনা আরেকজন জ্যোতির্বিজ্ঞানীর সম্পদ।”
ধারণা করা জেটের প্রথম উজ্জ্বল বিন্দুটি উচ্চচাপীয় অঞ্চলে প্রবেশ করার সময় জেটের সংকোচনের কারণে সৃষ্টি হয়। এর সাথে তুলনা করা যায় রকেট ইঞ্জিনের নির্গমনে দেখা হীরক-আকৃতির আলোক বিন্যাসের সঙ্গে।
তাঁরা আরও দেখতে পান এম৮৭-এর বিপরীত দিকের জেটের শেষ প্রান্তও। সাধারণত এটি দেখা অত্যন্ত কঠিন, কারণ এটি আলোর কাছাকাছি গতিতে আমাদের থেকে দূরে ছুটে যাচ্ছে। আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিকতা তত্ত্ব অনুযায়ী, এর আসল উজ্জ্বলতা আমাদের চোখে অনেক কম দেখা যায়। তবে এই জেট যখন ভিন্ন চাপযুক্ত গ্যাস অঞ্চলে আঘাত করে, তখন এটি ছড়িয়ে পড়ে এবং দৃশ্যমান হয়।
এই দুই প্রান্ত মিলিয়ে এম৮৭-কে ঘিরে থাকা এক বিশাল গ্যাসীয় বুদবুদের সীমানা চিহ্নিত হয়। এখন যেহেতু বিপরীতমুখী জেট প্রথমবারের মতো ইনফ্রারেড আলোতে এত স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে, জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এই বুদবুদের ভেতরে কী ধরনের গ্যাসীয় গঠন থাকতে পারে তা নিয়ে নতুনভাবে মডেল তৈরি করতে পারবেন।
———
The infrared jet of M87 observed with JWST. Astronomy & Astrophysics (2025).
DOI: 10.1051/0004-6361/202556577
নিয়মিত আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের নিউজলেটারে এবং ফলো করুন আমাদের টেলিগ্রাম, ইনস্টাগ্রাম, টুইটার এবং ফেসবুক-এ। এছাড়াও যুক্ত হতে পারেন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে।

এই নিবন্ধটি Creative Commons Attribution-NoDerivatives 4.0 International License-এর অধীনে লাইসেন্সকৃত। পুনঃপ্রকাশের জন্য পুনঃপ্রকাশের নির্দেশিকা দেখুুন।



ছবির নিচে সহ, বেশ কিছু বানান বিভ্রাট। খেয়াল করুন।
ধন্যবাদ। ঠিক করে দেয়া হয়েছে। অসুবিধার জন্য দুঃখিত।