মানুষ প্রজাতি হিসেবে ক্যাফেইনের প্রতি আলাদা টান অনুভব করে। বিশ্বজুড়ে পানির পর সবচেয়ে বেশি পান করা পানীয় হচ্ছে চা। যুক্তরাষ্ট্রে বেশিরভাগ প্রাপ্তবয়স্ক দিনের শুরু করেন কফি দিয়ে। শক্তি বাড়ানোর জন্য মানুষ ক্যাফেইন গ্রহণ করে। নতুন এক গবেষণা দেখায়, ক্যাফেইন দীর্ঘমেয়াদে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে এবং বয়সের সঙ্গে মানসিক সক্ষমতা ধরে রাখতে সাহায্য করে।
JAMA জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণা ক্যাফেইন গ্রহণ ও মানসিক সক্ষমতার সম্পর্ক নিয়ে সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি তথ্য উপস্থাপন করেছে। গবেষণায় দেখা যায়, কফি ও চা থেকে মাঝারি মাত্রায় ক্যাফেইন গ্রহণ করলে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমে এবং মানসিক অবক্ষয়ের গতি ধীর হয়। বিশেষজ্ঞরা গবেষণার ব্যাপ্তি প্রশংসা করলেও ফলাফল সতর্কভাবে ব্যাখ্যার পরামর্শ দিয়েছেন।
গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের হৃদরোগ ও বিপাকবিদ্যা বিশেষজ্ঞ নাভিদ সাত্তার বলেন, এই ধরনের তথ্যের ভিত্তিতে গবেষণাটি ভালোভাবে পরিচালিত হয়েছে। তবে পরীক্ষামূলক নয়, পর্যবেক্ষণভিত্তিক হওয়ায় ফলাফলকে ইঙ্গিত হিসেবে দেখা উচিত।
আগের বহু গবেষণায় ক্যাফেইন ও মানসিক সক্ষমতার সম্পর্ক খতিয়ে দেখা হয়েছে। তবে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ইউ ঝাং বলেন, আগের গবেষণাগুলো স্বল্প সময়ের জন্য অংশগ্রহণকারীদের পর্যবেক্ষণ করেছে, অথচ ডিমেনশিয়া গড়ে ওঠে বহু দশকে।
এই গবেষণায় নার্সেস হেলথ স্টাডি ও হেলথ প্রফেশনালস ফলো আপ স্টাডির তথ্য ব্যবহার করা হয়। ৪৩ বছর ধরে ১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি স্বাস্থ্যকর্মীর ক্যাফেইন গ্রহণের অভ্যাস পর্যবেক্ষণ করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা কয়েক বছর পরপর খাদ্যতালিকা নথিভুক্ত করেন। পাশাপাশি মানসিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্নপত্র পূরণ করেন এবং শব্দ মনে রাখার পরীক্ষায় অংশ নেন।
ফলাফলে দেখা যায়, দিনে ২ থেকে ৩ কাপ কফি বা ১ থেকে ২ কাপ চা পান করলে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি এবং মানসিক অবক্ষয়ের হার সবচেয়ে বেশি কমে। কম পরিমাণ গ্রহণেও উপকার দেখা গেছে।
আগের গবেষণার বিপরীতে, বেশি কফি পানকারীদের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। দিনে সর্বোচ্চ ৫ কাপ কফি পানকারীদের ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কম পানকারীদের তুলনায় ১৮ শতাংশ কম ছিল।
APOE4 নামের একটি জিনগত ভ্যারিয়েন্ট বহনকারীদের ক্ষেত্রেও এই সুরক্ষামূলক প্রভাব দেখা গেছে। এই ভ্যারিয়েন্ট থাকলে আলঝেইমারজনিত ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি ২ থেকে ৩ গুণ বেড়ে যায়। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ শ্যানন কিলগোর বলেন, এই ফলাফল পর্যবেক্ষণভিত্তিক গবেষণার জন্য গ্রহণযোগ্য এবং নতুন ধারণা দেয়।
গবেষণার নকশা অনুযায়ী কফি সরাসরি ডিমেনশিয়া প্রতিরোধ করে এমন সিদ্ধান্ত টানা যায় না। তবু একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নজরে এসেছে। ডিক্যাফ কফি পানকারীদের মধ্যে কোনো মানসিক উপকার দেখা যায়নি। এতে বোঝা যায়, উপকারের মূল উৎস ক্যাফেইন, কফির অন্য উপাদান নয়।
গবেষকরা জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসের মতো বিষয় নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করেছেন। তবু ওষুধসহ অন্য কিছু বিষয় ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। ঝাং বলেন, প্রভাবের মাত্রা সীমিত। বয়সের সঙ্গে মানসিক সক্ষমতা রক্ষার অনেক উপায় আছে। ক্যাফেইনযুক্ত কফি বা চা সেই প্রচেষ্টার একটি অংশ।
———
Coffee and Tea Intake, Dementia Risk, and Cognitive Function. JAMA (2026)
DOI: 10.1001/jama.2025.27259
নিয়মিত আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের নিউজলেটারে এবং ফলো করুন আমাদের টেলিগ্রাম, ইনস্টাগ্রাম, টুইটার এবং ফেসবুক-এ। এছাড়াও যুক্ত হতে পারেন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে।

এই নিবন্ধটি Creative Commons Attribution-NoDerivatives 4.0 International License-এর অধীনে লাইসেন্সকৃত। পুনঃপ্রকাশের জন্য পুনঃপ্রকাশের নির্দেশিকা দেখুুন।


