১৯২৯ সালে জ্যোতির্বিদ এডউইন হাবল এক গবেষণা পত্রে দেখান যে মহাবিশ্ব প্রসারিত হচ্ছে। এই আবিষ্কার থেকেই আসে “হাবল ধ্রুবক” — একটি সংখ্যা যা জানায় মহাবিশ্ব কত দ্রুত প্রসারিত হচ্ছে।
কিন্তু এই প্রসারণের হার নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে, যাকে বলা হয় “হাবল টেনশন”। কারণ, মহাবিশ্বের প্রসারণের হার নির্ণয়ের জন্য ব্যবহৃত বিভিন্ন জ্যোতির্বস্তুর ওপর ভিত্তি করে পাওয়া ফলাফলগুলোতে ১০% পর্যন্ত পার্থক্য দেখা যায়।
এই সমস্যা সমাধানের জন্য একদল গবেষক একটি নতুন গাণিতিক মডেল তৈরি করেছেন, যেখানে ধরা হয়েছে মহাবিশ্ব ধীরে ধীরে ঘুরছে।
২০২৫ সালের মার্চে Monthly Notices of the Royal Astronomical Society নামক জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণায় বলা হয়েছে, মহাবিশ্ব প্রতি ৫০০ বিলিয়ন বছরে একবার সম্পূর্ণ ঘূর্ণন সম্পন্ন করে। এই অতিস্বল্প গতির ঘূর্ণন হাবল ধ্রুবকের পরিমাপের অসামঞ্জস্য দূর করতে পারে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা মহাবিশ্বের প্রসারণ হার নির্ণয়ের জন্য সাধারণত দুটি পদ্ধতি ব্যবহার করেন—একটি হলো সুপারনোভা বিশ্লেষণ, যেখানে তারা মহাজাগতিক দূরত্বে বিস্ফোরিত তারার আলোর স্খলন বিশ্লেষণ করেন। আরেকটি পদ্ধতি হলো কসমিক মাইক্রোওয়েভ ব্যাকগ্রাউন্ড রেডিয়েশন (CMB)। এই দুটি পদ্ধতিতে পাওয়া ফলাফলের মধ্যে প্রায় ১০% পার্থক্য দেখা যায়। আর সেখানেই দেখা দেয় ‘হাবল টেনশন’।
মহাবিশ্ব নিজে ঘূর্ণনশীল হতে পারে এই ধারণা নতুন নয়। বিখ্যাত গণিতবিদ কার্ট গ্যোডেল ১৯৪৯ সালে Reviews of Modern Physics জার্নালে এই ধারণা উত্থাপন করেছিলেন। স্টিফেন হকিং-সহ আরও অনেক বিজ্ঞানীও এই বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করেছেন।
নতুন গবেষণায়, গবেষকরা ধারণা করেছেন যেহেতু সমস্ত মহাজাগতিক বস্তু—যেমন গ্রহ, নক্ষত্র, গ্যালাক্সি, এমনকি ব্ল্যাক হোলও ঘূর্ণন করে—তাই মহাবিশ্ব নিজেও স্বাভাবিকভাবে ঘূর্ণন করতে পারে।
সাপুদি বলেন, “আমরা খুব অবাক হয়েছিলাম যখন দেখলাম, আমাদের এই ঘূর্ণন মডেল বর্তমান জ্যোতির্বিদ্যাগত তথ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয়ে বরং হাবল টেনশন সমস্যার একটি সম্ভাব্য সমাধান দিচ্ছে।”
যদিও এই ঘূর্ণন এত ধীর যে সরাসরি পরিমাপ করা সম্ভব নয়, তবুও এটি মহাবিশ্বের প্রসারণ হারে প্রভাব ফেলতে পারে এবং এর জন্য নতুন ধরনের কোনো থিয়োরির প্রয়োজন হয় না।
তবে গবেষণাটিতে সব ধরনের পদার্থবিজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। সাপুদি বলেন, “আমরা মূলত নিউটোনিয়ান পদার্থবিদ্যা ব্যবহার করেছি, কিছুটা জেনারেল রিলেটিভিটির ইনপুট নিয়ে। একটি সম্পূর্ণ জেনারেল রিলেটিভিটি বিশ্লেষণ ভবিষ্যতে দরকার।”
তিনি আরও বলেন, তাদের মডেলটি ধরে নিয়েছে যে মহাবিশ্ব সমজাতীয় এবং সময়ের সঙ্গে তার ঘনত্বে কোনো পরিবর্তন হয়নি। ভবিষ্যতের গবেষণায় তাঁরা এই ঘূর্ণনশীল মহাবিশ্বের মডেলটিকে অন্যান্য কসমোলজিক্যাল মডেলের সঙ্গে তুলনা করবেন।
চূড়ান্তভাবে, এই গবেষণা মহাবিশ্বের প্রকৃতি নিয়ে আমাদের ধারণা নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করছে—হয়তো আমাদের চারপাশের সবকিছু ধীরে ধীরে ঘুরছে, এমনকি মহাবিশ্ব নিজেও।
———
Can rotation solve the Hubble Puzzle? Monthly Notices of the Royal Astronomical Society (2025).
DOI: 10.1093/mnras/staf446
নিয়মিত আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের নিউজলেটারে এবং ফলো করুন আমাদের টেলিগ্রাম, ইনস্টাগ্রাম, টুইটার এবং ফেসবুক-এ। এছাড়াও যুক্ত হতে পারেন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে।

এই নিবন্ধটি Creative Commons Attribution-NoDerivatives 4.0 International License-এর অধীনে লাইসেন্সকৃত। পুনঃপ্রকাশের জন্য পুনঃপ্রকাশের নির্দেশিকা দেখুুন।


