গত ২৭ মে, ২০২৫ তারিখে রাঙামাটি জেলায় অবস্থিত কাপ্তাই হ্রদে প্রথমবারের মতো একটি নতুন প্রজাতির আইড় মাছের সন্ধান পেয়েছেন বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই), নদী উপকেন্দ্র, রাঙামাটির বিজ্ঞানীরা। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. ইশতিয়াক হায়দার।
তিনি জানান, গবেষণার অংশ হিসেবে আইড় মাছের বাহ্যিক গঠন ও অন্যান্য শারীরিক বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তারা দেখতে পান, এ মাছটি পূর্বে পরিচিত Sperata aor (তল্লা আইড়) ও Sperata seenghala (গুজি আইড়) প্রজাতি থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। পরবর্তী কৌলিতাত্ত্বিক বিশ্লেষণে মাছটির ডিএনএ নমুনার সঙ্গে Sperata aorella নামক প্রজাতির আইড় মাছের জিনোমের শতভাগ মিল পাওয়া যায়। এই Sperata aorella মাছটি আগে কখনও কাপ্তাই হ্রদে চিহ্নিত হয় নি, এবারই প্রথম।
Sperata aorella নামের এ নতুন প্রজাতিটি তুলনামূলকভাবে ছোট আকৃতির। এদের ওজন ১ থেকে ১.৫ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। মাছটির দেহ লম্বা ও সরু, পৃষ্ঠদেশ ধূসর, পেটের দিক সাদাটে এবং দেহের পাশ রুপালি বর্ণের। মাথা থেকে পৃষ্ঠ পাখনার উৎপত্তি পর্যন্ত অংশটি সমান ঢালু, এডিপোজ ফিন পৃষ্ঠীয় পাখনার সমান দৈর্ঘ্যের এবং খাটো। এছাড়া, মাছটির ম্যাক্সিলারি বারবেল প্রায় পুচ্ছ পাখনা পর্যন্ত বিস্তৃত এবং চোয়াল গুজি আইড়-র মতো ছাঁটা আকারের।
গঠনগত দিক দিয়ে এর অক্সিপিটাল স্পাইন দীর্ঘ এবং এপিনিউরাল শিল্ড সরু। এসব বৈশিষ্ট্যের কারণে এটি Sperata aor এবং Sperata seenghala থেকে পৃথক একটি স্বতন্ত্র প্রজাতি হিসেবে চিহ্নিত হয়।
উল্লেখ্য, Sperata aor ও Sperata seenghala আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘ (IUCN)-এর ২০১৫ সালের তালিকায় বিপন্ন প্রজাতি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হলেও, নব আবিষ্কৃত Sperata aorella এখনো সেই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত নয়।
গবেষণা কার্যক্রমে নেতৃত্ব দিয়েছেন বিএফআরআইয়ের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আজহার আলী ও ড. মো. রবিউল আউয়াল হোসেন। গবেষক দলে আরও ছিলেন ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. ইশতিয়াক হায়দার ও বি. এম. শাহিনুর রহমান, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. খালেদ রহমান, রাবিনা আক্তার লিমা, মো. ইমদাদুল হক এবং মো. লিপন মিয়া।
প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. ইশতিয়াক হায়দার বলেন, “নদী উপকেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা দীর্ঘ গবেষণার মাধ্যমে Sperata aor এবং Sperata seenghala থেকে ভিন্ন নতুন এক প্রজাতির আইড় মাছ আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছেন। এটি দেশের মৎস্য গবেষণার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।”
নিয়মিত আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের নিউজলেটারে এবং ফলো করুন আমাদের টেলিগ্রাম, ইনস্টাগ্রাম, টুইটার এবং ফেসবুক-এ। এছাড়াও যুক্ত হতে পারেন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে।

এই নিবন্ধটি Creative Commons Attribution-NoDerivatives 4.0 International License-এর অধীনে লাইসেন্সকৃত। পুনঃপ্রকাশের জন্য পুনঃপ্রকাশের নির্দেশিকা দেখুুন।


