একটি জিনোম (Genome) হলো কোনো জীবের সম্পূর্ণ জেনেটিক নির্দেশাবলীর সেট।
বেশিরভাগ জীবের ক্ষেত্রে, এই জেনেটিক নির্দেশনা থাকে ডিএনএ (DNA) আকারে। ডিএনএ অণুর মধ্যে জীব গঠনের এবং টিকে থাকার নির্দেশনা সঞ্চিত থাকে। অধিকাংশ জীবের ডিএনএ সংগঠিত থাকে ক্রোমোজোমে। একটি ক্রোমোজোমের কিছু অংশ হলো জিন (gene)। জিন হলো ডিএনএ-র ছোট ছোট অংশ, যা কোনো জীবের প্রোটিন (এবং আরও কিছু অণু) তৈরির নির্দেশ বহন করে।
তবে, জিন কোনো জীবের পুরো জিনোমের কেবল একটি ক্ষুদ্র অংশ। জিনোমের অধিকাংশই গঠিত নন-কোডিং ডিএনএ (non-coding DNA) দিয়ে। এই অংশে জিন থাকে না। বিজ্ঞানীরা একসময় একে “জাঙ্ক ডিএনএ” বলতেন, কারণ মনে করা হতো এর কোনো কাজ নেই। কিন্তু পরে দেখা গেছে, নন-কোডিং ডিএনএ বিভিন্নভাবে জীবকে সাহায্য করে—যেমন কোষকে জিনের কোড ব্যবহার করতে ও পড়তে সক্ষম করে।
মানবদেহের অধিকাংশ কোষে থাকে একটি পূর্ণ জিনোম—৪৬টি ক্রোমোজোম, যা সাজানো থাকে ২৩ জোড়ায়। তবে ব্যতিক্রমও আছে। যেমন, পূর্ণবয়স্ক লাল রক্তকণিকাতে কোনো ডিএনএ-ই থাকে না। আবার ডিম্বাণু এবং শুক্রাণুতেও পূর্ণ জিনোম থাকে না। এরা বহন করে অর্ধেক জিনোম—মানুষের ক্ষেত্রে সেটি হলো ২৩টি ক্রোমোজোম। ডিম্বাণু ও শুক্রাণু মিলিত হলে তৈরি হয় একটি নতুন কোষ, যাতে পূর্ণ ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে। একটি মানব জিনোমে থাকে প্রায় ২৫,০০০ জিন এবং অসংখ্য নন-কোডিং অঞ্চল।
কিছু ভাইরাস ডিএনএ নয়, বরং আরএনএ (RNA) ব্যবহার করে তাদের জেনেটিক উপাদান হিসেবে। ভাইরাস আসলে জীবিত নয় কোষের মতো, তবুও তাদের সম্পূর্ণ আরএনএ নির্দেশনাকেও আমরা জিনোম বলি।
ডিএনএ ও আরএনএ দুটোই গঠিত হয় নিউক্লিওটাইড (nucleotide) নামক একক দিয়ে। এগুলোকে প্রকাশ করা হয় A, T, G এবং C অক্ষর দিয়ে (আরএনএ-তে T-এর জায়গায় U থাকে)। ডিএনএ-র নিউক্লিওটাইডগুলো যুগল আকারে থাকে, যাকে বলা হয় বেস পেয়ার (base pair)। একটি মানব জিনোমে থাকে প্রায় ৩ বিলিয়ন বেস পেয়ার। এই বেস পেয়ারের বিভিন্ন সমন্বয়ই জীব তৈরির পূর্ণ নির্দেশনা বহন করে।
প্রজাতিভেদে জিনোমের আকার ভিন্ন হয়। যেমন, জাপানি উদ্ভিদ Paris japonica-র জিনোম মানুষের তুলনায় প্রায় ৫০ গুণ বড়। এটির সম্পূর্ণ ডিএনএ-তে থাকে প্রায় ১৪৯ বিলিয়ন বেস পেয়ার। এক কোষের ডিএনএ যদি টেনে ছড়িয়ে দেওয়া হয়, তবে সেটি প্রায় ১০০ মিটার (৩৩০ ফুট) লম্বা হবে। তুলনায়, মানুষের জিনোম ছড়িয়ে দিলে হবে মাত্র ২ মিটার (৬.৫ ফুট)।
অন্যদিকে, এককোষী সবুজ শৈবাল Ostreococcus tauri-এর জিনোম খুব ছোট। এতে আছে মাত্র ১২.৬ মিলিয়ন বেস পেয়ার। এর ডিএনএ টেনে ছড়ালে দৈর্ঘ্য হবে মাত্র ৮ মিলিমিটার (০.৩ ইঞ্চি)।
মজার ব্যাপার হলো, কমলা রঙের বিড়ালদের স্বতন্ত্র চেহারা আসে তাদের জিনোমে থাকা এক ধরনের ডিএনএ ডিলিশন (DNA deletion) থেকে।
——
বিজ্ঞান কথা-র সম্পূর্ণ তালিকা দেখুন
নিয়মিত আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের নিউজলেটারে এবং ফলো করুন আমাদের টেলিগ্রাম, ইনস্টাগ্রাম, টুইটার এবং ফেসবুক-এ। এছাড়াও যুক্ত হতে পারেন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে।

এই নিবন্ধটি Creative Commons Attribution-NoDerivatives 4.0 International License-এর অধীনে লাইসেন্সকৃত। পুনঃপ্রকাশের জন্য পুনঃপ্রকাশের নির্দেশিকা দেখুুন।


