পাঠ্যপুস্তক অনুযায়ী, মানুষের ভিটামিন সি তৈরি করার ক্ষমতা হারিয়ে গেছে কারণ আমাদের খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত ভিটামিন সি ছিল, ফলে শরীরের তা তৈরির প্রয়োজন পড়েনি। কিন্তু প্রাণীদের ওপর হওয়া কিছু গবেষণা বলছে, এই ক্ষমতা হারানো আসলে আমাদের পূর্বপুরুষদের পরজীবী সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সহায়তা করেছিল।
বেশিরভাগ প্রাণী GULO নামের একটি এনজাইমের মাধ্যমে ভিটামিন সি তৈরি করে। কিন্তু প্রায় ৬০–৭০ মিলিয়ন বছর আগে, আমাদের প্রাইমেট পূর্বপুরুষদের GULO জিনে মিউটেশন ঘটে এবং ভিটামিন সি তৈরির ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। একই ঘটনা আরও কিছু প্রাণীগোষ্ঠীতে ঘটেছে, যেমন অনেক বাদুড় এবং গিনিপিগের মতো দন্তকৃন্তক (rodents)।
প্রচলিত ব্যাখ্যা হলো, যতক্ষণ প্রাণীরা খাদ্য থেকে যথেষ্ট ভিটামিন সি পায়, ততক্ষণ GULO এনজাইম এর প্রয়োজনীয়তা থাকে না, তাই প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে এটি ধরে রাখার চাপও থাকে না। অর্থাৎ পরিবর্তনটি নিরপেক্ষ (neutral) হিসেবে ধরা হয়।
ডালাস, টেক্সাসের ইউটি সাউথওয়েস্টার্ন মেডিকেল সেন্টারের মিখালিস আগাথোক্লিয়াস ২০১৭ সালে এ বিষয়ে ভাবতে শুরু করেন, যখন তার দল আবিষ্কার করে যে ভিটামিন সি রক্ত তৈরির স্টেম সেলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যদি GULO হারানো সত্যিই নিরপেক্ষ হয়, তাহলে কেন অনেক প্রাণী (যাদের খাদ্যে প্রচুর ভিটামিন সি থাকে) তাদের এখনো এই এনজাইম কাজ করছে?
কমপক্ষে একটি অতিরিক্ত সুবিধা থাকতে হবে। যেসব প্রাণীর GULO কাজ করে, তাদের রক্তে ভিটামিন সি-এর মাত্রা স্থির থাকে; কিন্তু মানুষের ক্ষেত্রে তা ওঠানামা করে এবং কয়েকদিন না খেলে খুব কমে যেতে পারে।
কিন্তু যদি ভিটামিন সি তৈরি করার ক্ষমতার সুবিধা থাকে, তাহলে কিছু প্রাণী কেন তা হারিয়ে ফেলবে? বিবর্তনীয় দৃষ্টিকোণ থেকে, কোনো উপকারী বৈশিষ্ট্য হারানোর সাধারণ ব্যাখ্যা হলো, হারানো ফলে রোগ বা পরজীবীর বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয়া।
এরপর আগাথোক্লিয়াসের সহকর্মীরা আবিষ্কার করেন যে schistosomes নামের এক ধরনের চ্যাপ্টা কৃমি (flatworm) অতিরিক্ত ভিটামিন সি পেলে আরও বেশি ডিম পাড়ে। এই মিঠা পানির পরজীবীরা ত্বক ভেদ করে শরীরে প্রবেশ করে এবং ভেতরে বেড়ে ওঠে। Schistosomiasis নামে পরিচিত এই রোগের অনেক উপসর্গই আসে পূর্ণবয়স্ক কৃমির ডিমে শরীরের প্রতিরোধ প্রতিক্রিয়া থেকে।
ভিটামিন সি-এর অভাব কী পরজীবীর বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিতে পারে তা দেখতে, আগাথোক্লিয়াস ও তার দল কিছু ইঁদুরের GULO জিন মুছে দেয়। কম ভিটামিন সি-যুক্ত খাদ্য খাওয়ানো হলে, সংক্রমণের পর এই ইঁদুরগুলো কোনো উপসর্গ দেখায়নি এবং মলদ্বার দিয়ে ডিম নির্গত করেনি। বিপরীতে, যেসব ইঁদুরের GULO এনজাইম সক্রিয় ছিল তারা প্রচুর ডিম ছেড়েছে এবং অধিকাংশই মারা গেছে।
“আমরা প্রমাণ দিয়েছি যে এর একটি সুবিধা রয়েছে,” বলেন আগাথোক্লিয়াস। তিনি জানান, আমাদের পূর্বপুরুষদের GULO হারানো রোগ প্রতিরোধের জন্য প্রাকৃতিকভাবে নির্বাচিত হয়েছিল তা নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করার উপায় নেই, তবে গবেষণাটি অন্তত এটিকে সম্ভাব্য করে তোলে।
ভার্জিনিয়া টেক-এর ডেবোরাহ গুড, যিনি এই গবেষণায় জড়িত ছিলেন না, বলেন, “যদিও অনেক পাঠ্যপুস্তকে এটিকে ‘ব্যবহার করো অথবা হারিয়ে ফেলো’ ধরণের পরিস্থিতি বলা হয়, আমি সহ অনেক বিজ্ঞানী বিশ্বাস করি যে এই জিন হারানোর পেছনে বিবর্তনীয় সুবিধার যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে। পরজীবী থেকে সুরক্ষা তার একটি হতে পারে।”
———
Loss of vitamin C biosynthesis protects from a parasitic infection, bioRxiv (2025).
DOI: 10.1101/2025.07.22.666193
নিয়মিত আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের নিউজলেটারে এবং ফলো করুন আমাদের টেলিগ্রাম, ইনস্টাগ্রাম, টুইটার এবং ফেসবুক-এ। এছাড়াও যুক্ত হতে পারেন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে।

এই নিবন্ধটি Creative Commons Attribution-NoDerivatives 4.0 International License-এর অধীনে লাইসেন্সকৃত। পুনঃপ্রকাশের জন্য পুনঃপ্রকাশের নির্দেশিকা দেখুুন।



ঠিক বুঝলাম না 🙂
মাখখানে এসে আমিও আর বুঝি না।