দক্ষিণ মহাসাগরের গভীর জলে প্রথমবারের মতো একটি কিশোর কোলোসাল স্কুইড (Mesonychoteuthis hamiltoni)-কে তাদের প্রাকৃতিক পরিবেশে ক্যামেরাবন্দি করেছে গবেষকরা। একটি বিরল এবং ঐতিহাসিক সাফল্য বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
২০২৫ সালের ৯ মার্চ, গবেষণা জাহাজ R/V Falkor (too) থেকে পরিচালিত রিমোট অপারেটেড যান (ROV) SuBastian ৬০০ মিটার গভীরে একটি ৩০ সেমি লম্বা বাচ্চা কোলসাল স্কুইডের ভিডিও ধারণ করে। কোলোসাল স্কুইড, যাকে অ্যান্টার্কটিক ক্রাঞ্চ স্কুইড বা জায়ান্ট স্কুইড নামেও ডাকা হয়, গ্লাস স্কুইড পরিবারের (Cranchiidae) সদস্য এবং এটি পৃথিবীর সবচেয়ে ভারী অমেরুদণ্ডী প্রাণী। প্রাপ্তবয়স্ক স্কুইডগুলো ১০ থেকে ১৪ মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে এবং ওজন হতে পারে ৫০০ থেকে ৭০০ কেজি পর্যন্ত।
“প্রথমবারের মতো কোলসাল স্কুইডের ছোট্ট বাচ্চাকে তার প্রাকৃতিক পরিবেশে দেখে আমরা রোমাঞ্চিত। ভাবতেই অবাক লাগে, ওরা জানেই না যে আমরা মানুষ নামে কোনো প্রাণী আছি,” বলেন অকল্যান্ড ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির গবেষক ড. ক্যাট বোলস্টাড। “গত ১০০ বছরে আমরা এদের শুধু তিমি ও সামুদ্রিক পাখিদের পেটে অবশিষ্টাংশ হিসেবে কিংবা দাঁতওয়ালা মাছের শিকারি হিসেবে চিনতাম।”
এর কিছুদিন আগেই, ২০২৫ সালের ২৫ জানুয়ারি, একই গবেষণা জাহাজ দক্ষিণ মহাসাগরে গ্লেশিয়াল গ্লাস স্কুইড (Galiteuthis glacialis)-এর প্রথম নিশ্চিত ভিডিও ধারণ করে—এটিও একটি গ্লাস স্কুইড প্রজাতি, যা আগে কখনো জীবিত অবস্থায় প্রাকৃতিক পরিবেশে দেখা যায়নি।
“কোলসাল স্কুইডের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, তাদের আটটি বাহুর মাঝখানে হুক থাকে, যা দিয়ে আমরা সহজেই গ্লেশিয়াল গ্লাস স্কুইড থেকে তাদের আলাদা করতে পারি,” বলেন গ্লাস স্কুইড পরিবারের বিশেষজ্ঞ ড. অ্যারন ইভানস। “তবে বাচ্চা কোলসাল স্কুইড আর গ্লেশিয়াল গ্লাস স্কুইড দেখতে অনেকটা একই রকম—দুজনেরই দেহ স্বচ্ছ এবং দীর্ঘ দুই শুঁড়ের শেষ প্রান্তে ধারালো হুক থাকে।”
জাহাজে না থেকেও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের জীববিজ্ঞানীরা রিয়েল টাইমে ভিডিও বিশ্লেষণ করতে পেরেছেন টেলিপ্রেজেন্স প্রযুক্তির মাধ্যমে। “আমরা সমুদ্রে থাকলেও, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে সারা বিশ্বের শ্রেষ্ঠ জীববিজ্ঞানীদের সহায়তা নিতে পারছি—এটা সত্যিই অসাধারণ,” বলেন অভিযানের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ইউনিভার্সিটি অব এসেক্সের গবেষক ড. মিশেল টেইলর।
শমিড্ট ওশান ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ড. জ্যোতিকা বীরমানি বলেন, “একই অভিযানে দুটি ভিন্ন স্কুইডের প্রথমবারের মতো দেখা পাওয়া অত্যন্ত চমকপ্রদ। এটা প্রমাণ করে, দক্ষিণ মহাসাগরের অসাধারণ প্রাণীগুলোর কতটুকুই বা আমরা এখনো দেখেছি।”
এই নতুন আবিষ্কার আমাদের গভীর সমুদ্রের প্রাণীজগত এবং এর রহস্যময় বাসিন্দাদের সম্পর্কে জানার পথে একটি বড় অগ্রগতি।
নিয়মিত আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের নিউজলেটারে এবং ফলো করুন আমাদের টেলিগ্রাম, ইনস্টাগ্রাম, টুইটার এবং ফেসবুক-এ। এছাড়াও যুক্ত হতে পারেন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে।

এই নিবন্ধটি Creative Commons Attribution-NoDerivatives 4.0 International License-এর অধীনে লাইসেন্সকৃত। পুনঃপ্রকাশের জন্য পুনঃপ্রকাশের নির্দেশিকা দেখুুন।


