একসময় অস্ট্রেলিয়ায় কোয়ালার আরেকটি আলাদা প্রজাতি ছিল, যা শুধু মহাদেশের পশ্চিম অংশে বাস করত। প্রায় ৩০,০০০ বছর আগে এই প্রজাতিটি বিলুপ্ত হয়ে যায়।
বর্তমানে কোয়ালার একটিই প্রজাতি রয়েছে, যার বৈজ্ঞানিক নাম Phascolarctos cinereus। এরা মূলত পূর্ব অস্ট্রেলিয়ার ইউক্যালিপটাস বনে বাস করে। তবে আবাসস্থল ধ্বংস, বিভিন্ন রোগ, গাড়ির ধাক্কা এবং বাইরের আনা প্রাণীর আক্রমণের কারণে এরা এখন হুমকির মুখে।
গত এক শতকে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার গুহাগুলো থেকে ১,৩৭,০০০ থেকে ৩১,০০০ বছর পুরোনো বহু কোয়ালা জীবাশ্ম সংগ্রহ করা হয়েছে। কিন্তু এতদিন গবেষকদের কাছে যথেষ্ট প্রমাণ ছিল না যে এগুলো আলাদা কোনো প্রজাতির।
গত ২৫ বছরে নতুন জীবাশ্ম হাতে আসায় গবেষণা এগিয়ে যায়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল গুহা-অনুসন্ধানী লিন্ডসে হ্যাচারের পরিবারের দান করা কিছু খুলি, যেগুলো তিনি দক্ষিণ-পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার গুহা অভিযানে সংগ্রহ করেছিলেন।
ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ান মিউজিয়ামের গবেষক কেনি ট্রাভুইলন বলেন, একটি খুব ভালো অবস্থার কোয়ালা খুলি পরীক্ষা করতে গিয়ে তারা আধুনিক কোয়ালার সঙ্গে কিছু পার্থক্য লক্ষ্য করেন। এরপর তারা পুরো জীবাশ্ম সংগ্রহ নতুন করে বিশ্লেষণ শুরু করেন।
গবেষণায় নতুন প্রজাতিটির নাম দেওয়া হয় Phascolarctos sulcomaxilliaris। দেখতে প্রায় একই হলেও সূক্ষ্ম কিছু পার্থক্য ছিল।
এই পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার কোয়ালাদের মাথা তুলনামূলক ছোট ছিল এবং চিবানোর পেশী কম উন্নত ছিল। তবে তাদের দাঁত বড় ছিল এবং চোয়াল ছোট হলেও বেশি কার্যকর ছিল, ফলে তারা ভিন্নভাবে পাতা চিবাত।
এই প্রজাতির গালের পাশে বড় একটি খাঁজ ছিল, যা ইঙ্গিত দেয় সেখানে বড় পেশী যুক্ত ছিল। এই পেশী হয়তো বড় ঠোঁট নাড়াতে সাহায্য করত, যার মাধ্যমে তারা পাতা ধরত, অথবা নাকের ছিদ্র ফুলিয়ে দূর থেকে গন্ধ নিয়ে খাবার খুঁজত। তাদের কঙ্কালও কম গতিশীল ছিল, যা বোঝায় তারা গাছের মধ্যে কম চলাফেরা করত।
প্রায় ৩০,০০০ বছর আগে জলবায়ু শুষ্ক হয়ে যাওয়ায় পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার বনভূমি হারিয়ে যায়। এর সঙ্গে বিলুপ্ত হয়ে যায় এই কোয়ালা প্রজাতি এবং তাদের সাথে বসবাস করা আরও অনেক প্রাণী। এদের মধ্যে ছিল তাসমানিয়ান ডেভিল, থাইলাসিন, বিশাল একিডনা, ছোট-মুখো ক্যাঙ্গারু এবং বিশাল মারসুপিয়াল Zygomaturus।
গবেষকদের মতে, সেই সময়ের অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসীরা এই প্রাণীগুলোর সঙ্গে বসবাস করত এবং তাদের বিলুপ্তির ঘটনাও প্রত্যক্ষ করেছিল।
অস্ট্রেলিয়ান মিউজিয়ামের টিম ফ্ল্যানারি এই গবেষণাকে শক্তিশালী প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন যে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার কোয়ালারা সত্যিই একটি আলাদা প্রজাতি ছিল। এখন গবেষকরা আশা করছেন, এই জীবাশ্ম থেকে ডিএনএ বের করা গেলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে।
———
New fossil koala (Marsupialia: Phascolarctidae) from the Pleistocene of Western Australia. R Soc Open Sci. (2026).
DOI: 10.1098/rsos.251572
নিয়মিত আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের নিউজলেটারে এবং ফলো করুন আমাদের টেলিগ্রাম, ইনস্টাগ্রাম, টুইটার এবং ফেসবুক-এ। এছাড়াও যুক্ত হতে পারেন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে।

এই নিবন্ধটি Creative Commons Attribution-NoDerivatives 4.0 International License-এর অধীনে লাইসেন্সকৃত। পুনঃপ্রকাশের জন্য পুনঃপ্রকাশের নির্দেশিকা দেখুুন।


