আপনি হতো দেখে থাকবেন, কুকুর কোনোভাবে পানিতে পরে গেলে বা কুকুরে গায়ে পানি পড়লে মুখ কাচুমাচু করে একটা ঝাঁকি দিয়ে পানি বের করে দেয়।
বিজ্ঞানীরা অবশেষে খুঁজে বের করেছেন কেন কুকুর এমন ঝাঁকি দেয়। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে যে “ঝাঁকি” আসলে স্তন্যপায়ী প্রাণীর ত্বকে থাকা সি-এলটিএমআর (C-LTMR) নামক রিসেপ্টরের কারণে হয়। এই রিসেপ্টরটি বিভিন্ন পশমওয়ালা প্রাণী, যেমন কুকুর, বিড়াল, ইঁদুর — ইত্যাদির মধ্যে থাকে। এদের ঘাড়ের পেছনে পানি বা যেকোনো তরল কিছু পড়লে এ ধরনের ঝাঁকি সৃষ্টি করে।
গত ৭ নভেম্বর, ২০২৪ এ প্রকাশিত হয় গবেষণাপত্রটি। সবগুলো প্রাণিই একই ফিকুয়েন্সি এবং প্যার্টার্নে ঝাঁকি দেয়, সাধারণত ৩টা ঝাঁকি। এর আগে আমরা জানতাম না ঠিক কোন রিসেপ্টর অথবা স্নায়ু এই আচরণের জন্য দায়ী।
নতুন জেনেটিক প্রযুক্তি ব্যাবহার করে ঝাং ও তাঁর দলকে এই ঝাঁকির জন্য দায়ী রিসেপ্টরটি খুঁজে বের করেছেন। প্রথমে, গবেষকরা ইঁদুরে জেনেটিক মিউটেশন ঘটান যাতে ত্বকের রিসেপ্টরের মেকানিক সংকেত বোঝার চ্যানেল বা তাপমাত্রার পরিবর্তন শনাক্তের রিসেপ্টরগুলো বন্ধ হয়ে যায়। তারা দেখলেন, যেসব ইঁদুর তাপমাত্রার পরিবর্তন বুঝতে পারে না, সেগুলো ঘাড়ে তেল বা তরলের ফোঁটা ফেলে দেওয়ার পরও ঝাঁকি দেয়, কিন্তু যেগুলোর মেকানিক্যাল সংকেত বোঝার চ্যানেল নেই, তারা ঝাঁকি দেয় না।
ফলে, ঝাং ও তাঁর দল মেকানিক্যাল রিসেপ্টরগুলোর ওপর মনোযোগ দেন এবং তেল বা তরল ফোঁটা পড়লে তাদের মধ্যে ঘটা কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করেন। তারা তিনটি রিসেপ্টরের দিকে মনোযোগ দেন, যেগুলো হালকা স্পর্শে প্রতিক্রিয়া দেখায়। এরপর, অপটোজেনেটিক্স নামক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নির্দিষ্ট রিসেপ্টরগুলোতে আলোর মাধ্যমে সংকেত প্রেরণ করেন। এই প্রক্রিয়ায়, কোনো তরল ব্যবহার ছাড়াই নির্দিষ্ট স্নায়ুগুলো সক্রিয় করা সম্ভব ছিল।
ফলাফল স্পষ্ট ছিল: যখন গবেষকরা সি-ফাইবার লো-থ্রেশোল্ড মেকানোরিসেপ্টরস (C-LTMR) নামক একটি স্নায়ু সক্রিয় করেন, তখন ইঁদুর এমনভাবে ঝাঁকুনি দেয়, যেন তাদের ওপর হঠাৎ পানি ঢালা হয়েছে। নিশ্চিত হওয়ার জন্য, গবেষকরা সি-এলটিএমআর ছাড়া ইঁদুর তৈরি করেন এবং দেখেন যে তারা সাধারণ ইঁদুরের চেয়ে ৫৮% কম ঝাঁকি দেয়।
সি-এলটিএমআর দীর্ঘদিন ধরেই আমাদের কাছে রহস্যজনক ছিল। ৮০ বছর আগের এক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছিল যে এই রিসেপ্টরগুলো পশুদের মধ্যে শিউরে ওঠার অনুভূতি তৈরি করে, তবে এটি কীভাবে অনুভূত হয়, তা স্পষ্ট ছিল না। মানুষের মধ্যে, এই ধরনের রিসেপ্টর সি-মেকানোরিসেপ্টর (C-mechanoreceptor) হিসেবে পরিচিত, যা ত্বকে মৃদু স্পর্শের সঙ্গে যুক্ত।
সি-এলটিএমআর পশমওয়ালা প্রাণীদের পশমের তলা থেকে সংকেত বহন করে, তাই এই নতুন গবেষণা নির্দেশ করে যে এটি মূলত পরজীবী বা পানি ফোঁটার মতো বিরক্তিকর বস্তুর সংকেত শনাক্তের জন্য বিশেষায়িত, ঝাং বলেন: “মূলত, এটি এক ধরনের প্রতিরোধ ব্যবস্থা, যা পশমে লেগে থাকা সম্ভাব্য ক্ষতিকর বস্তু সরানোর জন্য তৈরি।”
মানুষের ক্ষেত্রে, যাদের ত্বকে পশম নেই, এই ধরনের ঝাঁকির প্রতিক্রিয়া কোনোভাবে বিদ্যমান কি না, তা এখনও অনির্ধারিত। “আমি আগে বলতাম যে মানুষ নিজেদের শুকানোর জন্য তোয়ালে ব্যবহার করে,” ঝাং বলেন। তবে মানুষের ঘাড়ের পেছনে হালকা স্পর্শে যে শিরশির অনুভূতি হয়, সেটি কি ভেজা কুকুরের ঝাঁকির সাথে সম্পর্কিত কিনা, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
“এটি কি বাদুড় বা পশমওয়ালা প্রাণীদের বিবর্তনগত ফল কিনা, বোঝা কঠিন,” ঝাং বলেন। “হয়তো তা, হয়তো নয়।”
আরেকটি ধাঁধা রয়ে গেছে: কেন কুকুররা নিজেদের শুকাতে গিয়ে সোজা আপনার কাছেই আসে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করা হয়তো আরও কঠিন হবে।
———
C-LTMRs evoke wet dog shakes via the spinoparabrachial pathway. Science (2024).
DOI:10.1126/science.adq8834
নিয়মিত আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের নিউজলেটারে এবং ফলো করুন আমাদের টেলিগ্রাম, ইনস্টাগ্রাম, টুইটার এবং ফেসবুক-এ। এছাড়াও যুক্ত হতে পারেন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে।

এই নিবন্ধটি Creative Commons Attribution-NoDerivatives 4.0 International License-এর অধীনে লাইসেন্সকৃত। পুনঃপ্রকাশের জন্য পুনঃপ্রকাশের নির্দেশিকা দেখুুন।


