দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে গবেষণার পর, বিজ্ঞানীরা জেনেটিকস গবেষণায় এক যুগান্তকারী সাফল্য অর্জন করেছেন: তারা সফলভাবে ছয়টি এইপ (ape) বা নরবানর প্রজাতির সম্পূর্ণ জিনোম সিকোয়েন্স করেছেন—যা কিছু বছর আগেও অকল্পনীয় ছিল।
এই গবেষণার ফলাফল গত ৯ এপ্রিল, ২০২৫ এ Nature জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১২৩ জন গবেষক অংশ নিয়েছেন। এই সাফল্য বানর সংরক্ষণে সহায়ক হবে এবং মানুষ ও অন্যান্য বানরের মধ্যকার জিনগত পার্থক্য বোঝার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই গবেষনার ক্যাটেরিনা মাকোভা বলেন “আমি কখনও ভাবিনি, আমার জীবদ্দশায় এটি সম্ভব হবে।” উল্লেখ্য, তিনি প্রায় ২৫ বছর ধরে বানরের সম্পূর্ণ জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের জন্য কাজ করে আসছেন।
জিনোম হলো একটি কোষে থাকা ডিএনএ নির্দেশনার পূর্ণ সেট। সিকোয়েন্সিং মানে হলো, প্রতিটি ডিএনএ অণুর উপাদানগুলোর পরিচয় ও তাদের ক্রম নির্ধারণ করা। ২০০১ সালে মানুষের জিনোম সিকোয়েন্স সম্পন্ন হওয়ার পর, বিজ্ঞানীরা অন্যান্য বানরের জিনোম নিয়েও কাজ শুরু করেন—কারণ এরা মানবজাতির সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ জিনগত আত্মীয়।
“‘নন-হিউম্যান’ বানরদের জিনোম বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তা মানুষ কীভাবে বিবর্তিত হয়েছে এবং আমাদের মধ্যে কোন জিনগত বৈশিষ্ট্যগুলো অন্য বানরদের থেকে আলাদা করেছে তা জানতে সহায়তা করে”, বলেন মাকোভা।
পূর্বে বিজ্ঞানীরা কিছু বানর প্রজাতির আংশিক জিনোম সিকোয়েন্স করতে পেরেছিলেন, তবে কোনও একটি প্রজাতির সম্পূর্ণ জিনোম কখনও সম্পূর্ণরূপে সিকোয়েন্স করা যায়নি। কিন্তু এই গবেষণায় মাকোভা ও তার দল উন্নত সিকোয়েন্সিং প্রযুক্তি ও অ্যালগরিদম ব্যবহার করেছেন, যার মাধ্যমে তারা ডিএনএ-র দীর্ঘ অংশ পড়তে এবং এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত সম্পূর্ণ ক্রোমোজোম সিকোয়েন্স করতে পেরেছেন—কোনও ফাঁক না রেখেই। যা আগে কখনও সম্ভব হয়নি।
ক্রেডিট: Fiona Rogers/Nature Picture Library
এই প্রযুক্তির মাধ্যমে গবেষকরা ছয়টি বানর প্রজাতির জিনোম উন্মোচন করেছেন: শিম্পাঞ্জি, বনোবো, গরিলা, বোর্নিওর ওরাংওটাং, সুমাত্রার ওরাংওটাং এবং সিয়ামাং গিবন। তারা প্রতিটি প্রজাতিতে ৭৭০ থেকে ১,৪৮২টি সম্ভাব্য নতুন জিন খুঁজে পেয়েছেন। এছাড়াও, জিনোমের আগে পৌঁছাতে না পারা অংশে অদ্ভুত ডিএনএ গঠনও আবিষ্কৃত হয়েছে।
গবেষক লিলিয়ানা কোর্টেস অর্টিজ বলেন, “এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। তিনি আরো বলেন, সম্পূর্ণ জিনোম গবেষণায় আরও বিস্তারিত বিশ্লেষণ সম্ভব হবে, যা বিভিন্ন প্রাইমেট লাইনেজের বিবর্তন সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান বাড়াবে।
বিশেষ করে বিপন্ন বানর প্রজাতিগুলোর জিনগত বৈচিত্র্য বিশ্লেষণে এই তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে; এই ছয়টি প্রজাতিই বর্তমানে বিপন্ন বা অতি বিপন্ন তালিকাভুক্ত। ভবিষ্যতে এই জিনোম সিকোয়েন্স বিজ্ঞানীদের সাহায্য করতে পারে সেসব বানর জনগোষ্ঠী সনাক্ত করতে, যাদের মাঝে কিছু অপরিহার্য জিন আছে—যা সংরক্ষণ না করলে প্রজাতির টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে উঠতে পারে।
মাকোভা ও তার সহকর্মীদের সংগৃহীত এই তথ্য বিশ্বের যেকোনো বিজ্ঞানীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
———
Complete sequencing of ape genomes. Nature (2025).
DOI: 10.1038/s41586-025-08816-3
নিয়মিত আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের নিউজলেটারে এবং ফলো করুন আমাদের টেলিগ্রাম, ইনস্টাগ্রাম, টুইটার এবং ফেসবুক-এ। এছাড়াও যুক্ত হতে পারেন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে।

এই নিবন্ধটি Creative Commons Attribution-NoDerivatives 4.0 International License-এর অধীনে লাইসেন্সকৃত। পুনঃপ্রকাশের জন্য পুনঃপ্রকাশের নির্দেশিকা দেখুুন।



