অস্ট্রেলিয়ায় পাওয়া জীবাশ্মের চিহ্ন সরীসৃপদের স্থলভূমিতে আবির্ভাবকে কমপক্ষে ৩.৫ কোটি বছর পেছনে সরিয়ে দিয়েছে, ফলে মেরুদণ্ডী প্রাণীদের বিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় নতুন করে লেখার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। উত্তর ভিক্টোরিয়ার ‘স্নোই প্লেইন্স ফরমেশন’-এ দুই অপেশাদার জীবাশ্মবিদ একটি ৩৫৫ মিলিয়ন বছর পুরোনো শিলা খণ্ডে এই প্রাচীন পায়ের/নখের চিহ্ন আবিষ্কার করেন, যা গোটা বিশ্বের বিজ্ঞানীদের বিস্মিত করেছে।
এই ছাপগুলি কার্বনিফেরাস যুগের প্রারম্ভিক সময়ের, যা ইঙ্গিত দেয় যে সরীসৃপসদৃশ প্রাণীরা আগের ধারণার চেয়ে অনেক আগেই স্থলভূমিতে বিচরণ করছিল। এর আগে, সবচেয়ে পুরোনো পরিচিত অ্যামনিয়োট (যে দলে সরীসৃপ, পাখি ও স্তন্যপায়ী প্রাণী অন্তর্ভুক্ত) জীবাশ্ম প্রায় ৩২০ মিলিয়ন বছর আগের ছিল। নতুন গবেষণাপত্রটি গত ১৪ মে, ২০২৫ এ Nature জার্নালে প্রকাশিত হয়।
ফ্লিন্ডার্স ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক জন লং বলেন, “এটি পৃথিবীতে স্থলভূমিতে সরীসৃপসদৃশ প্রাণীদের চলাফেরার সবচেয়ে প্রাচীন প্রমাণ। এটি সরীসৃপ বিবর্তনের সময়রেখাকে আগের রেকর্ডের তুলনায় অন্তত ৩৫ মিলিয়ন বছর পিছিয়ে নিয়ে যায়।”
পায়ের ছাপগুলো সম্ভবত একটি ছোট, গোয়ান্না (গুইসাপ)-সদৃশ প্রাণীর ছিল। বিশ্লেষণে স্পষ্টভাবে নখরের ছাপ পাওয়া গেছে— যা প্রাচীন অ্যামনিয়োটদের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য। “সকল প্রাচীন অ্যামনিয়োটদের নখর ছিল, কিন্তু টেট্রাপডদের অন্য কোনো দলে তা প্রায় দেখা যায় না,” বলেন উপসাল্লা ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক পের এরিক আলবার্গ।
আরেক গবেষক ড. গ্রেজেগোর্জ নিয়েজভিয়েডজকি, জীবাশ্মটি প্রথম দেখে বিস্মিত হন। “মাত্র কয়েক সেকেন্ডেই আমি স্পষ্ট নখরের ছাপ দেখতে পেলাম,” তিনি বলেন। নখরের উপস্থিতি এবং পায়ের আকার দেখে গবেষকরা সিদ্ধান্তে পৌঁছান, এটি একটি আদিম সরীসৃপের পায়ের ছাপ।
এই আবিষ্কারের তাৎপর্য বিশাল। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি নির্দেশ করে যে টেট্রাপড ও অ্যামনিয়োটদের গুরুত্বপূর্ণ শাখাগুলোর উৎপত্তি ডেভোনিয়ান যুগেই ঘটেছিল — যা এখন পর্যন্ত পাওয়া জীবাশ্মগুলোর চেয়ে অনেক আগের। এটি আরও ইঙ্গিত দেয় যে চারপেয়ে মেরুদণ্ডী প্রাণীদের বিবর্তন পূর্বে ধারণার চেয়ে অনেক দ্রুতগতিতে ঘটেছিল।
ক্রেডিট: Long et al.
ফ্লিন্ডার্স ইউনিভার্সিটির ড. অ্যালিস ক্লেমেন্ট বলেন “জীবাশ্ম কঙ্কাল শুধু প্রাণীর গঠনের একটি দিক দেখায়। কিন্তু পায়ের ছাপ একটি নির্দিষ্ট মুহূর্তের গতির রেকর্ড রাখে — সেই প্রাণী কীভাবে ভূমির উপর চলাফেরা করছিল তা বলে দেয়।”
এই জীবাশ্ম শিলার বয়স নির্ধারণ করা হয়েছে শিলাটির মধ্যে পাওয়া মাছের জীবাশ্মের সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন পরিচিত স্থানের একই রকম প্রজাতির তুলনা করে, যার ফলে এটি প্রায় ৩৫৫ মিলিয়ন বছরের পুরোনো বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
“এই আবিষ্কার বিবর্তনের ইতিহাসের একটি অধ্যায় নতুন করে লিখে দিচ্ছে,” বলেন লা ট্রোব ইউনিভার্সিটির ড. জিলিয়ান গারভে। “এটি একই সঙ্গে ইঙ্গিত দেয় যে অস্ট্রেলিয়া এবং গন্ডওয়ানার প্রাচীন মহাদেশে এখনও কত অজানা কিছু আবিষ্কৃত হওয়ার অপেক্ষায় আছে।”
এই আবিষ্কার শুধু সরীসৃপের উৎপত্তি সম্পর্কে দীর্ঘদিনের ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করছে না, বরং জীবনের প্রারম্ভিক স্থলভাগের ইতিহাস উন্মোচনে অস্ট্রেলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও তুলে ধরছে।
———
Earliest amniote tracks recalibrate the timeline of tetrapod evolution. Nature (2025).
DOI: 10.1038/s41586-025-08884-5
নিয়মিত আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের নিউজলেটারে এবং ফলো করুন আমাদের টেলিগ্রাম, ইনস্টাগ্রাম, টুইটার এবং ফেসবুক-এ। এছাড়াও যুক্ত হতে পারেন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে।

এই নিবন্ধটি Creative Commons Attribution-NoDerivatives 4.0 International License-এর অধীনে লাইসেন্সকৃত। পুনঃপ্রকাশের জন্য পুনঃপ্রকাশের নির্দেশিকা দেখুুন।



