একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যারা চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে প্রবন্ধ লেখে, তাদের তুলনামূলকভাবে কম সক্রিয় থাকে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) আমাদের চিন্তা-শক্তিকে অলস করে দিচ্ছে কিনা, তা নিয়ে চলমান গবেষণার অংশ হিসেবেই এই গবেষণাটি করা হয়েছে।
ম্যাসাচুসেটসের MIT মিডিয়া ল্যাবের কম্পিউটার বিজ্ঞানী নাটালিয়া কসমিনা এবং তাঁর সহকর্মীরা বোস্টনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬০ জন ছাত্রছাত্রীকে নিয়ে এই গবেষণা চালান। তাদের তিনটি গ্রুপে ভাগ করা হয়: একটি দল শুধুমাত্র ChatGPT (GPT-4o) ব্যবহার করে প্রবন্ধ লেখে, আরেক দল Google সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহার করে (কোনও AI সহায়তা ছাড়াই), তৃতীয় দলকে ইন্টারনেট ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়।
সকল অংশগ্রহণকারীর মাথায় ইইজি (EEG) হেডসেট পরিয়ে রাখা হয়, যা মস্তিষ্কের কার্যকলাপ রেকর্ড করে। এতে দেখা গেছে, যারা ইন্টারনেট ছাড়াই প্রবন্ধ লিখেছে, তাদের মস্তিষ্কে সামগ্রিকভাবে সবচেয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করতে দেখা গেছে, বিশেষ করে মস্তিষ্কের পিছন থেকে সামনের সিদ্ধান্তগ্রহণ অংশ পর্যন্ত। এদের মনে রাখার ক্ষমতাও বেশি ছিল।
Google ব্যবহারকারীদের মধ্যে মস্তিষ্কের দৃষ্টি ও স্মৃতিসম্পর্কিত এলাকায় বেশি সক্রিয়তা দেখা গেছে। আর যারা চ্যাটবট ব্যবহার করেছে, তাদের মস্তিষ্কের সক্রিয়তা সবচেয়ে কম ছিল।
যারা প্রথমে চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে পরে তা বাদ দিয়ে লেখে, তাদের মস্তিষ্ক কিছুটা বেশি সক্রিয় হয় — কিন্তু যারা প্রথম থেকেই কোনও অনলাইন টুল ছাড়া লিখেছে, তাদের মতো নয়। এই পর্যবেক্ষণ থেকে বিজ্ঞানীরা বলছেন, AI ব্যবহার বেশি হলে সৃজনশীলতা ও চিন্তার অভ্যাস দুর্বল হতে পারে।
তবে গবেষণাটি প্রাথমিক পর্যায়ে, এতে অংশগ্রহণকারী ছিল অল্পসংখ্যক (মাত্র ৬০ জন), এবং গবেষণাটি এখনো পিয়ার-রিভিউড নয়। তাই নাটালিয়া কসমিনা নিজেই বলেছেন, “এই গবেষণাটি শক্তভাবে বলছে না যে মস্তিষ্ক বোকা হয়ে যাচ্ছে।” এই গবেষণার ফলাফলের অতিরিক্ত ব্যাখ্যা না করাই ভালো।
গবেষণায় একটি অদ্ভুত ফলাফলও পাওয়া গেছে—যারা প্রথমে নিজেরাই লিখে পরে চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে, তাদের মস্তিষ্কের কার্যকলাপ বরং বাড়ে। অর্থাৎ, AI কখন ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ।
ডেনমার্কের কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাবিদ গুইডো ম্যাকরানস্কি বলছেন, AI-ভিত্তিক চ্যাটবট যদি শিক্ষার্থীদের উত্তর না দিয়ে প্রশ্ন করতে শেখায়, তাহলে তা বেশি উপকারী।
চ্যাটজিপিটি ও AI টুল ব্যবহারে কিছু ক্ষেত্রে মস্তিষ্ক কম সক্রিয় হয়, বিশেষত যখন টুলের ওপর পুরোপুরি নির্ভর করা হয়। তবে AI কখন ও কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটাই আসল চাবিকাঠি — যা ভবিষ্যতের শিক্ষা ও সৃজনশীলতায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
———
Your Brain on ChatGPT: Accumulation of Cognitive Debt when Using an AI Assistant for Essay Writing Task. arXiv:2506.08872 [cs.AI]
DOI: 10.48550/arXiv.2506.08872
নিয়মিত আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের নিউজলেটারে এবং ফলো করুন আমাদের টেলিগ্রাম, ইনস্টাগ্রাম, টুইটার এবং ফেসবুক-এ। এছাড়াও যুক্ত হতে পারেন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে।

এই নিবন্ধটি Creative Commons Attribution-NoDerivatives 4.0 International License-এর অধীনে লাইসেন্সকৃত। পুনঃপ্রকাশের জন্য পুনঃপ্রকাশের নির্দেশিকা দেখুুন।


