মানব মনের জটিল কার্যপ্রণালী বুঝতে বহুদিন ধরেই বিজ্ঞানীরা একটি সমন্বিত তত্ত্ব বা মডেলের স্বপ্ন দেখেছেন। সেই স্বপ্নকে বাস্তবের দিকে এক বিশাল পদক্ষেপ এগিয়ে নিয়ে এসেছে একটি নতুন মডেল Centaur (সেন্টোর)।
গত ২ জুলাই, ২০২৫ এ Nature জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে বিজ্ঞানীরা এমন এক শক্তিশালী কম্পিউটেশনাল মডেল তৈরির কথা বর্ণনা, যা বিভিন্ন মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষায় মানুষের আচরণ ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারে তাও আবাে শুধুমাত্র প্রাকৃতিক ভাষায় প্রকাশযোগ্য তথ্য ব্যবহার করেই। এই মডেলটিকে ট্রেইন করা হয়েছে Psych-101 নামক একটি বিশাল ডেটাসেটের উপর, যেখানে ৬০,০০০ জনেরও বেশি অংশগ্রহণকারীর ১৬০টি ভিন্ন পরীক্ষার প্রায় ১ কোটিরও বেশি সিদ্ধান্ত রেকর্ড করা হয়েছে।
Centaur মূলত মেটা-র তৈরি Llama 3.1 নামের একটি এলএলএম (large language model)-এর উপর ভিত্তি করে তৈরি। এতে যুক্ত করা হয়েছে low-rank adapter প্রযুক্তি, যা খুবই সামান্য পরিমাণ নতুন প্যারামিটার ব্যবহার করেই বিশাল মডেলটিকে মানুষের মতো আচরণ শেখাতে পারে। মডেলটি ৫ দিন ধরে একটি A100 GPU-তে ট্রেনিং দেওয়া হয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, Centaur সাধারণ মানুষের সিদ্ধান্তগুলো খুব নির্ভুলভাবে অনুমান করতে পারে। নতুন বা পূর্বে দেখা না-পাওয়া পরীক্ষা, কাঠামো ও কভার স্টোরিতেও সফলভাবে জেনারেলাইজ করতে পারে। তার অভ্যন্তরীণ রিপ্রেজেন্টেশন মানুষের নিউরাল এক্টিভিটির (fMRI) এর সাথেও বেশি বলেয়েছে।
সেন্টোর কেবল গড়পড়তা আচরণ নয়, বরং মানুষের মধ্যে বিদ্যমান বিচিত্র সিদ্ধান্তের ধরণগুলোও তুলে ধরে। এটি এমনকি সেইসব কাজেও ব্যর্থ হয় যেখানে মানুষ নয় বরং যান্ত্রিক বুদ্ধিমত্তার ধরন বোঝা দরকার — যা প্রমাণ করে, মডেলটি সত্যিই মানুষের চিন্তাভাবনার একটি সন্নিকটে ছায়াপ্রতিচ্ছবি তৈরি করতে সক্ষম।
এই গবেষণার অন্যতম দিক হলো, সেন্টোর শুধু ভবিষ্যদ্বাণী করেই থেমে থাকে না; এটি বিজ্ঞানীদেরকে মানব সিদ্ধান্ত গ্রহণের ব্যাখ্যা ও নতুন তত্ত্ব তৈরিতে সাহায্য করে। এক উদাহরণে, DeepSeek-R1 নামে অপর একটি মডেলকে Psych-101 ডেটা ব্যাখ্যা করতে বলা হলে, এটি এমন এক কৌশল বের করে, যা পূর্বে বিবেচিত হয়নি, এবং তা থেকে তৈরি মডেল মানুষের আচরণের ব্যাখ্যায় আগের যেকোনো মডেলের চেয়ে ভালো করে। এরপরে Centaur-এর সহায়তায় সেই মডেলকে আরও নিখুঁত ও ব্যাখ্যাযোগ্য রূপে পরিণত করা যায়।
Centaur মানুষের চিন্তা-চেতনা ধরার পথে এক নতুন যুগের সূচনা। এটি শুধু মনস্তত্ত্ব নয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও নিউরোসায়েন্সের সংযোগস্থলে দাঁড়িয়ে আমাদেরকে জানিয়ে দিচ্ছে— আমরা এখন এমন একটি সময়ে পৌঁছেছি, যেখানে মেশিনের মাধ্যমে মানবমনের গভীরে প্রবেশ করার দরজা খুলে গেছে। তবে এই যাত্রা তো কেবল শুরু।
———
A foundation model to predict and capture human cognition. Nature (2025).
DOI: 10.1038/s41586-025-09215-4
নিয়মিত আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের নিউজলেটারে এবং ফলো করুন আমাদের টেলিগ্রাম, ইনস্টাগ্রাম, টুইটার এবং ফেসবুক-এ। এছাড়াও যুক্ত হতে পারেন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে।

এই নিবন্ধটি Creative Commons Attribution-NoDerivatives 4.0 International License-এর অধীনে লাইসেন্সকৃত। পুনঃপ্রকাশের জন্য পুনঃপ্রকাশের নির্দেশিকা দেখুুন।


