বাংলাদেশের নরসিংদী জেলার ছয়টি উপজেলায় বাজার থেকে সংগ্রহ করা সোনালী মুরগির মাংসের নমুনায় পাওয়া গেল বিপজ্জনক মাত্রায় অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী Escherichia coli জীবাণু। গত ১৪ জুলাই, ২০২৫ Scientific Reports জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, এসব মাংস থেকে বিচ্ছিন্ন E. coli-র মধ্যে অনেকগুলোই বহুধরনের অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে, বিশেষ করে বিটা-ল্যাকটাম শ্রেণির অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে। গবেষকরা ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এই নমুনা সংগ্রহ করেন।
৩৯০টি মাংসের নমুনা থেকে ৬৮% ক্ষেত্রে E. coli শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮% ছিল মানবদেহে ডায়রিয়াসহ নানা অন্ত্রঘটিত রোগের জন্য দায়ী enteropathogenic E. coli (EPEC)। বাকি ৯২% ছিল non-EPEC, যারা তুলনামূলক কম পরিচিত হলেও অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধের দিক থেকে বেশি বিপজ্জনক হয়ে উঠছে।
বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রায় ৪২% E. Coli ESBL (Extended Spectrum Beta-Lactamase) উৎপাদনকারী অর্থাৎ এরা সেফট্রিয়াক্সন, সেফটোজিডিমের মতো তৃতীয় প্রজন্মের সেফালোস্পোরিন গুলোকে নিষ্ক্রিয় করতে পারে। আরও ভয়ংকর বিষয় হলো, কিছু জীবাণুতে একাধিক প্রতিরোধী জিন যেমন blaTEM, blaCTX-M-2a, ও blaOXA-1 একসাথে পাওয়া গেছে। আবার ৯% জীবাণুতে পাওয়া গেছে blaNDM-1 জিন, যা শক্তিশালী কার্বাপেনেম অ্যান্টিবায়োটিককেও নিষ্ক্রিয় করে দিতে পারে, এই জিন সাধারণত হাসপাতাল-সংশ্লিষ্ট গুরুতর সংক্রমণের জন্য দায়ী।
গবেষণাটি আরও দেখায় যে, এসব জীবাণুর মধ্যে ১০০% ছিল অ্যাম্পিসিলিনে সম্পূর্ণ প্রতিরোধী। এছাড়া ইরিথ্রোমাইসিন, কো-ট্রাইমোক্সাজল, ও তৃতীয় প্রজন্মের সেফালোসপরিনের প্রতিও উচ্চমাত্রায় প্রতিরোধ দেখা গেছে। তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে কম প্রতিরোধ দেখা গেছে অ্যামোক্সিসিলিন-ক্ল্যাভুলানেট ও সিপ্রোফ্লক্সাসিনের বিরুদ্ধে।
গবেষকদের মতে, এ ধরনের অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (AMR) প্রাণিজ উৎপাদনে অতি মাত্রায় ও অনিয়ন্ত্রিত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ফল। সঠিক নিয়ন্ত্রণ না থাকলে এসব প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া মানুষের শরীরে পৌঁছে যেতে পারে খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে এবং একবার যদি মানবদেহে ছড়িয়ে পড়ে, তখন সাধারণ সংক্রমণের চিকিৎসাও হয়ে পড়তে পারে দুঃসাধ্য।
এই গবেষণাটি বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য একটি জোরালো সতর্কবার্তা। গবেষকরা বেশ কিছু দিক থেকে সতর্ক হবার কথা বলছেন। বিশেষ করে মুরগি উৎপাদনে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে কড়া নিয়ন্ত্রণমালা। এছাড়াও খামার থেকে বাজার পর্যন্ত সঠিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, সারা দেশে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু সহ “One Health” দৃষ্টিভঙ্গিতে মানুষ, প্রাণী ও পরিবেশকে একসাথে বিবেচনা করে নীতিমালা প্রণয়ন করার কথাও বলেছেন।
———
Molecular characterization of multidrug-resistant and extended-spectrum beta-lactamase (ESBL)-producing Escherichia coli isolated from Sonali chicken meat in Bangladesh. Sci Rep (2025).
DOI: 10.1038/s41598-025-96073-9
নিয়মিত আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের নিউজলেটারে এবং ফলো করুন আমাদের টেলিগ্রাম, ইনস্টাগ্রাম, টুইটার এবং ফেসবুক-এ। এছাড়াও যুক্ত হতে পারেন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে।

এই নিবন্ধটি Creative Commons Attribution-NoDerivatives 4.0 International License-এর অধীনে লাইসেন্সকৃত। পুনঃপ্রকাশের জন্য পুনঃপ্রকাশের নির্দেশিকা দেখুুন।


