বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ইলিশ শুধু স্বাদের জন্য নয়, পুষ্টিগুণের কারণেও সারা বিশ্বে খ্যাত। সম্প্রতি কক্সবাজার, চাঁদপুর ও পটুয়াখালী থেকে সংগৃহীত ইলিশের ডিম (roe) নিয়ে পরিচালিত এক গবেষণায় জানা গেছে, এই সুস্বাদু খাদ্য উপাদান আসলে পুষ্টির এক ভাণ্ডার। গবেষণায় ডিমের প্রোটিন, লিপিড, অ্যামাইনো অ্যাসিড, ফ্যাটি অ্যাসিড ও খনিজ উপাদান বিশ্লেষণ করা হয় এবং একইসঙ্গে ভোক্তাদের স্বাদ পরীক্ষার মাধ্যমে এর গ্রহণযোগ্যতাও যাচাই করা হয়।
ফলাফল বলছে, ইলিশের ডিমে গ্লুটামিক অ্যাসিড, অ্যালানিন, অ্যাসপার্টিক অ্যাসিড ও লিউসিনের মতো প্রয়োজনীয় অ্যামাইনো অ্যাসিড প্রচুর পরিমাণে আছে, যা মানবদেহের টিস্যু মেরামত ও রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি এতে পাওয়া গেছে ওমেগা–৩ ফ্যাটি অ্যাসিড যেমন DHA ও EPA, যা হৃদরোগ প্রতিরোধ, মস্তিষ্কের বিকাশ এবং চোখের সুস্থতায় সহায়ক। এ বিষয়ক গবেষণাটি সম্প্রতি Scientific Reports জার্নালে প্রকাশিত হয়।
ক্রেডিট: Muhammad Anamul Kabir et al./Scientific Reports
তবে পুষ্টিগুণ ও স্বাদের দিক থেকে ভৌগোলিক অবস্থানের প্রভাব ছিল চোখে পড়ার মতো। কক্সবাজারের ইলিশের ডিমে সর্বোচ্চ প্রোটিন পাওয়া গেছে, সম্ভবত সমুদ্রের অনুকূল পরিবেশ ও খাদ্য প্রাচুর্যের কারণে। চাঁদপুরের ইলিশের ডিমে খনিজ উপাদানের বৈচিত্র্য তুলনামূলকভাবে বেশি থাকলেও, স্বাদ পরীক্ষায় তা পিছিয়ে ছিল। অপরদিকে পটুয়াখালীর ইলিশের ডিমে সবচেয়ে বেশি ওমেগা–৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ও খনিজ পাওয়া গেছে এবং স্বাদ পরীক্ষাতেও সেগুলো সর্বোচ্চ মান অর্জন করেছে। বিশেষ করে এর চেহারা ও স্বাদে পটুয়াখালীর ডিম অন্য দুই অঞ্চলকে ছাড়িয়ে গেছে।
ক্রেডিট: Muhammad Anamul Kabir et al./Scientific Reports
গবেষকদের মতে, লবণাক্ততা, পানির খনিজ উপাদান এবং খাদ্যের প্রাপ্যতার মতো পরিবেশগত বৈচিত্র্য এই পার্থক্যের জন্য দায়ী। তাই ইলিশের ডিম শুধু উৎসবমুখর খাবার হিসেবেই নয়, বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যকর খাদ্য উপাদান হিসেবেও বিবেচনা করা যেতে পারে।
———
Nutritional profiling and sensory evaluation of hilsa Tenualosa Ilisha (Hamilton, 1822) eggs roe from three different locations of Bangladesh. Sci Rep (2025).
DOI: 10.1038/s41598-025-16332-7
নিয়মিত আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের নিউজলেটারে এবং ফলো করুন আমাদের টেলিগ্রাম, ইনস্টাগ্রাম, টুইটার এবং ফেসবুক-এ। এছাড়াও যুক্ত হতে পারেন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে।

এই নিবন্ধটি Creative Commons Attribution-NoDerivatives 4.0 International License-এর অধীনে লাইসেন্সকৃত। পুনঃপ্রকাশের জন্য পুনঃপ্রকাশের নির্দেশিকা দেখুুন।




