ব্ল্যাক হোলও শক্তি পায় ‘স্ন্যাকিং’ করে। তবে তাদের খাবারের ধরন আমাদের চেয়ে একটু আলাদা। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এখন পর্যন্ত ব্ল্যাক হোল থেকে ধরা পড়া সবচেয়ে উজ্জ্বল আলোর বিস্ফোরণ যা সর্বোচ্চ অবস্থায় সূর্যের চেয়ে ১০ ট্রিলিয়ন গুণ বেশি উজ্জ্বল ছিল। আর এ ঘটনা ঘটেছিল একটি ব্ল্যাক হোল প্রায় ৩০ সূর্য ভর সমান এক বিশাল নক্ষত্রকে গিলে ফেলায়। এই গবেষণার ফল গত ৪ নভেম্বর, ২০২৫ Nature Astronomy জার্নালে প্রকাশিত হয়।
২০১৮ সালে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা প্রথম যখন এই অদ্ভুত বস্তুকে দেখলেন, তখন তারা বুঝতেই পারেননি যে এটি একটি ভয়ংকর সুপারফ্লেয়ার। বস্তুটি উজ্জ্বল হতে দেখে গবেষকেরা সেটিকে পর্যবেক্ষণ করেন Palomar Observatory–র ৫.১ মিটার Hale Telescope দিয়ে। কিন্তু আলোর স্পেকট্রাম দেখে তারা হতাশ হন, মনে করেন তেমন কিছুই আকর্ষণীয় নয়।
কিন্তু ২০২৩ সালে তারা লক্ষ্য করেন, পাঁচ বছর পরও বস্তুটি অস্বাভাবিকভাবে উজ্জ্বল। এরপর তারা Hawaii–এর W. M. Keck Observatory দিয়ে আরো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করলে বুঝতে পারেন যে এটি প্রায় ৩ মিলিয়ন কিলোপার্সেক, মানে প্রায় ১০ বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে। এত দূর থেকেও এত উজ্জ্বল দেখা যাওয়ায় বুঝতে হয়, আলোর জেটগুলো অত্যন্ত শক্তিশালী ছিল। বর্তমানে গবেষকেরা বলছেন, এই ফ্লেয়ারটি পূর্বে পরিচিত যেকোনো ব্ল্যাক হোল–জাত আলোর বিস্ফোরণের তুলনায় ৩০ গুণ বেশি উজ্জ্বল।
লেখকেরা বিভিন্ন সম্ভাবনার পরীক্ষা করেন যেমন, কাছাকাছি কোনো সুপারনোভা কি ছিল? নাকি মাধ্যাকর্ষণের আলো-টান প্রভাবের কারণে আসল তুলনায় বেশি উজ্জ্বল দেখাচ্ছে? কিন্তু কোনোটিই পর্যবেক্ষণের সঙ্গে মেলেনি।
সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা, একটি বিশাল নক্ষত্র ব্ল্যাক হোলের খুব কাছে চলে গিয়েছিল। ব্ল্যাক হোলের প্রবল মাধ্যাকর্ষণ শক্তিতে নক্ষত্রটি ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় এবং তার জেট থেকে নির্গত আলো আগের তুলনায় প্রায় ৪০ গুণ বাড়ে। গবেষকদের ধারণা, যেহেতু ফ্লেয়ার এখনো পুরোপুরি নিভে যায়নি তাই বলা যায় নক্ষত্রটিকে এখনো পুরোপুরি গ্রাস করা শেষ হয়নি।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এখন অপেক্ষায়, এ আলো ধীরে ধীরে নিভে যাবে, নাকি আশপাশের গ্যাস–ধুলোর সঙ্গে প্রতিক্রিয়ায় আবারো উজ্জ্বল হয়ে উঠবে? হার্ভার্ড–স্মিথসোনিয়ান সেন্টারের জ্যোতির্বিদ জোসেফ মিকাইল মনে করেন, ভবিষ্যতের sky-survey প্রযুক্তি এমন আরও অনেক ‘আলোকস্তম্ভ’ খুঁজে বের করতে পারবে। তার ভাষায়, “এ ধরনের ঘটনা হয়তো ভবিষ্যতে সাধারণই হয়ে যাবে।”
ক্যালটেকের Matthew Graham বলেন, রহস্যময় এসব ফ্লেয়ার বুঝতে হলে জ্যোতির্বিদদের দীর্ঘসময় আকাশ পর্যবেক্ষণ করতে হবে। এই ব্ল্যাক হোলটি এত দূরে যে এর দুই বছরের কার্যকলাপ পৃথিবীতে চোখে পড়তে লাগে প্রায় সাত বছর—মানে আমরা ঘটনাটি চার ভাগের এক ভাগ গতিতে দেখছি। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা পুরোপুরি বুঝতে হলে “এটি হবে এক দীর্ঘ পথচলা”।
———
An extremely luminous flare recorded from a supermassive black hole. Nat Astron (2025).
DOI: 10.1038/s41550-025-02699-0
নিয়মিত আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের নিউজলেটারে এবং ফলো করুন আমাদের টেলিগ্রাম, ইনস্টাগ্রাম, টুইটার এবং ফেসবুক-এ। এছাড়াও যুক্ত হতে পারেন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে।

এই নিবন্ধটি Creative Commons Attribution-NoDerivatives 4.0 International License-এর অধীনে লাইসেন্সকৃত। পুনঃপ্রকাশের জন্য পুনঃপ্রকাশের নির্দেশিকা দেখুুন।


