এই সাইটটি ব্যবহার করে, আপনি আমাদের গোপনীয়তা নীতি এবং ব্যবহারের শর্তাবলীতে সম্মত হন।
Accept
বিজ্ঞানবার্তাবিজ্ঞানবার্তাবিজ্ঞানবার্তা
  • প্রচ্ছদ
  • ম্যাগাজিন
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • গোপনীয়তা নীতি
  • ইন্টারেস্ট কাস্টমাইজ
  • বুকমার্ক
পড়ছেন: কেন কিছু মানুষ প্রিয়জনের মৃত্যুর পর শোক কাটিয়ে উঠতে পারে না?
Notification আরো দেখুন
Font ResizerAa
বিজ্ঞানবার্তাবিজ্ঞানবার্তা
Font ResizerAa
  • পদার্থবিজ্ঞান
  • প্রযুক্তি
  • মহাকাশ
  • ঔষধ
  • স্বাস্থ্য
  • জীবাশ্ম বিজ্ঞান
  • জীববিজ্ঞান
  • ভাইরাস
  • ভূতত্ত্ব
  • জেনেটিক্স
  • রসায়ন
  • গণিত
খোঁজ
  • প্রচ্ছদ
  • ম্যাগাজিন
  • আমাদের সম্পর্কে
  • গোপনীয়তা নীতি
  • যোগাযোগ
  • ইন্টারেস্ট কাস্টমাইজ
  • বুকমার্ক
  • আর্কাইভ
Have an existing account? Sign In
Follow US
বিজ্ঞানবার্তা > সংবাদ > স্বাস্থ্য > কেন কিছু মানুষ প্রিয়জনের মৃত্যুর পর শোক কাটিয়ে উঠতে পারে না?
স্বাস্থ্য

কেন কিছু মানুষ প্রিয়জনের মৃত্যুর পর শোক কাটিয়ে উঠতে পারে না?

নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘস্থায়ী শোকজনিত সমস্যায় মস্তিষ্কের রিওয়ার্ড ও আবেগ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় স্পষ্ট জৈবিক পরিবর্তন ঘটে। এই আবিষ্কার আগেভাগে এই রোগে আক্রান্ত মানুষ শনাক্ত এবং কার্যকর চিকিৎসা পরিকল্পনায় সহায়তা করতে পারে।

ফাইজাহ্ সুলতানা
ফাইজাহ্ সুলতানা
প্রকাশিত: ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
হালনাগাদ: 24 ফেব্রুয়ারি, 2026
পড়তে 5 মিনিট লাগবে
শেয়ার
দীর্ঘস্থায়ী শোকজনিত ব্যাধি PGD-তে আক্রান্ত ব্যক্তিরা যখন মৃত্যু-সম্পর্কিত ছবি দেখেন (যেমন কবরস্থান) তখন স্মৃতি এবং আবেগ প্রক্রিয়াকরণের সাথে জড়িত মস্তিষ্কের অংশগুলির কার্যকলাপ বৃদ্ধি পায়।FreePix
শেয়ার

স্বাভাবিকভাবেই প্রিয়জনের মৃত্যু মানুষের জীবনে গভীর আঘাত রেখে যায়। শুরুতে তীব্র কষ্ট, শূন্যতা, কান্না আর অসহায়ত্ব কাজ করে। সময়ের সঙ্গে বেশিরভাগ মানুষ ধীরে ধীরে মানিয়ে নেয়। কিন্তু কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এই শোক থামে না। মাসের পর মাস, কখনও বছরের পর বছর ধরে যন্ত্রণা একই রকম তীব্র থাকে। এই অবস্থাকে বলা হয় Prolonged Grief Disorder (PGD) বা দীর্ঘস্থায়ী শোকজনিত মানসিক ব্যাধি।

গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে Trends in Neuroscience জার্নালে প্রকাশিত এক বৈজ্ঞানিক পর্যালোচনা জানাচ্ছে, এই সমস্যা নিছক মানসিক দুর্বলতা নয়। এর পেছনে রয়েছে মস্তিষ্কের গভীর জৈবিক পরিবর্তন। গবেষকদের মতে, এই আবিষ্কার ভবিষ্যতে আনস্টেবল মানুষ শনাক্ত করতে এবং তাদেরকে দ্রুত সহায়তা দিতে সাহায্য করবে।

পরিসংখ্যান বলছে, শোকগ্রস্ত মানুষের প্রায় ৫ শতাংশ এই দীর্ঘস্থায়ী শোকজনিত সমস্যায় ভোগেন। ২০২২ সালে আমেরিকান সাইকিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশন প্রথমবারের মতো Prolonged Grief Disorder-কে মানসিক রোগের আনুষ্ঠানিক তালিকায় যুক্ত করে। সিদ্ধান্তটি ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। অনেকের প্রশ্ন ছিল, এতে কি স্বাভাবিক মানবিক শোককে রোগ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। নতুন এই গবেষণা সেই বিতর্কে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি যোগ করল।

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলস-এর গবেষক রিচার্ড ব্রায়ান ও তাঁর দল শোকগ্রস্ত মানুষের মস্তিষ্কের কার্যকলাপ বিশ্লেষণ করেন। তাঁরা দীর্ঘস্থায়ী শোকজনিত সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের মস্তিষ্কের কার্যকলাপ তুলনা করেন পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডার (PTSD), বিষণ্নতা ও উদ্বেগজনিত রোগে আক্রান্ত মানুষের সঙ্গে।

তাঁদের বিশ্লেষণে দেখা যায়, কিছু মিল থাকলেও PGD-র ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের রিওয়ার্ড ও মোটিভেশান সংক্রান্ত সার্কিটে পরিবর্তন অনেক বেশি স্পষ্ট। বিশেষ করে nucleus accumbens নামের একটি অংশ, যা আনন্দ ও প্রেরণার সঙ্গে যুক্ত, সেখানে অস্বাভাবিক সক্রিয়তা দেখা যায়।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, শোকসংক্রান্ত শব্দ, ছবি বা স্মৃতির মুখোমুখি হলে এই অংশে সক্রিয়তা স্বাভাবিক মানুষের তুলনায় অনেক বেশি বেড়ে যায়। এই সক্রিয়তার মাত্রা যত বেশি, মৃত প্রিয়জনের জন্য আকুলতা তত গভীর হয়।

গবেষণায় আরও দেখা যায়, দীর্ঘস্থায়ী শোকজনিত সমস্যায় ভোগা মানুষের মস্তিষ্ক মৃত ব্যক্তির স্মৃতি ও চিহ্নের দিকে বেশি ঝুঁকে থাকে। বিপরীতে, PTSD বা অ্যাংজাইটি সমস্যায় আক্রান্ত মানুষের মস্তিষ্ক সাধারণত এ ধরনের স্মৃতি এড়িয়ে চলার প্রবণতা তৈরি করে।

এ ছাড়া amygdala এবং right hippocampus নামের দুটি অংশে অস্বাভাবিক সক্রিয়তা ধরা পড়ে। এই অঞ্চল দুটি আবেগ নিয়ন্ত্রণ ও স্মৃতির সঙ্গে যুক্ত। কবরস্থান বা মৃত্যুসংক্রান্ত ছবি দেখালে এই অংশে অতিরিক্ত উত্তেজনা তৈরি হয়। অথচ শান্ত প্রকৃতি বা সুন্দর দৃশ্য দেখালে সেখানে স্বাভাবিকের তুলনায় কম প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। গবেষকদের মতে, এর মানে দাঁড়ায়, আবেগ নিয়ন্ত্রণে সমস্যা এবং আনন্দ অনুভবের ক্ষমতা কমে যাওয়া।

রিচার্ড ব্রায়ানের ভাষায়, এই অবস্থায় মস্তিষ্কের রিওয়ার্ড সিস্টেম যেন মৃত প্রিয়জনের স্মৃতিতে আটকে যায়। অন্য কোনো উৎস থেকে আনন্দ বা তৃপ্তি খুঁজে পায় না। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে তীব্র আকুলতা ও শোক বজায় থাকে। তাঁর মতে, স্বাভাবিক শোক আর দীর্ঘস্থায়ী শোকের মূল পার্থক্য সময় ও মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতায়। দীর্ঘস্থায়ী শোকে মানুষ যেন আটকে পড়ে।

তবে গবেষকরা বলছেন, শুধু ব্রেন স্ক্যান দিয়ে এই রোগ নির্ণয় করা সহজ নয়। কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির গবেষক ক্যাথরিন শিয়ার জানান, শোকের অভিজ্ঞতা অত্যন্ত জটিল ও ব্যক্তিভেদে ভিন্ন। একবারের স্ক্যানে পুরো চিত্র ধরা পড়ে না। তিনি বলেন, নতুন গবেষণায় “টু-পারসন নিউরোসায়েন্স” নামে একটি পদ্ধতি নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে, যেখানে দুইজন মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগের সময় মস্তিষ্কের কার্যকলাপ দেখা হয়। এতে সামাজিক পরিবেশ, সাংস্কৃতিক প্রভাব এবং সহায়তার ভূমিকা বোঝা সহজ হয়।

এই পর্যালোচনার সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা রয়েছে ভবিষ্যৎ ঝুঁকি নির্ণয়ে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রিয়জন হারানোর এক বছরের মধ্যে করা ব্রেন স্ক্যানে amygdala এবং পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সঙ্গে যুক্ত অঞ্চলের মধ্যে সংযোগ যত বেশি ছিল, পরবর্তী ছয় মাসে শোকের তীব্রতা তত বেড়েছে। এর মানে, শুরুতেই কিছু মস্তিষ্কীয় সংকেত দেখে বোঝা যেতে পারে, কে দীর্ঘস্থায়ী শোকে ভুগতে পারেন।

মেডিক্যাল কলেজ অব উইসকনসিন-এর গবেষক জোসেফ গোভিয়াস বলেন, আগেভাগে ঝুঁকি শনাক্ত করা গেলে দ্রুত সহায়তা দেওয়া সম্ভব। এতে কাউন্সেলিং কিংবা বিশেষায়িত থেরাপি শুরু করা সহজ হয়।

গবেষকরা আরও জানান, এই রোগের নির্দিষ্ট জৈবিক প্রক্রিয়া বোঝা গেলে ভুল রোগ নির্ণয় কমবে। চিকিৎসাও হবে লক্ষ্যভিত্তিক। দীর্ঘস্থায়ী শোক সাধারণত অ্যান্টিডিপ্রেসেন্টে ভালো সাড়া দেয় না। বরং শোক-কেন্দ্রিক সাইকোথেরাপি বেশি কার্যকর। তবে বিষণ্নতার সঙ্গে একসঙ্গে দেখা দিলে ওষুধ ও থেরাপির সমন্বয় ভালো ফল দেয়।

এই গবেষণা দেখাচ্ছে, দীর্ঘস্থায়ী শোক একটি স্বতন্ত্র মানসিক সমস্যা। একে অবহেলা করা বা স্বাভাবিক শোক ভেবে ফেলে রাখার সুযোগ নেই। সময়মতো সঠিক সহায়তা পেলে বহু মানুষ এই গভীর মানসিক যন্ত্রণা থেকে ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসতে পারে।

———

A neurobiological perspective on prolonged grief disorder. Trends in Neuroscience (2026).
DOI: 10.1016/j.tins.2026.01.001

নিয়মিত আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের নিউজলেটারে এবং ফলো করুন আমাদের টেলিগ্রাম, ইনস্টাগ্রাম, টুইটার এবং ফেসবুক-এ। এছাড়াও যুক্ত হতে পারেন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে।

Creative Commons License

এই নিবন্ধটি Creative Commons Attribution-NoDerivatives 4.0 International License-এর অধীনে লাইসেন্সকৃত। পুনঃপ্রকাশের জন্য পুনঃপ্রকাশের নির্দেশিকা দেখুুন।
প্রবন্ধটি শেয়ার করুন
Facebook Whatsapp Whatsapp লিঙ্ক কপি করুন প্রিন্ট
পূর্ববর্তী প্রবন্ধ ব্যায়াম মস্তিষ্কের স্নায়ু সংযোগ নতুনভাবে গড়ে তোলে, বাড়ায় শরীরের সহনশীলতা
পরবর্তী প্রবন্ধ আমাদের গ্যালাক্সির কেন্দ্রে কি ব্ল্যাক হোল, নাকি ডার্ক ম্যাটার
মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন জবাব বাতিল

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সাম্প্রতিক পোস্ট
  • বলিভিয়ার বনে মিলল নতুন প্রজাতির বিড়াল
  • মানব মস্তিষ্ক দুটি আলাদা স্নায়ুতন্ত্রের সংমিশ্রণ থেকে বিকশিত হতে পারে
  • ২০০ বছরের পুরোনো নেভিয়ার-স্টোকস সমীকরণের সমাধান খুঁজে পাওয়ার দাবি ওপেনএআই-এর
  • বিড়ালের কিডনিতে ১১০ বছরের পুরোনো রহস্যের সন্ধান
  • আবিষ্কৃত হলো বায়ুমণ্ডলযুক্ত এক্সোপ্ল্যানেট, সেখানে কি প্রাণের থাকতে পারে?

বিভাগসমূহ

  • পদার্থবিজ্ঞান
  • জীববিজ্ঞান
  • মহাকাশ
  • রসায়ন
  • প্রকৃতি
  • প্রত্নতত্ত্ব
  • জীবাশ্ম বিজ্ঞান
  • জ্যোতির্বিজ্ঞান

আমাদের সম্পর্কে

বিজ্ঞানবার্তা একটি অলাভজনক বিজ্ঞান সংবাদ প্রচার মাধ্যম।
প্রয়োজনীয় লিঙ্ক
  • আমাদের সম্পর্কে
  • ম্যাগাজিন
  • বিজ্ঞানবার্তা টিম
  • পুনঃপ্রকাশের নির্দেশিকা
  • যোগাযোগ
  • আমার বুকমার্ক
  • গোপনীয়তা নীতি
শীর্ষ বিভাগসমূহ
  • মহাকাশ
  • জ্যোতির্বিজ্ঞান
  • জীববিজ্ঞান
  • স্বাস্থ্য
  • প্রাণী
  • জীবাশ্ম বিজ্ঞান
  • জেনেটিক্স

সাবস্ক্রাইব

অবিলম্বে আমাদের নতুন নিবন্ধের খোঁজ পেতে আমাদের নিউজলেটার সাবস্ক্রাইব করুন!

বিজ্ঞানবার্তাবিজ্ঞানবার্তা
Follow US
© 2021-2026 BigganBarta, Inc.
Made with love ❤️ by Last Coin Standing Interactive.
সাবস্ক্রাইব
অবিলম্বে আমাদের নতুন নিবন্ধের খোঁজ পেতে আমাদের নিউজলেটার সাবস্ক্রাইব করুন!

স্প্যামবিহীন, যেকোনো সময় সাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।
ফিরে আসার জন্য স্বাগতম!

আপনার অ্যাকাউন্টে সাইন ইন করুন

Username or Email Address
Password

Lost your password?