মানবদেহের অন্ত্রের গভীরে বাস করে একপ্রকার নিরীহ ও কম পরিচিত ব্যাকটেরিয়া — Hominenteromicrobium mulieris। কিন্তু এই নিরীহ প্রাণীই এখন ক্যান্সার চিকিৎসার জগতে নতুন আশার আলো হয়ে উঠছে। জাপানের ন্যাশনাল ক্যান্সার সেন্টারের ইমিউনোলজিস্ট হিরোইওশি নিশিকাওয়া ও তার সহকর্মীরা সম্প্রতি আবিষ্কার করেছেন যে, এই ব্যাকটেরিয়ার একটি নির্দিষ্ট স্ট্রেইন (YB328) ইমিউন থেরাপি, বিশেষ করে PD-1 ব্লকেড নামক ক্যান্সার প্রতিরোধী ওষুধের কার্যকারিতা অনেকাংশে বাড়িয়ে দিতে পারে, অন্তত ইঁদুরের ওপর পরীক্ষায় তা দেখা গেছে। এ বিষয়ক গবেষণাপত্রটি গত ১৪ জুলাই, ২০২৫ এ Nature জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, H. mulieris অন্ত্রে বসবাসকারী ডেনড্রাইটিক কোষ (dendritic cells) নামক ইমিউন কোষকে সক্রিয় করে তোলে। এই কোষগুলো রক্তের মাধ্যমে টিউমার অঞ্চলে পৌঁছে গিয়ে সেখানে CD8+ T কোষ নামের “হত্যাকারী কোষ” সক্রিয় করে, যারা ক্যান্সার কোষ শনাক্ত করে ও ধ্বংস করে। PD-1 ব্লকেড ওষুধ T কোষগুলোর উপর থাকা ব্রেকস তুলে দিয়ে তাদের আরও কার্যকর করে তোলে, আর H. mulieris সেই T কোষকে শক্তিশালী করার পরিবেশ তৈরি করে দেয়।
প্রথমে গবেষকেরা ৫০ জন ক্যান্সার রোগীর মল থেকে ব্যাকটেরিয়া সংগ্রহ করেন, যাদের কেউ কেউ ইমিউন চেকপয়েন্ট ইনহিবিটর (immune checkpoint inhibitor) থেরাপিতে ভালো সাড়া দিয়েছিলেন। তাদের নমুনা ইঁদুরে প্রতিস্থাপন করে দেখা যায়, সফল রোগীদের নমুনা দেওয়া ইঁদুরেরা ক্যান্সারের বিরুদ্ধে বেশি প্রতিরোধ গড়ে তুলছে।
এরপর তারা দীর্ঘ দেড় বছরের চেষ্টায় শনাক্ত করেন YB328 নামক স্ট্রেইনটিকে, যেটি মূলত এই পার্থক্যের জন্য দায়ী। গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, এই স্ট্রেইন শুধুমাত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সক্রিয় করে না, বরং এটি অন্যান্য ব্যাকটেরিয়ার তুলনায় অনেক বেশি কার্যকর।
গবেষকেরা ইতিমধ্যে একটি বায়োটেক কোম্পানির সাথে যৌথভাবে ক্লিনিকাল ট্রায়াল শুরু করার পরিকল্পনা করছেন। লক্ষ্য, মানুষে এই ব্যাকটেরিয়া-ভিত্তিক চিকিৎসার কার্যকারিতা যাচাই করা। যদি সফল হয়, তবে এটি হবে এমন একটি উদ্ভাবন যা ব্যয়বহুল ও সীমিত পরিসরের ইমিউনোথেরাপিকে আরও কার্যকর ও ব্যাপক করতে পারে।
পূর্ববর্তী এক গবেষণায় দেখা গেছে যে কিছু অন্যান্য অণুজীবও চেকপয়েন্ট ইনহিবিটরের থেরাপির কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। নতুন গবেষণায় গবেষকেরা সেই জীবাণুগুলোকেও পরীক্ষা করেন, তবে তারা দেখেন যে সেগুলোর কার্যকারিতা H. mulieris ব্যাকটেরিয়ার তুলনায় অনেক কম।
গবেষণার এই আবিষ্কার মানবদেহে থাকা মাইক্রোবায়োমের সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে। এটি প্রমাণ করে, আমাদের দেহের অভ্যন্তরেই লুকিয়ে থাকতে পারে রোগ প্রতিরোধের চাবিকাঠি। বিজ্ঞানীরা এখন স্বপ্ন দেখছেন — কেবল ওষুধ নয়, অন্ত্রের বন্ধুবান্ধবরাও ভবিষ্যতের ক্যান্সার যোদ্ধা হয়ে উঠতে পারে।
———
Microbiota-driven antitumour immunity mediated by dendritic cell migration. Nature (2025).
DOI: 10.1038/s41586-025-09249-8
নিয়মিত আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের নিউজলেটারে এবং ফলো করুন আমাদের টেলিগ্রাম, ইনস্টাগ্রাম, টুইটার এবং ফেসবুক-এ। এছাড়াও যুক্ত হতে পারেন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে।

এই নিবন্ধটি Creative Commons Attribution-NoDerivatives 4.0 International License-এর অধীনে লাইসেন্সকৃত। পুনঃপ্রকাশের জন্য পুনঃপ্রকাশের নির্দেশিকা দেখুুন।


