সাম্প্রতিক এক গবেষণায় চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে। কোভিড-১৯ মহামারির সময় মানুষের মস্তিষ্ক স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক দ্রুত বার্ধক্যের পথে এগিয়েছে। শুধু ভাইরাস সংক্রমণ নয়, বরং মহামারিজনিত সামাজিক ও মানসিক চাপও এই পরিবর্তনের মূল কারণ হতে পারে।
যুক্তরাজ্যের ইউকে বায়োব্যাংক প্রকল্পের ১৫,০০০-এর বেশি মানুষের এমআরআই স্ক্যান বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা একটি ‘ব্রেইন এজ প্রেডিকশন মডেল’ তৈরি করেছেন, যা মস্তিষ্কের বয়স অনুমান করতে পারে। পরে এই মডেল প্রয়োগ করা হয় ৯৯৬ জন মানুষের উপর, যাদের কেউ কেউ মহামারির আগে এবং পরে স্ক্যান করিয়েছেন (Pandemic group) এবং অন্যরা মহামারির আগেই দুইবার স্ক্যান করিয়েছেন (Control group)।
ফলাফল বলছে, যেসব মানুষ মহামারির সময় স্ক্যান করিয়েছেন, তাদের মস্তিষ্কের বার্ধক্য গড়পড়তায় ৫.৫ মাস বেশি বেড়েছে, যা একরকম “মস্তিষ্কের সময়ের সাথে ছুটে চলা”র ইঙ্গিত দেয়। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই পরিবর্তনটি দেখা গেছে যারা কোভিডে আক্রান্ত হননি, তাদের মধ্যেও।
বিশেষভাবে, পুরুষ এবং যারা সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে বঞ্চিত তাদের ক্ষেত্রে এই বার্ধক্যের হার ছিল আরও তীব্র। তবে, শুধুমাত্র কোভিডে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যেই দেখা গেছে মস্তিষ্কের এই বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে কিছু কগনিটিভ (জ্ঞানতাত্ত্বিক) দক্ষতা (বিশেষ করে চিন্তার নমনীয়তা ও কাজের গতি) ক্ষীণভাবে হ্রাস পেয়েছে।
গবেষকরা বলছেন, এই প্রবণতা শুধু ভাইরাসের কারণে নয়, বরং সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, কর্মহীনতা, স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হওয়া, এবং মানসিক চাপ ইত্যাদির সম্মিলিত প্রভাবে ঘটেছে। এ প্রেক্ষাপটে, মস্তিষ্কের বার্ধক্য শুধুই একটি জৈবিক বিষয় নয়; বরং এটি সামাজিক বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি।
এই গবেষণা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, জনস্বাস্থ্য সংকট শুধু শারীরিক নয়, মানসিক এবং স্নায়বিক দিক থেকেও দীর্ঘমেয়াদে প্রভাব ফেলে। আগামী দিনে মহামারি-পরবর্তী স্বাস্থ্যনীতি নির্ধারণে এ বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
———
Accelerated brain ageing during the COVID-19 pandemic. Nat Commun (2025).
DOI: 10.1038/s41467-025-61033-4
নিয়মিত আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের নিউজলেটারে এবং ফলো করুন আমাদের টেলিগ্রাম, ইনস্টাগ্রাম, টুইটার এবং ফেসবুক-এ। এছাড়াও যুক্ত হতে পারেন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে।

এই নিবন্ধটি Creative Commons Attribution-NoDerivatives 4.0 International License-এর অধীনে লাইসেন্সকৃত। পুনঃপ্রকাশের জন্য পুনঃপ্রকাশের নির্দেশিকা দেখুুন।


