একটি বিশেষ ব্রেইন ইমপ্লান্ট মানুষের মনের ভেতরের নীরব কথোপকথন (internal chatter) ডিকোড করতে সক্ষম হয়েছে, তবে ডিভাইসটি কেবল তখনই কাজ করে যখন ব্যবহারকারী একটি নির্দিষ্ট পাসওয়ার্ড চিন্তা করে।
এই মাইন্ড-রিডিং ডিভাইস বা ব্রেইন–কম্পিউটার ইন্টারফেস (BCI) কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে মানুষের মনের ভেতরে কল্পনা করা বাক্যের প্রায় ৭৪% সঠিকভাবে বুঝতে পেরেছে। তবে এটি কেবল তখনই সক্রিয় হয়, যখন ব্যবহারকারী একটি নির্দিষ্ট কীওয়ার্ড চিন্তা করে। ফলে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত চিন্তা অনিচ্ছাকৃতভাবে প্রকাশ পাওয়ার ঝুঁকি কমে যায়।
গত ১৪ আগস্ট, ২০২৫ Cell জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণাকে নিউ ইয়র্কের ফাইনস্টেইন ইনস্টিটিউট ফর মেডিকেল রিসার্চের নিউরাল ইঞ্জিনিয়ার সারাহ ওয়ান্ডেল্ট একটি “প্রযুক্তিগতভাবে চমকপ্রদ ও অর্থবহ পদক্ষেপ” বলে আখ্যা দিয়েছেন। তার মতে, পাসওয়ার্ড ব্যবহারের এই পদ্ধতি ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা রক্ষার সহজ উপায়, যা বাস্তব জীবনে এর ব্যবহারকে আরও কার্যকর করবে।
ক্রেডিট: Emory BrainGate Team
BCI সিস্টেম মস্তিষ্কের সংকেতকে টেক্সট বা অডিওতে রূপান্তর করে এবং এটি পক্ষাঘাতগ্রস্ত বা সীমিত পেশী নিয়ন্ত্রণে ভোগা ব্যক্তিদের জন্য যোগাযোগ ফিরিয়ে দেওয়ার আশাব্যঞ্জক প্রযুক্তি। তবে ঝুঁকি রয়েছে, এটি হয়তো এমন বাক্যও ডিকোড করে ফেলতে পারে যা ব্যবহারকারী প্রকাশ করতে চাননি।
স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরাল ইঞ্জিনিয়ার এরিন কুনজের নেতৃত্বে গবেষকরা প্রথমে চারজন অংশগ্রহণকারীর মস্তিষ্ক থেকে মাইক্রোইলেক্ট্রোডের মাধ্যমে সংকেত সংগ্রহ করেন। এদের একজন স্ট্রোকে বাকশক্তি হারিয়েছেন এবং বাকিরা মোটর নিউরন রোগে আক্রান্ত। গবেষণায় দেখা গেছে, তারা মুখে শব্দ উচ্চারণের চেষ্টা করুক বা শুধু কল্পনা করুক, দু’ক্ষেত্রেই একই মস্তিষ্ক অঞ্চল সক্রিয় হয়, তবে কল্পনার সংকেত তুলনামূলক দুর্বল।
এরপর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেলের সাহায্যে গবেষকরা এই সংকেত থেকে ফনিম (বাক্যের ক্ষুদ্রতম ধ্বনি) শনাক্ত করেন এবং সেগুলো জুড়ে বাক্য তৈরি করেন। ১,২৫,০০০ শব্দের ভাণ্ডার থেকে রিয়েল-টাইমে বাক্য গঠনের এই প্রক্রিয়ায়, দুইজন অংশগ্রহণকারীর কল্পিত বাক্যের প্রায় ৭৪% সঠিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। এমনকি নীরবে গণনা করার সময় সংখ্যাও শনাক্ত করেছে ডিভাইসটি।
ঝুঁকি এড়াতে সিস্টেমে একটি ‘পাসওয়ার্ড’ যোগ করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, যখন অংশগ্রহণকারীরা কেবল “Chitty-Chitty-Bang-Bang” (একটি ইংরেজি শিশুতোষ নভেলের নাম) কল্পনা করলেন, তখনই সিস্টেম সক্রিয় হলো এবং এটি ৯৮% এর বেশি নির্ভুলতায় শনাক্ত করা গেল।
গবেষকরা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে মোটর কর্টেক্সের বাইরেও মস্তিষ্কের অন্যান্য অঞ্চলের ভাষা সংকেত পরীক্ষা করা হবে, যাতে আরও বৈচিত্র্যময় বাকশক্তি সমস্যার সমাধান করা যায়। পাশাপাশি গতি ও নির্ভুলতাও বাড়ানোর কাজ চলবে।
———
Inner speech in motor cortex and implications for speech neuroprostheses, Cell (2025)
DOI: 10.1016/j.cell.2025.06.015
নিয়মিত আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের নিউজলেটারে এবং ফলো করুন আমাদের টেলিগ্রাম, ইনস্টাগ্রাম, টুইটার এবং ফেসবুক-এ। এছাড়াও যুক্ত হতে পারেন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে।

এই নিবন্ধটি Creative Commons Attribution-NoDerivatives 4.0 International License-এর অধীনে লাইসেন্সকৃত। পুনঃপ্রকাশের জন্য পুনঃপ্রকাশের নির্দেশিকা দেখুুন।



