বিশ্বব্যাপী খাদ্য নিরাপত্তার জন্য মিষ্টি আলু একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রধান খাদ্যশস্য, যা কোটি মানুষের পেটে খাবার জোগায়। বিশেষ করে সাব-সাহারান আফ্রিকায়, জলবায়ুর চরম পরিবর্তন সহ্য করার স্বাভাবিক ক্ষমতার কারণে এই ফসলটি অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। তবে বহু দশক ধরে এই সাধারণ মূলাজাতীয় সবজি তার জিনগত রহস্য গোপন রেখেছিল।
মিষ্টি আলুর ডিএনএ অত্যন্ত জটিল। যেখানে মানুষের দুই সেট ক্রোমোসোম (প্রত্যেকটি বাবা-মায়ের কাছ থেকে একটি করে), সেখানে মিষ্টি আলুর আছে ছয় সেট ক্রোমোসোম। এই অবস্থাকে হেক্সাপ্লয়েডি বলা হয়। হেক্সাপ্লয়েডির জিনগত কোড ডিকোড করাকে এমন এক জটিল কাজে পরিণত করেছে, যেন ছয়টি আলাদা কিন্তু মিল আছে এমন বিশ্বকোষের সেট একসাথে মিশিয়ে ফেলা হয়েছে এবং সেগুলো আবার আলাদা করে সাজাতে হবে।
আধুনিক ডিএনএ সিকোয়েন্সিং ও অন্যান্য উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে, বয়েস থম্পসন ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ঝাংজুন ফেই ও তার সহকর্মীরা প্রথমবারের মতো ‘তানজানিয়া’ নামের একটি মিষ্টি আলুর জাতের সম্পূর্ণ জিনোম উন্মোচন করেছেন। আফ্রিকায় এই জাত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও উচ্চ শুষ্ক পরিবেশ সহ্য করার ক্ষমতার জন্য বিশেষভাবে সমাদৃত।
মূল চ্যালেঞ্জ ছিল উদ্ভিদের ৯০টি ক্রোমোসোমকে ছয়টি অরিজিনাল সেটে ভাগ করা, যাকে হ্যাপলোটাইপ বলা হয়। গবেষকরা সম্পূর্ণভাবে এই জটিল জিনোমকে আলাদা বা ফেজ করতে সক্ষম হয়েছেন, যা আগে কখনও হয়নি।
অধ্যাপক ফেই বলেন, “সম্পূর্ণ, ফেজ করা জিনোম আমাদের এক অভূতপূর্ব স্বচ্ছতা দিয়েছে। আমরা এখন মিষ্টি আলুর জিনগত গল্প বিস্তারিতভাবে পড়তে পারি।”
দলটির মতে, মিষ্টি আলুর জিনোম আসলে একাধিক বন্য পূর্বপুরুষ থেকে তৈরি এক ধরনের মোজাইক, যার কিছু এখনও অজানা। প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এসেছে Ipomoea aequatoriensis নামের এক বন্য প্রজাতি থেকে, যা ইকুয়েডরে পাওয়া যায় এবং সম্ভবত মিষ্টি আলুর সরাসরি পূর্বপুরুষ। আরেকটি বড় অংশ Ipomoea batatas 4x নামের মধ্য আমেরিকার এক বন্য প্রজাতি থেকে এসেছে, যদিও প্রকৃত উৎস হয়তো এখনও বন্য পরিবেশে অজানা রয়ে গেছে।
বয়েস থম্পসন ইনস্টিটিউটের ড. শান উ বলেন, “গমের ক্ষেত্রে আমরা পূর্বপুরুষদের অবদান আলাদা জিনোম সেকশনে পাই। কিন্তু মিষ্টি আলুতে, পূর্বপুরুষদের সিকোয়েন্স একই ক্রোমোসোমে জটিলভাবে মিশে আছে, যা একেবারেই অনন্য জিনোমিক গঠন তৈরি করেছে।”
এই জটিল জিনগত হেরিটেজ মিষ্টি আলুকে সেগমেন্টাল অ্যালোপলিপ্লয়েড হিসেবে প্রাথমিকভাবে শ্রেণিবদ্ধ করে, অর্থাৎ এটি ভিন্ন প্রজাতি থেকে উদ্ভূত এক ধরনের সংকর, কিন্তু জিনগতভাবে এক প্রজাতির মতো আচরণ করে। এই জিনোমের মিশ্রণ ও পুনর্গঠন মিষ্টি আলুকে অসাধারণ অভিযোজন ক্ষমতা ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দিয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য অপরিহার্য।
অধ্যাপক ফেই আরও বলেন, “মিষ্টি আলুর ছয় সেট ক্রোমোসোম তার টিকে থাকার ক্ষমতাকে বাড়িয়ে দিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ জিনের একাধিক কপি থাকায় গাছটি খরা সহ্য করতে, পোকামাকড় প্রতিরোধ করতে এবং নানা পরিবেশে খাপ খাইয়ে নিতে সক্ষম হয়, যা পলিপ্লয়েড বাফারিং নামে পরিচিত।”
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, “মিষ্টি আলুর পূর্ণ জিনগত সম্ভাবনা বুঝতে হলে, বিভিন্ন অঞ্চলের একাধিক জাতের জিনোম উন্মোচন করতে হবে, কারণ প্রতিটি জাতের মধ্যে এমন অনন্য জিন থাকতে পারে যা অন্যদের মধ্যে হারিয়ে গেছে।”
———
Phased chromosome-level assembly provides insight into the genome architecture of hexaploid sweetpotato. Nat. Plants (2025).
DOI: 10.1038/s41477-025-02079-6
নিয়মিত আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের নিউজলেটারে এবং ফলো করুন আমাদের টেলিগ্রাম, ইনস্টাগ্রাম, টুইটার এবং ফেসবুক-এ। এছাড়াও যুক্ত হতে পারেন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে।

এই নিবন্ধটি Creative Commons Attribution-NoDerivatives 4.0 International License-এর অধীনে লাইসেন্সকৃত। পুনঃপ্রকাশের জন্য পুনঃপ্রকাশের নির্দেশিকা দেখুুন।


