যুক্তরাষ্ট্রে অপিওয়েড বা আফিম-সদৃশ ঔষধ সেবনজনিত সমস্যায় প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারায়, এবং অনেক গর্ভবতী নারীর অপিওয়েড সেবনের ফলে তাদের নবজাতকেরা ভোগে “Neonatal Abstinence Syndrome” (NAS)-এ। এই প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি দুটি গবেষণা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি এনেছে অপিওয়েড শনাক্তকরণ প্রযুক্তিতে, যা একদিকে নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা উন্নত করতে পারবে, অপরদিকে অপিওয়েড সেবনের প্রকৃত মাত্রা নিরূপণে সাহায্য করবে। গবেষণা দুটির নেতৃত্বে ছিলেন বাংলাদেশের গবেষক রামিসা ফারিহা।
প্রথম গবেষণাটি, প্রকাশিত হয়েছে Scientific Reports জার্নালে, যেখানে গবেষকেরা মাত্র ২০ মাইক্রোলিটার রক্ত (আঙুলের অগ্রভাগ থেকে নেওয়া একফোঁটা) ব্যবহার করে ৬টি ভিন্ন অপিওয়েড যৌগ নির্ভুলভাবে শনাক্তের জন্য একটি স্বয়ংক্রিয় এবং উচ্চ-দক্ষ পদ্ধতি (LC-MS/MS assay) তৈরি করেছেন। সাধারণ ইউরিন টেস্টের তুলনায় এই প্রযুক্তি অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য, কারণ এতে ক্রস-রিঅ্যাকটিভিটি বা ভুয়া পজিটিভ ফলাফলের ঝুঁকি নেই। গবেষণায় দেখা গেছে, অনেক রোগীর শরীরে অপিওয়েডের অস্তিত্ব থাকলেও তা ইউরিন স্ট্রিপ টেস্টে ধরা পড়ে না, কিন্তু এই নতুন পদ্ধতিতে তা ধরা সম্ভব হচ্ছে।
অন্যদিকে, SLAS Technology জার্নালে প্রকাশিত দ্বিতীয় গবেষণাটি মূলত Neonatal abstinence syndrome (NAS) শনাক্তে অভাবনীয় নতুন এক সম্ভাবনা নিয়ে এসেছে। গবেষকেরা এমন একটি ইলেকট্রিক-ফিল্ড চালিত (electric field-assisted) ডিভাইস তৈরি করেছেন, যা নবজাতকের ড্রাই ব্লাড স্পট (DBS)-এ থাকা মাত্র ৩.২ মিমি আকারের রক্তের নমুনা থেকেও মাত্র ৩ মিনিটেই ৫টি ভিন্ন অপিওইড বিশ্লেষণ করতে পারে। এই পদ্ধতির মাধ্যমে পুরোনো ধীর ও পর্যবেক্ষণ-নির্ভর NAS শনাক্ত প্রক্রিয়ার পরিবর্তে পাওয়া যাবে নির্ভুল এবং দ্রুত ফলাফল, যা চিকিৎসা শুরু করতেও সহায়তা করবে দ্রুত সময়ের মধ্যে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই ডিভাইসটি সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে পারে, ফলে ল্যাবরেটরির কাজের গতি ও নির্ভুলতা বাড়বে বহুগুণ।
ক্রেডিট: Danny L’Amour
দুটি গবেষণাই “microsampling” বা অতি-ক্ষুদ্র রক্ত ব্যবহার করে উচ্চ-সংবেদনশীল বিশ্লেষণ প্রযুক্তির সম্ভাবনা প্রমাণ করেছে। একটিতে প্রাপ্তবয়স্কদের রক্তে অপিওয়েড শনাক্তকরণ, অন্যটিতে নবজাতকের ড্রাই ব্লাড স্পট থেকে অপিওইড নির্ণয়ে অগ্রগতি দেখানো হয়েছে। ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি শুধু চিকিৎসা ক্ষেত্রে নয়, জনস্বাস্থ্য, ফার্মাকোভিজিলেন্স, এমনকি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এই উদ্ভাবনাগুলো অপিওয়েড মহামারির মোকাবিলায় এক নতুন যুগের সূচনা করলো। গবেষকদের মতে, আরও উন্নয়ন হলে এই পদ্ধতিগুলোর মাধ্যমে বৃহৎ পরিসরে অপিওইড স্ক্রিনিং ও চিকিৎসা নির্ধারণ আরও নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী হবে।
———
Opioid quantification via microsampling techniques to assess opioid use in human laboratory studies. Sci Rep (2025).
DOI: 10.1038/s41598-025-99130-5
Precision through electric-field assisted automatable high throughput sample preparation of dried blood spots for neonatal abstinence syndrome detection. SLAS Technology (2025).
DOI: 10.1016/j.slast.2025.100282
নিয়মিত আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের নিউজলেটারে এবং ফলো করুন আমাদের টেলিগ্রাম, ইনস্টাগ্রাম, টুইটার এবং ফেসবুক-এ। এছাড়াও যুক্ত হতে পারেন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে।

এই নিবন্ধটি Creative Commons Attribution-NoDerivatives 4.0 International License-এর অধীনে লাইসেন্সকৃত। পুনঃপ্রকাশের জন্য পুনঃপ্রকাশের নির্দেশিকা দেখুুন।



