যুক্তরাজ্যের ৩,৩৪০ কিশোর-কিশোরীর ওপর করা এক জরিপে দেখা গেছে, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত কিশোররা প্রতিদিন গড়ে ৫০ মিনিট বেশি সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কাটায়। এছাড়াও, তারা নিজের অনলাইন বন্ধুদের সংখ্যা বা প্ল্যাটফর্মে তাদের প্রতিক্রিয়া নিয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি অসন্তুষ্ট।
গত ৫ মে, ২০২৫ এ Nature Human Behaviour জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, মানসিক সমস্যার ভিন্নতা অনুযায়ী কিশোররা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কীভাবে সময় কাটায়, তা ভিন্ন হয়ে থাকে। যেসব কিশোর উদ্বেগ বা হতাশার মতো ‘ইন্টারনালাইজিং’ (নিজের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব) সমস্যায় ভোগে, তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অন্যদের তুলনায় বেশি নেতিবাচক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়। অন্যদিকে, ADHD-এর মতো ‘এক্সটারনালাইজিং’ (অন্যদের প্রতি নেতিবাচক আচরণ) সমস্যা যাদের আছে, তাদের প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম।
গবেষক লুইসা ফাসি, যিনি ইউনিভার্সিটি অব কেমব্রিজের তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য ও সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার নিয়ে কাজ করেন, বলেন: “এ ধরনের বড় পরিসরের ওপর করা গবেষণা খুবই বিরল।”
নিউ ইয়র্ক সিটির কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির শিশু ও কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অ্যান মেরি আলবানো বলেন, “এই ফলাফল পরিবারগুলোর জন্য সতর্ক সংকেত। যদি আপনার সন্তানের উদ্বেগ বা হতাশার প্রবণতা থাকে, তাহলে সামাজিক মাধ্যমে তাদের সময় কাটানো ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করা উচিত।”
অনলাইনে আচরণ ও প্রতিক্রিয়া
গবেষকরা ২০১৭ সালে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (NHS) পরিচালিত ১১ থেকে ১৯ বছর বয়সী তরুণদের এক জরিপের তথ্য বিশ্লেষণ করেন। এতে অংশগ্রহণকারীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ মূল্যায়ন করা হয় এবং তাদের সামাজিক মাধ্যমে সময় কাটানো ও অনুভূতির বিষয়গুলো নিয়ে প্রশ্ন করা হয়।
প্রায় ১৬ শতাংশ উত্তরদাতা অন্তত এক ধরনের মানসিক সমস্যায় ভুগছিল। এর মধ্যে ৮ শতাংশের ছিল ইন্টারনালাইজিং সমস্যা (যেমন: অ্যাংজাইটি, ডিপ্রেশন) এবং ৩ শতাংশের ছিল এক্সটারনালাইজিং সমস্যা (যেমন: ADHD)।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত কিশোররা মোটের ওপর সামাজিক মাধ্যমে বেশি সময় কাটায়। বিশেষ করে ইন্টারনালাইজিং সমস্যায় ভোগা কিশোররা অন্যদের সঙ্গে নিজেদের বেশি তুলনা করে এবং পোস্টের কমেন্ট বা রিঅ্যাকশন দ্বারা বেশি প্রভাবিত হয়। তারা নিজেদের সময় নিয়ন্ত্রণ করতেও কম সক্ষম।
ভবিষ্যৎ করণীয়
এই ফলাফল মানসিক স্বাস্থ্য চিকিৎসকদের জন্য উপকারী হতে পারে, বিশেষ করে কিশোরদের ভিন্নধর্মী সমস্যার নিরাময়ে। লুইসা ফাসি বলেন, “তারা এই তথ্য ব্যবহার করে সামাজিক মাধ্যমে সময় নিয়ন্ত্রণ বা অন্যদের সঙ্গে তুলনা কমানোর মতো কৌশল শেখাতে পারে।”
অ্যান মেরি আলবানো বলেন, “আমরা সামাজিক মাধ্যম-সচেতনতা নিয়ে অনেক কাজ করি। আমাদের সমাজভীতি (social anxiety disorder) আক্রান্ত কিশোরদের শেখাই কীভাবে মেসেজিংয়ের জবাব দিতে হয়, কোন সাইটগুলো তাদের আগ্রহ ও আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং কোনগুলো থেকে বিরত থাকা ভালো।”
তবে ফাসি মনে করিয়ে দেন, এই গবেষণায় সামাজিক মাধ্যম কিশোরদের মানসিক সমস্যা সৃষ্টি করে কি না, সেটি বলা যায় না — এটি এখনো গবেষণার বিষয়। এর উত্তর পেতে হলে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা বা নির্দিষ্ট প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে নিরীক্ষামূলক গবেষণা প্রয়োজন।
———
Social media use in adolescents with and without mental health conditions. Nat Hum Behav (2025).
DOI: 10.1038/s41562-025-02134-4
নিয়মিত আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের নিউজলেটারে এবং ফলো করুন আমাদের টেলিগ্রাম, ইনস্টাগ্রাম, টুইটার এবং ফেসবুক-এ। এছাড়াও যুক্ত হতে পারেন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে।

এই নিবন্ধটি Creative Commons Attribution-NoDerivatives 4.0 International License-এর অধীনে লাইসেন্সকৃত। পুনঃপ্রকাশের জন্য পুনঃপ্রকাশের নির্দেশিকা দেখুুন।


