গবেষকেরা এমন এক কাজ করে দেখিয়েছেন যা আগে কল্পনাতেই ছিল। তারা ‘মৃত’ ব্যাকটেরিয়ার কোষে অন্য প্রজাতির কার্যকর জিনোম বসিয়ে সেগুলোকে আবার সক্রিয় করেছেন। এই গবেষণাটি এ মাসে প্রিপ্রিন্ট সার্ভার bioRxiv-এ প্রকাশিত হয়েছে। তবে এখন পিয়ান রিভিউড হয় নি।
এই পদ্ধতি মাইক্রোবিয়াল জীবকে নতুনভাবে গঠন করার কাজকে এগিয়ে নিতে পারে। পুরো জিনোম এক ব্যাকটেরিয়া থেকে আরেকটিতে বসিয়ে তাকে নতুন বৈশিষ্ট্য দেওয়া যাবে। যেমন ওষুধ বা বায়োফুয়েল তৈরি।
এখন পর্যন্ত এই ধরনের জিনোম স্থানান্তর এক শ্রেণির ব্যাকটেরিয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু যদি বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়ায় নিয়মিতভাবে এই ‘জম্বি সেল’ তৈরি করা যায়, তাহলে Escherichia coli-এর মতো বহুল ব্যবহৃত ব্যাকটেরিয়ায়ও নতুন জিনোম পরীক্ষা করা সম্ভব হবে।
ফ্রান্সের INRAE এবং Paris-Saclay University-এর সিন্থেটিক বায়োলজিস্ট Olivier Borkowski বলেন, এই কাজ জিনোম ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বড় অগ্রগতি।
মৃত থেকে জীবিতের শুরু
১৫ বছরের বেশি আগে গবেষকেরা Mycoplasma mycoides-এর প্রায় ১১ লাখ বেস-পেয়ার জিনোম কৃত্রিমভাবে তৈরি করে সেটি Mycoplasma capricolum-এর জীবন্ত কোষে বসিয়েছিলেন। এটিকেই প্রথম সিন্থেটিক কোষ বলা হয়।
তারা ওই জিনোমে এমন একটি জিন যোগ করেন, যা অ্যান্টিবায়োটিক টেট্রাসাইক্লিনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। ফলে যেসব কোষ নতুন জিনোম গ্রহণ করে, কেবল সেগুলোই টিকে থাকে। এতে পরীক্ষার সফলতা বোঝা যায়।
ক্রেডিট: Nacyra Assad-Garcia
২০১৬ সালে একই শ্রেণির ব্যাকটেরিয়া Mollicutes-এর মধ্যে জিনোম স্থানান্তর সফল হয়। কিন্তু এর বাইরে এই কাজ বারবার ব্যর্থ হতে থাকে। J. Craig Venter Institute-এর বিজ্ঞানী John Glass বলেন, আগের কিছু সফলতা আসলে ভুল ছিল। কারণ গ্রহণকারী কোষ নিজের জিনোমে শুধু অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধের জিন ঢুকিয়ে বেঁচে থাকত, পুরো জিনোম নেয়নি।
জম্বি সেলের জন্ম
এই সমস্যার সমাধানে গবেষকেরা নতুন কৌশল নেন। তারা গ্রহণকারী কোষের জিনোমকে নিষ্ক্রিয় করে দেন, যাতে কোষটি আর বিভাজিত হতে না পারে। একে কার্যত মৃত অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয়।
এই কাজের জন্য তারা mitomycin C ব্যবহার করেন, যা ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত করে। এতে Mycoplasma capricolum কোষগুলো কার্যত ‘মৃত’ হয়ে যায়।
এরপর যখন Mycoplasma mycoides-এর জিনোম এই মৃত কোষে বসানো হয়, তখন অল্প কিছু কোষ আবার বেঁচে ওঠে। সহ-লেখক Zumra Peksaglam Seidel বলেন, কোষটি মরার পথে ছিল, কিন্তু আমরা তাকে নতুন জীবন দিই। এই বেঁচে ওঠা কোষগুলোকেই তারা ‘জম্বি সেল’ নামে ডাকছেন।
গবেষকেরা এই পদ্ধতিকে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করেছেন। ভবিষ্যতে অন্যান্য ব্যাকটেরিয়াতেও এটি প্রয়োগের আশা রয়েছে।
CRISPR বনাম জম্বি
কেন এই জিনোম স্থানান্তর বিশেষ করে Mycoplasma-তে এত ভালো কাজ করে, তা এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। National Institute of Standards and Technology-এর Elizabeth Strychalski বলেন, এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করা জরুরি।
Imperial College London-এর Tom Ellis মনে করেন, CRISPR পদ্ধতি দিয়েও বড় ডিএনএ অংশ স্থানান্তর নিশ্চিত করা সম্ভব। এই পদ্ধতিতে লক্ষ্য করা ডিএনএ অংশ কেটে ফেলা হয়, যাতে নতুন জিন সহজে বসানো যায়।
গবেষকেরা স্বীকার করেন, CRISPR ব্যবহার করে গ্রহণকারী কোষের সমস্যা তৈরি করা জিনগুলো নিষ্ক্রিয় করা যেতে পারে।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
Borkowski মনে করেন, বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়ার জিনোম আর কোষ কাঠামো মিলিয়ে দেখা গেলে বিবর্তন নিয়ে নতুন ধারণা পাওয়া যাবে। কোন সংমিশ্রণ কাজ করে, কোনটি ব্যর্থ হয়, তা বোঝা যাবে।
আরেকটি বড় সম্ভাবনা হলো, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে ডিজাইন করা জিনোম পরীক্ষা করা। যদি Escherichia coli-এর মতো মডেল জীবেও এই জম্বি সেল পদ্ধতি কাজ করে, তাহলে এটি সিন্থেটিক বায়োলজির জন্য একটি সাধারণ প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠতে পারে।
———
Selection-free whole genome transplantation revives dead microbes. bioRxiv (2025).
DOI: 10.64898/2026.03.13.711674
নিয়মিত আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের নিউজলেটারে এবং ফলো করুন আমাদের টেলিগ্রাম, ইনস্টাগ্রাম, টুইটার এবং ফেসবুক-এ। এছাড়াও যুক্ত হতে পারেন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে।

এই নিবন্ধটি Creative Commons Attribution-NoDerivatives 4.0 International License-এর অধীনে লাইসেন্সকৃত। পুনঃপ্রকাশের জন্য পুনঃপ্রকাশের নির্দেশিকা দেখুুন।



