সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের Aston University এবং জাপানের NICT (National Institute of Information and Communications Technology)-এর একদল গবেষক যৌথভাবে ইন্টারনেট ডেটা ট্রান্সফারের গতিতে একটি নতুন বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন।
গবেষকরা জানিয়েছেন, তারা প্রচলিত স্ট্যান্ডার্ড টেলিকমিউনিকেশন অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল ব্যবহার করেই প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৪৩০ টেরাবিট (Tbps) বা ৪,৩০,০০০ গিগাবিট তথ্য আদান-প্রদানে সক্ষম হয়েছেন। এই অর্জনের মাধ্যমে গত ২০২৪ সালের মার্চ মাসে করা প্রতি সেকেণ্ডে ৪০২ টেরাবিট গতির আগের বিশ্ব রেকর্ডটি ভেঙে গেছে।
বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী, এ ধরনের অবিশ্বাস্য গতিতে প্রায় ৮০ গিগাবাইট আকারের একটি আধুনিক ভিডিও গেম ডাউনলোড করতে সময় লাগতে পারে মাত্র ১-২ মিলিসেকেন্ড। তবে গবেষকরা স্পষ্ট করেছেন, এটি শুধু আদর্শ পরিবেশে। বাস্তব জীবনে এর ব্যবহারে হয়তো কিছুটা বেশি লাগতে পারে।
ডেটা ট্রান্সফারের পরিমাপ আরও সহজভাবে বুঝতে গেলে, ১ টেরাবিট ≈ ১২৫ গিগাবাইট হিসেবে ধরা হয়। অর্থাৎ, ৪৩০ টেরাবিট প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৫৪,০০০ গিগাবাইট ডেটা আদান-প্রদানের সক্ষমতাকে বোঝায়, যা বর্তমান ইন্টারনেট তথ্য আদান-প্রদান ব্যবস্থার তুলনায় কল্পনাতীতভাবে বেশি হবে।
গবেষকরা আরও জানিয়েছেন, তাদের এই নতুন পরীক্ষামূলক প্রযুক্তি আগের রেকর্ডের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ কম ব্যান্ডউইথ ব্যবহার করেও এমন উচ্চ গতির ডেটা ট্রান্সফার করতে সক্ষম হয়েছেন। যার ফলে ভবিষ্যতে ইন্টারনেট অবকাঠামো আরও কার্যকর, শক্তিশালী ও শক্তি-সাশ্রয়ী হয়ে উঠতে পারে।
Aston University ও জাপানের NICT-এর গবেষকদের মতে, যদিও এই প্রযুক্তি এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে, তবে ভবিষ্যতের ৭জি (7G) বা সপ্তম প্রজন্মের ওয়্যারলেস নেটওয়ার্ক, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং, বিগ ডেটা এবং বৈশ্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় হয়তো এটি একটি নতুন ও সম্ভাবনাময় যুগের সূচনা করতে পারে।
নিয়মিত আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের নিউজলেটারে এবং ফলো করুন আমাদের টেলিগ্রাম, ইনস্টাগ্রাম, টুইটার এবং ফেসবুক-এ। এছাড়াও যুক্ত হতে পারেন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে।

এই নিবন্ধটি Creative Commons Attribution-NoDerivatives 4.0 International License-এর অধীনে লাইসেন্সকৃত। পুনঃপ্রকাশের জন্য পুনঃপ্রকাশের নির্দেশিকা দেখুুন।


