জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন যে মিল্কিওয়ের মতো গ্যালাক্সির কেন্দ্রে থাকা সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোলগুলি কোটি-কোটি বছর ধরে পদার্থ গ্রাস করতে করতে তাদের বর্তমান আকারে এসেছে।
কিন্তু কয়েক মিলিয়ন সৌর ভরের নতুন-আবিষ্কৃত ব্ল্যাকহোলের আকার পরামর্শ দেয় যে অন্য উপায়ে ব্ল্যাক হোল গঠিত হতে পারে: হয় ‘জন্ম থেকে বড়’ কিংবা তারা এমন হারে পদার্থ গ্রাস পারে যা ধারণা করা থেকে চেয়ে পাঁচগুণ বেশি।
স্ট্যান্ডার্ড মডেল অনুসারে, মৃত নক্ষত্রের অবশিষ্টাংশ থেকে সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোল তৈরি হয়। জ্বালানি ফুড়িয়ে নক্ষত্রের মৃত্যু পর সুপারনোভার সৃস্টি হয় এবং নক্ষত্রটি অদৃশ্য হয়ে যায় কিন্তু তার ভর ও অভিকর্ষজ বল কেন্দ্রীভূত হয় একটি বিন্দুতে যার চারিদিকে একটি নির্দিষ্ট ব্যাসার্ধের চিরঅন্ধকারাচ্ছন্ন গহ্বর বা ব্ল্যাক হোল সৃষ্টি হয়। প্রথমিক পর্যায়ে সূর্যের ভরের প্রায় শতগুণ ভরের ব্ল্যাক হোল তৈরি হতে পারে।
যদি এটি জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের ধারণা করা হারে বৃদ্ধি পায়, তবে নতুন শনাক্ত করা ব্ল্যাক হোলটি তার বর্তমান আকারে বৃদ্ধি পেতে প্রায় এক বিলিয়ন বছর সময় লাগবে। কিন্তু, মহাবিশ্বের বয়স তখনও এক বিলিয়ন বছর হয়নি যখন এই ব্ল্যাক হোলটি তৈরি হয়েছিল।
এই প্রাচীন ব্ল্যাক হোলটি পরবর্তী সময় তৈরি হওয়অ এর স্ব-জাতিদের তুলনায় অনেক বেশি জোরালোভাবে পদার্থকে গ্রাস করতে দেখা যায়। GN-z11 হল একটি ছোট গ্যালাক্সি, মিল্কিওয়ে থেকে প্রায় একশ গুণ ছোট। ছোট হবার পেছনে এই ব্ল্যাক হোলের ভূমিকা থাকতে পারে।
যখন ব্ল্যাক হোল অত্যধিক গ্যাস গ্রাস করে, তখন এটি অতি দ্রুত বাতাসের মতো গ্যাসকে দূরে ঠেলে দেয়। এই ‘বাতাস’ নক্ষত্র গঠনের প্রক্রিয়াকে থামিয়ে দিতে পারে, যা ধীরে ধীরে ছায়াপথকে মেরে ফেলবে, সাথে ব্ল্যাক হোলকেও মেরে ফেলবে, কারণ তখন ব্ল্যাক হোল নিজেই নিজের ‘খাদ্য’ উৎসকে মেরে ফেলছে।
———
A small and vigorous black hole in the early Universe. Nature (2024). DOI: 10.1038/s41586-024-07052-5
নিয়মিত আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের নিউজলেটারে এবং ফলো করুন আমাদের টেলিগ্রাম, ইনস্টাগ্রাম, টুইটার এবং ফেসবুক-এ। এছাড়াও যুক্ত হতে পারেন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে।

এই নিবন্ধটি Creative Commons Attribution-NoDerivatives 4.0 International License-এর অধীনে লাইসেন্সকৃত। পুনঃপ্রকাশের জন্য পুনঃপ্রকাশের নির্দেশিকা দেখুুন।


