সাইকেডেলিক যৌগ সাইলোসাইবিনের একক ডোজই মস্তিষ্কের কিছু নির্দিষ্ট নেটওয়ার্কের সংযোগ নতুনভাবে গঠন করতে পারে। এ কারণেই হয়তো এই ওষুধ মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যার চিকিৎসায় কার্যকর।
সাইলোসাইবিন শত শত প্রজাতির “ম্যাজিক মাশরুমে” পাওয়া যায়। এই ধরনের সাইকেডেলিক ড্রাগ মানুষকে সময়, স্থান ও নিজেকে ভিন্নভাবে অনুভব করায়। পাশাপাশি, বিষণ্নতা ও উদ্বেগের মতো সমস্যার চিকিৎসায়ও আশাব্যঞ্জক ফল দেখাচ্ছে। ধারণা করা হয়, সাইলোসাইবিন মস্তিষ্কের প্লাস্টিসিটি, অর্থাৎ সংযোগ বদলে নেওয়ার ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। তবে আসলে কীভাবে তা ঘটে, তা এতদিন স্পষ্ট ছিল না।
নিউ ইয়র্কের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালেক্স কওয়ান ও তাঁর সহকর্মীরা এ বিষয়ে পরিক্ষা চালান। তাঁরা ইঁদুরকে সাইলোসাইবিন এবং স্যালাইন ইনজেকশন দেন। একদিন পর তাঁরা জেনেটিকভাবে পরিবর্তিত জলাতঙ্ক ভাইরাস প্রয়োগ করেন, যা নিউরনের মধ্যে থাকা সিন্যাপস পেরিয়ে ছড়িয়ে যেতে পারে। ফলে কোন কোন নিউরন নতুন সংযোগ তৈরি করেছে, তা ধরা সম্ভব হয়।
স্ক্যান ও মস্তিষ্ক কেটে দেখা গেল, যেসব ইঁদুরকে সাইলোসাইবিন দেওয়া হয়েছিল, তাদের রেট্রোস্প্লেনিয়াল কর্টেক্স (যা কল্পনা, স্মৃতি ও ইন্দ্রিয়-তথ্য সমন্বয়ের সঙ্গে জড়িত) ও প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্সের (পরিকল্পনা ও সামাজিক আচরণে ভূমিকা রাখে) মধ্যে সংযোগ শক্তিশালী হয়েছে। অন্যদিকে, স্যালাইন নেওয়া ইঁদুরে এমন পরিবর্তন দেখা যায়নি।
এছাড়া সাইলোসাইবিন কর্টেক্সের রিকারেন্ট লুপ সংযোগ দুর্বল করে দেয়। এসব লুপ স্মৃতি ধরে রাখতে সাহায্য করে বটে, কিন্তু কিছু মানসিক রোগে এগুলো নেতিবাচক চিন্তা বা আচরণের পুনরাবৃত্তি ঘটায়। এই লুপ দুর্বল হলে অতিরিক্ত রুমিনেশন ভাঙা সম্ভব হয় যা চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হতে পারে।
বোস্টনের ব্রিগহ্যাম অ্যান্ড উইমেন’স হসপিটালের মাইকেল হুইলার বলেন, “এই ধরনের সার্কিট কীভাবে কাজ করে, তা জানা পরবর্তী ধাপ। এটি হয়তো আসল প্রক্রিয়া উন্মোচনের চাবিকাঠি।”
ফিনল্যান্ডের হেলসিঙ্কি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইরো ক্যাস্ট্রেন যোগ করেন, “সাইলোসাইবিন চিকিৎসায় মস্তিষ্ক নতুনভাবে গঠিত হওয়াই মুড ডিসঅর্ডারের ওপর প্রভাব ফেলে। তবে কোন সার্কিট শক্তিশালী বা দুর্বল হবে, তা নির্ভর করে প্রাণীটি কী করছে বা কী অনুভব করছে তার ওপর।”
এ গবেষণা ভবিষ্যতে মানসিক রোগভেদে নির্দিষ্ট মস্তিষ্ক সংযোগকে টার্গেট করার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়। গবেষকরা লিখেছেন, “নিউরোমডুলেশন ও সাইকেডেলিক একসাথে ব্যবহার করে নির্দিষ্ট সার্কিটে সঠিকভাবে নিউরাল প্লাস্টিসিটি আনা ভবিষ্যত গবেষণার রোমাঞ্চকর দিক।”
একইসঙ্গে, বিভিন্ন কাজ বা পরিবেশে সাইলোসাইবিন কীভাবে মস্তিষ্ক বদলায়, তা বোঝা গেলে “সেট অ্যান্ড সেটিং” প্রভাবও ব্যাখ্যা করা যাবে। এতে ব্যবহারকারীর মানসিক অবস্থা ও পরিবেশ ওষুধের প্রভাবকে ভালো বা খারাপ ট্রিপে পরিণত করতে পারে।
তবে গবেষণা এখনো ইঁদুরে সীমাবদ্ধ। মানুষের মস্তিষ্কেও একই পরিবর্তন হবে কি না, তা নিশ্চিত নয়। তবু হুইলারের মতে, সম্ভাবনা প্রবল। কারণ এর আগে ২০২৪ সালের এক মানব মস্তিষ্ক স্ক্যান গবেষণায় দেখা গেছে, সাইলোসাইবিন মানুষেও কিছু অঞ্চলের মধ্যে অতিরিক্ত সংযোগ ঘটায় যা ইঁদুরের ফলাফলের সঙ্গে মিলে যায়।
———
Psilocybin triggers an activity-dependent rewiring of large-scale cortical networks. bioRxiv (2025).
DOI: 10.1101/2025.08.06.668927
নিয়মিত আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের নিউজলেটারে এবং ফলো করুন আমাদের টেলিগ্রাম, ইনস্টাগ্রাম, টুইটার এবং ফেসবুক-এ। এছাড়াও যুক্ত হতে পারেন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে।

এই নিবন্ধটি Creative Commons Attribution-NoDerivatives 4.0 International License-এর অধীনে লাইসেন্সকৃত। পুনঃপ্রকাশের জন্য পুনঃপ্রকাশের নির্দেশিকা দেখুুন।


