এই সাইটটি ব্যবহার করে, আপনি আমাদের গোপনীয়তা নীতি এবং ব্যবহারের শর্তাবলীতে সম্মত হন।
Accept
বিজ্ঞানবার্তাবিজ্ঞানবার্তাবিজ্ঞানবার্তা
  • প্রচ্ছদ
  • ম্যাগাজিন
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • গোপনীয়তা নীতি
  • ইন্টারেস্ট কাস্টমাইজ
  • বুকমার্ক
পড়ছেন: কৃত্রিমভাবে ল্যাবে শুক্রাণু তৈরির পথে আরো এক ধাপ এগিয়ে গেলেন বিজ্ঞানীরা
Notification আরো দেখুন
Font ResizerAa
বিজ্ঞানবার্তাবিজ্ঞানবার্তা
Font ResizerAa
  • পদার্থবিজ্ঞান
  • প্রযুক্তি
  • মহাকাশ
  • ঔষধ
  • স্বাস্থ্য
  • জীবাশ্ম বিজ্ঞান
  • জীববিজ্ঞান
  • ভাইরাস
  • ভূতত্ত্ব
  • জেনেটিক্স
  • রসায়ন
  • গণিত
খোঁজ
  • প্রচ্ছদ
  • ম্যাগাজিন
  • আমাদের সম্পর্কে
  • গোপনীয়তা নীতি
  • যোগাযোগ
  • ইন্টারেস্ট কাস্টমাইজ
  • বুকমার্ক
  • আর্কাইভ
Have an existing account? Sign In
Follow US
বিজ্ঞানবার্তা > সংবাদ > জীববিজ্ঞান > কৃত্রিমভাবে ল্যাবে শুক্রাণু তৈরির পথে আরো এক ধাপ এগিয়ে গেলেন বিজ্ঞানীরা
জীববিজ্ঞান

কৃত্রিমভাবে ল্যাবে শুক্রাণু তৈরির পথে আরো এক ধাপ এগিয়ে গেলেন বিজ্ঞানীরা

মানুষের রক্তকোষকে রিপ্রোগ্রাম করে গবেষকেরা পরীক্ষাগারে শুক্রাণুর প্রাথমিক পর্যায়ের কোষ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন, যা পরে ইঁদুরের শরীরে আরও বিকশিত হয়েছে। যদিও এখনো পূর্ণাঙ্গ মানব শুক্রাণু তৈরি সম্ভব হয়নি, তবে এই গবেষণা পুরুষ বন্ধ্যত্বের কারণ অনুসন্ধান এবং মানব প্রজনন প্রক্রিয়া বোঝার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। চিকিৎসায় ব্যবহার করার আগে প্রযুক্তিটি নিয়ে আরও দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা ও নিরাপত্তা যাচাই প্রয়োজন।

ফাইজাহ্ সুলতানা
ফাইজাহ্ সুলতানা
প্রকাশিত: ১৭ জুলাই, ২০২৬
হালনাগাদ: 17 জুলাই, 2026
পড়তে 10 মিনিট লাগবে
শেয়ার
গবেষকরা পরীক্ষাগারে স্টেম সেল থেকে মানুষের শুক্রাণু (এখানে একটি রঙিন ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপ ছবিতে দেখানো হয়েছে) তৈরি করার চেষ্টা করছেন।Juergen Berger/Science Photo Library
শেয়ার

শুনতে যেন বিজ্ঞান কল্পকাহিনির গল্প। একজন মানুষের রক্ত থেকে কোষ সংগ্রহ করা হচ্ছে, তারপর সেই কোষগুলোকে এমনভাবে জিনগত ও জৈবিকভাবে রিপ্রোগ্রাম করা হচ্ছে যাতে সেগুলো ধীরে ধীরে অপরিণত শুক্রাণুতে রূপ নিতে পারে। এরপর সেই কোষগুলোকে একটি ক্ষুদ্র টিস্যুর থলির মধ্যে প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে, যেই টিস্যু একটি ইঁদুরের কিডনির ওপর বৃদ্ধি করা হয়েছে।

কিন্তু এটি কোনো কল্পকাহিনি নয়। ১০ জুলাই, ২০২৬ Cell Stem Cell জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় একদল গবেষক জানিয়েছেন, তাঁরা সফলভাবে এই পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে পেরেছেন। তাঁদের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো পরীক্ষাগারে সম্পূর্ণ পরিণত মানব শুক্রাণু তৈরি করা।

তবে আপাতত সেই লক্ষ্য এখনও অধরাই রয়ে গেছে। গবেষণাগারে তৈরি হওয়া কোষগুলো শুক্রাণুর অপরিণত একটি পর্যায়ে গিয়ে থেমে গেছে। ল্যাবে পূর্ণাঙ্গ মানব শুক্রাণু তৈরি করতে এখনও বহু বৈজ্ঞানিক বাধা অতিক্রম করতে হবে বলে মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় অবস্থিত পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রজনন জীববিজ্ঞানী ইয়োইন হুইলান। তিনি এই গবেষণা দলেরও একজন সদস্য। তাঁর মতে, তবুও এই সাফল্য সঠিক দিকের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

এদিকে এই প্রযুক্তি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি মানুষের শুক্রাণু তৈরির প্রাথমিক ধাপগুলো নিয়ে গবেষণা করতে এবং পুরুষদের বন্ধ্যত্বের অজানা কারণ খুঁজে বের করতে সহায়তা করবে। বর্তমানে পুরুষদের বন্ধ্যত্বের প্রায় ৪০ শতাংশ ঘটনার কোনো নির্দিষ্ট কারণ জানা যায় না।

হুইলান বলেন, “আমরা এই গবেষণাকে মূলত মৌলিক বিজ্ঞান বা বেসিক সায়েন্সের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছি। চিকিৎসাক্ষেত্রে এটি ব্যবহার করার মতো পর্যায়ে পৌঁছাতে এখনও আমাদের অনেক দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে হবে।”

বহুদিনের এক কঠিন লক্ষ্য

এই প্রযুক্তির সম্ভাব্য চিকিৎসাগত ব্যবহারগুলোর কিছু নিয়ে ইতিমধ্যেই বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ল্যাবে তৈরি শুক্রাণু বা ডিম্বাণু ব্যবহার করে সন্তান জন্ম দেওয়ার ধারণাটি নৈতিক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। যদিও কিছু গবেষক মনে করেন, ভবিষ্যতে এটি নির্দিষ্ট ধরনের বন্ধ্যত্বের চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, অন্যদিকে অনেকের আশঙ্কা, এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে মানুষের প্রজনন কোষে জিনগত পরিবর্তন এনে তথাকথিত “ডিজাইনার বেবি” তৈরির পথ সহজ করে দিতে পারে।

এ পর্যন্ত অল্প কয়েকটি গবেষণা দল ইঁদুরের ত্বকের কোষ থেকে ইঁদুরের ডিম্বাণু ও শুক্রাণু তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রথমে ত্বকের কোষগুলোকে জিনগতভাবে রিপ্রোগ্রাম করে ইন্ডিউসড প্লুরিপোটেন্ট স্টেম সেল বা iPS কোষে পরিণত করা হয়। এই কোষগুলো অনেকটা ভ্রূণের স্টেম সেলের মতো আচরণ করে। পরে রাসায়নিক বা জিনগত সংকেত ব্যবহার করে এগুলোকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের কোষে, যেমন শুক্রাণু তৈরির কোষে রূপান্তর করা যায়।

এমনকি একটি গবেষণা দল এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে দুটি পুরুষ ইঁদুর থেকে সন্তানের জন্ম দিতেও সক্ষম হয়েছে।

কিন্তু ইঁদুরে এই সাফল্য অর্জিত হলেও মানুষ বা অন্যান্য প্রাইমেট প্রাণীর ক্ষেত্রে একই ফল পাওয়া যায়নি। কারণ বিভিন্ন প্রজাতির ভ্রূণীয় বিকাশের ধরন একে অপরের থেকে ভিন্ন। এছাড়া মানুষের ভ্রূণের বিকাশ নিয়ে গবেষণা করাও অত্যন্ত কঠিন। ফলে যারা মানুষের শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর বিকাশের একেবারে প্রাথমিক ধাপগুলো বুঝতে এবং পরীক্ষাগারে পুনর্নির্মাণ করতে চান, তাঁদের অনেকটাই অন্ধকারে পথ খুঁজতে হয়।

পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিকাশজনিত জীববিজ্ঞানী কোটারো সাসাকি বলেন, “মানুষের ক্ষেত্রে এই গবেষণা এখনও অনেক পিছিয়ে রয়েছে।”

ধাপে ধাপে অগ্রগতি

সাসাকি এবং তাঁর সহকর্মীরা এর আগে বের করেছিলেন কীভাবে মানবদেহের iPS কোষকে এমন কোষে রূপান্তর করা যায়, যা ভ্রূণের বিকাশের একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ের সেই কোষগুলোর মতো দেখতে এবং আচরণ করতে শুরু করে, যেগুলো পরবর্তীতে ডিম্বাণু ও শুক্রাণুতে পরিণত হয়।

এরপর গবেষকেরা সেই অপরিণত কোষগুলোকে বিকাশমান ইঁদুরের অণ্ডকোষ থেকে সংগ্রহ করা অপ্রজনন কোষের সঙ্গে মিশিয়ে দেন। এই অপ্রজনন কোষগুলো শুক্রাণুর বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় সুরক্ষা, পুষ্টি এবং সহায়ক পরিবেশ প্রদান করতে পারে।

গবেষকরা ইঁদুরের অণ্ডকোষ থেকে অপ্রজনন কোষ (সায়ান) এবং ম্যাকাক বানরের অপরিণত শুক্রাণু কোষ (লাল ও সবুজ) মিশিয়ে সেগুলোকে ইঁদুরের কিডনির একটি থলিতে প্রতিস্থাপন করেন। প্রতিস্থাপনের এক মাস পর, ইঁদুরের কোষগুলো অণ্ডকোষের মতো নলাকার কাঠামোতে সজ্জিত হয়েছিল (ছবিতে দেখানো হয়েছে)।ক্রেডিট: E. C. Whelan et al./Cell Stem Cell
গবেষকরা ইঁদুরের অণ্ডকোষ থেকে অপ্রজনন কোষ (সায়ান) এবং ম্যাকাক বানরের অপরিণত শুক্রাণু কোষ (লাল ও সবুজ) মিশিয়ে সেগুলোকে ইঁদুরের কিডনির একটি থলিতে প্রতিস্থাপন করেন। প্রতিস্থাপনের এক মাস পর, ইঁদুরের কোষগুলো অণ্ডকোষের মতো নলাকার কাঠামোতে সজ্জিত হয়েছিল (ছবিতে দেখানো হয়েছে)।
ক্রেডিট: E. C. Whelan et al./Cell Stem Cell

এই পদ্ধতির মাধ্যমে সাসাকি এবং তাঁর সহকর্মীরা পরিণত শুক্রাণু তৈরির লক্ষ্যের আরও কাছাকাছি পৌঁছাতে সক্ষম হন। কিন্তু কোষগুলো মানুষের ভ্রূণে দেখা যাওয়া শুক্রাণুর বিকাশের প্রাথমিক স্তর অতিক্রম করতে পারেনি।

এবার সাসাকি, হুইলান এবং তাঁদের সহকর্মীরা প্রক্রিয়াটিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যান। তাঁরা মানব ও ইঁদুরের কোষের এই মিশ্রণকে জীবিত ইঁদুরের শরীরে প্রতিস্থাপন করেন। প্রতিস্থাপনের জন্য তাঁরা কিডনির এমন একটি অংশ বেছে নেন, যা দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিস্থাপিত টিস্যুর বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য উপযোগী হিসেবে পরিচিত।

কিডনির ওপর তৈরি হওয়া সেই ক্ষুদ্র থলির মধ্যে প্রতিস্থাপিত কোষগুলো নিজেরাই সংগঠিত হয়ে নলাকার গঠন তৈরি করে। এই গঠনগুলো মানুষের অণ্ডকোষের সেই নালিকাগুলোর সঙ্গে অনেকটাই মিল, যেখানে স্বাভাবিকভাবে শুক্রাণু উৎপন্ন হয়।

প্রতিস্থাপনের ছয় মাস পর গবেষকেরা দেখতে পান, মানব কোষগুলো স্পার্মাটোগোনিয়া নামের কোষে পরিণত হয়েছে। এই কোষগুলোই পরবর্তীতে পরিণত শুক্রাণুর জন্ম দিতে সক্ষম হয়।

গবেষণায় আরও দেখা যায়, এসব অপরিণত শুক্রাণু কোষে সক্রিয় থাকা জিনগুলোর কার্যক্রম স্বাভাবিক মানব স্পার্মাটোগোনিয়ার জিনগত কার্যকলাপের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মিল দেখায়।

তবে এখানেই বিকাশ থেমে যায়। অধিকাংশ মানব কোষ এই স্তর অতিক্রম করতে পারেনি এবং একটি কোষও পরিণত শুক্রাণুতে রূপ নিতে সক্ষম হয়নি।

গবেষণা দল একই ধরনের পরীক্ষা ম্যাকাক বানরের ক্ষেত্রেও চালায়। সেখানেও একই ফলাফল পাওয়া যায়। কোষগুলো স্পার্মাটোগোনিয়া পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছালেও পরিণত শুক্রাণুতে পরিণত হয়নি।

পরিণত হতে বাধা কোথায়?

সাসাকির ধারণা, বিকাশমান মানব স্পার্মাটোগোনিয়া এবং তাদের সহায়তা প্রদানকারী ইঁদুরের কোষের মধ্যে প্রজাতিগত পার্থক্য এই সমস্যার অন্যতম কারণ হতে পারে।

শুক্রাণুর বিকাশ অত্যন্ত জটিল একটি জৈবিক প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ায় আশপাশের অপ্রজনন কোষের কাছ থেকে নানা ধরনের সংকেত প্রয়োজন হয়। একই সঙ্গে শরীরের দূরবর্তী অঙ্গ থেকে আসা বিভিন্ন হরমোনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মানুষের ক্ষেত্রে এই সংকেত ও পরিবেশের সঙ্গে ইঁদুরের শরীরের পরিবেশ পুরোপুরি মিলে যায় না।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, লস অ্যাঞ্জেলেসের বিকাশজনিত জীববিজ্ঞানী আমান্ডার ক্লার্ক মনে করেন, যদি মানব কোষগুলোর সঙ্গে ইঁদুরের পরিবর্তে মানুষেরই অপ্রজনন সহায়ক কোষ ব্যবহার করা যায়, তাহলে কোষগুলো পরিণত শুক্রাণুতে বিকশিত হওয়ার সম্ভাবনা আরও বেড়ে যেতে পারে।

তিনি বলেন, “পরবর্তী বড় প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন সম্ভবত এটাই হবে।”

পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপ

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হবে এই স্পার্মাটোগোনিয়া কোষগুলো কার্যকর কি না, তা নিশ্চিত করা।

মানুষের ক্ষেত্রে এই পরীক্ষা সরাসরি করা সম্ভব নয়, কারণ এতে গুরুতর নৈতিক প্রশ্ন জড়িত। তাই সাসাকি আশা করছেন, তিনি ভবিষ্যতে ম্যাকাক বানরের ওপর এই পরীক্ষাগুলো চালাতে পারবেন।

যুক্তরাষ্ট্রের পিটসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রজনন জীববিজ্ঞানী কাইল অরউইগ বলেন, “শেষ পর্যন্ত আপনাকে শুক্রাণু তৈরি করতেই হবে, তারপর সেই শুক্রাণু দিয়ে একটি সন্তানের জন্ম দেখাতে হবে। তখনই প্রমাণ হবে যে আপনি সত্যিকারের কার্যকর কোষ তৈরি করেছেন।”

এদিকে কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও পরীক্ষাগারে ডিম্বাণু ও শুক্রাণু তৈরির প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে।

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার বার্কলিভিত্তিক বায়োটেক প্রতিষ্ঠান Conception জানায়, তারা স্টেম সেল থেকে পরীক্ষাগারে অপরিণত মানব ডিম্বাণু তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।

এরও আগে, চলতি বছরের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের উটাহ অঙ্গরাজ্যের সল্ট লেক সিটিভিত্তিক প্রতিষ্ঠান Paterna Biosciences ঘোষণা দেয়, তারা পরিণত মানব শুক্রাণু তৈরি করেছে।

তবে Paterna-র পদ্ধতি এই গবেষণার তুলনায় ভিন্ন। তারা তাদের প্রক্রিয়া শুরু করে অণ্ডকোষ থেকে সংগ্রহ করা অপরিণত শুক্রাণু কোষ দিয়ে। অর্থাৎ তারা মানুষের রক্ত বা ত্বকের কোষকে iPS কোষে রূপান্তর করে একেবারে শুরু থেকে শুক্রাণুর বিকাশের পুরো প্রক্রিয়া পুনর্নির্মাণ করার চেষ্টা করে না।

সাসাকির মতে, এ ধরনের দাবি সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করা উচিত।

তিনি বলেন, “তারা কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।”

এরপর তিনি আরও বলেন, “আপনি যদি এত বড় দাবি করতে চান, তাহলে তার পক্ষে বিশাল পরিমাণ বৈজ্ঞানিক প্রমাণও দেখাতে হবে।”

কেন এই গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ?

যদিও এই গবেষণায় এখনও পূর্ণাঙ্গ মানব শুক্রাণু তৈরি করা সম্ভব হয়নি, তবুও বিজ্ঞানীরা এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন। কারণ প্রথমবারের মতো মানুষের রক্ত থেকে সংগৃহীত কোষকে পুনঃপ্রোগ্রাম করে জীবিত প্রাণীর শরীরের মধ্যে এমন একটি পর্যায় পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া গেছে, যেখানে সেগুলো স্পার্মাটোগোনিয়ায় পরিণত হয়েছে। এটি মানব শুক্রাণুর বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

এর মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা এখন মানুষের শুক্রাণু তৈরির প্রাথমিক ধাপগুলো আরও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। বিশেষ করে যেসব পুরুষের বন্ধ্যত্বের কারণ এখনও অজানা, তাঁদের ক্ষেত্রে কোন পর্যায়ে বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে, তা বোঝার নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে গবেষকেরা জোর দিয়ে বলছেন, এই প্রযুক্তি এখনই সন্তান জন্মদানের চিকিৎসায় ব্যবহার করার মতো অবস্থায় পৌঁছায়নি। পূর্ণাঙ্গ শুক্রাণু তৈরি, সেই শুক্রাণুর কার্যকারিতা যাচাই এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখনও বহু বছরের গবেষণা প্রয়োজন হবে।

একই সঙ্গে এই প্রযুক্তির নৈতিক দিক নিয়েও বিস্তৃত আলোচনা প্রয়োজন। কারণ ভবিষ্যতে যদি ল্যাবে তৈরি শুক্রাণু বা ডিম্বাণু ব্যবহার করে সন্তান জন্ম দেওয়া সম্ভব হয়, তাহলে তার সামাজিক, নৈতিক এবং আইনি প্রভাবও হবে ব্যাপক।

এই কারণেই বিজ্ঞানীরা বলছেন, বর্তমান গবেষণার সবচেয়ে বড় গুরুত্ব চিকিৎসা নয়, বরং মানুষের প্রজনন জীববিজ্ঞানের এমন একটি ক্ষেত্রকে উন্মোচন করা, যা এতদিন গবেষকদের কাছে প্রায় অজানাই ছিল। ভবিষ্যতে এই জ্ঞান পুরুষ বন্ধ্যত্বের কারণ নির্ণয়, নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি উদ্ভাবন এবং মানব প্রজনন সম্পর্কে আরও গভীর ধারণা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

———

Generation of spermatogonia from human and non-human primate pluripotent stem cells. Cell Stem Cell (2026).
DOI: 10.1016/j.stem.2026.06.001

নিয়মিত আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের নিউজলেটারে এবং ফলো করুন আমাদের টেলিগ্রাম, ইনস্টাগ্রাম, টুইটার এবং ফেসবুক-এ। এছাড়াও যুক্ত হতে পারেন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে।

Creative Commons License

এই নিবন্ধটি Creative Commons Attribution-NoDerivatives 4.0 International License-এর অধীনে লাইসেন্সকৃত। পুনঃপ্রকাশের জন্য পুনঃপ্রকাশের নির্দেশিকা দেখুুন।
প্রবন্ধটি শেয়ার করুন
Facebook Whatsapp Whatsapp লিঙ্ক কপি করুন প্রিন্ট
পূর্ববর্তী প্রবন্ধ মায়া সভ্যতার দেয়ালে পাওয়া গণিতের সূত্র উন্মোচন করল এক বিস্মৃত গণিতবিদের পরিচয়
পরবর্তী প্রবন্ধ বাংলাদেশের প্রতি ১৩ জন নারীর একজনের মেনোপজ শুরু হয় ৪৫ বছরের আগেই
মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন জবাব বাতিল

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সাম্প্রতিক পোস্ট
  • বলিভিয়ার বনে মিলল নতুন প্রজাতির বিড়াল
  • মানব মস্তিষ্ক দুটি আলাদা স্নায়ুতন্ত্রের সংমিশ্রণ থেকে বিকশিত হতে পারে
  • ২০০ বছরের পুরোনো নেভিয়ার-স্টোকস সমীকরণের সমাধান খুঁজে পাওয়ার দাবি ওপেনএআই-এর
  • বিড়ালের কিডনিতে ১১০ বছরের পুরোনো রহস্যের সন্ধান
  • আবিষ্কৃত হলো বায়ুমণ্ডলযুক্ত এক্সোপ্ল্যানেট, সেখানে কি প্রাণের থাকতে পারে?

বিভাগসমূহ

  • পদার্থবিজ্ঞান
  • জীববিজ্ঞান
  • মহাকাশ
  • রসায়ন
  • প্রকৃতি
  • প্রত্নতত্ত্ব
  • জীবাশ্ম বিজ্ঞান
  • জ্যোতির্বিজ্ঞান

আমাদের সম্পর্কে

বিজ্ঞানবার্তা একটি অলাভজনক বিজ্ঞান সংবাদ প্রচার মাধ্যম।
প্রয়োজনীয় লিঙ্ক
  • আমাদের সম্পর্কে
  • ম্যাগাজিন
  • বিজ্ঞানবার্তা টিম
  • পুনঃপ্রকাশের নির্দেশিকা
  • যোগাযোগ
  • আমার বুকমার্ক
  • গোপনীয়তা নীতি
শীর্ষ বিভাগসমূহ
  • মহাকাশ
  • জ্যোতির্বিজ্ঞান
  • জীববিজ্ঞান
  • স্বাস্থ্য
  • প্রাণী
  • জীবাশ্ম বিজ্ঞান
  • জেনেটিক্স

সাবস্ক্রাইব

অবিলম্বে আমাদের নতুন নিবন্ধের খোঁজ পেতে আমাদের নিউজলেটার সাবস্ক্রাইব করুন!

বিজ্ঞানবার্তাবিজ্ঞানবার্তা
Follow US
© 2021-2026 BigganBarta, Inc.
Made with love ❤️ by Last Coin Standing Interactive.
সাবস্ক্রাইব
অবিলম্বে আমাদের নতুন নিবন্ধের খোঁজ পেতে আমাদের নিউজলেটার সাবস্ক্রাইব করুন!

স্প্যামবিহীন, যেকোনো সময় সাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।
ফিরে আসার জন্য স্বাগতম!

আপনার অ্যাকাউন্টে সাইন ইন করুন

Username or Email Address
Password

Lost your password?