গত ১৫ মার্চ, ২০২৫ এ বেইজিং সময় রাত ৮টা ১৫ মিনিটে চীন লং মার্চ-২সি (Long March-2C) রকেটের মাধ্যমে দুটি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করে। রকেটের প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপ সফল হলেও, তৃতীয় বা ‘আপার স্টেজ’-এ একটি কারিগরি ত্রুটির কারণে স্যাটেলাইট দুটি নির্ধারিত কক্ষপথে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়। এরপর কয়েক মাস ধরে স্যাটেলাইট দুটিকে রক্ষা করার নানা প্রচেষ্টা চালান প্রকৌশলীরা। একসময় তারা সেগুলোকে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে নামিয়ে এনে ধ্বংস করে দেওয়ার পরিকল্পনাও করে।
CGTN–এর একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উৎক্ষেপণের ১২৩ দিন পর ‘গ্র্যাভিটেশনাল স্লিংশট’ পদ্ধতির মাধ্যমে স্যাটেলাইটগুলোকে সফলভাবে ‘উদ্ধার’ করা হয়। সহজভাবে বললে, প্রকৌশলীরা পৃথিবী, চাঁদ ও সূর্যের অভিকর্ষ বল ব্যবহার করে স্যাটেলাইটগুলোর গতি ও দিক নির্ধারণ করে সেগুলোকে ঠিক কক্ষপথে নিয়ে যান। এই প্রচেষ্টায় শুধু মিশনই বাঁচে না, বরং এটি গভীর মহাকাশে নেভিগেশনের জন্য একটি সম্ভাব্য যুগান্তকারী কৌশল হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। আবার যেহেতু স্যাটেলাইট দুটি এমন একটি নেটওয়ার্কের অংশ, যা পৃথিবীর কক্ষপথের বাইরে স্বয়ংক্রিয় মহাকাশযান নিয়ন্ত্রণে সক্ষম, তাই এই মিশন প্রযুক্তিগত দিক থেকেও খুব গুরুত্বপূর্ণ।
এই উদ্ধারের নেতৃত্ব দেন চীনের Technology and Engineering Center for Space Utilization (CSU)-এর গবেষক ঝাং হাও। CGTN Digital-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “এটি ছিল আমার প্রথম উৎক্ষেপণ মিশন, এবং আমি প্রথমে কোনো সমস্যা হবে তা ভাবিনি। যদি স্যাটেলাইট দুটি ধ্বংস হয়ে যেত, তাহলে আমাদের বহু বছরের পরিশ্রম এবং বিনিয়োগ সবই নষ্ট হতো। এটা দলের জন্য মানসিকভাবে অনেক বড় আঘাতও হতো। সৌভাগ্যক্রমে তা হয়নি। আমরা দুটি দলে ভাগ হয়ে কাজ করেছি—এক দল স্যাটেলাইটের থ্রাস্টার নিয়ন্ত্রণ করে তার ঘূর্ণন কমানোর কাজ করে, আর আমার দল সেগুলোকে সঠিক পথে ফেরানোর জন্য সর্বোত্তম কক্ষপথ গণনা করে।”
উদ্ধার করা DRO-A এবং DRO-B স্যাটেলাইট দুটি পূর্বে উৎক্ষেপণকৃত DRO-L স্যাটেলাইটের সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি কনস্টেলেশন (নেটওয়ার্ক) তৈরি করেছে, যা মহাকাশযানের জন্য নেভিগেশন সেবা দেবে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতের মহাকাশযানগুলোর অবস্থান মাত্র ৩ ঘণ্টার মধ্যে জানা যাবে, যেখানে এখনকার পদ্ধতিতে ২–৩ দিন সময় লাগে।
CSU-এর আরেক গবেষক মাও জিনইউয়ানের মতে, এই প্রযুক্তি মহাকাশে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যান নিয়ন্ত্রণে (autonomous piloting) নতুন যুগের সূচনা করতে পারে। অটোনমাস পাইলটিং প্রযুক্তি চীনের ২০৩০ সালে চাঁদে মানুষ পাঠানো এবং প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক চন্দ্র গবেষণা কেন্দ্র (ILRS)-এর জন্য পে-লোড পাঠানোর মতো ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাগুলোর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হবে।
নিয়মিত আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের নিউজলেটারে এবং ফলো করুন আমাদের টেলিগ্রাম, ইনস্টাগ্রাম, টুইটার এবং ফেসবুক-এ। এছাড়াও যুক্ত হতে পারেন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে।

এই নিবন্ধটি Creative Commons Attribution-NoDerivatives 4.0 International License-এর অধীনে লাইসেন্সকৃত। পুনঃপ্রকাশের জন্য পুনঃপ্রকাশের নির্দেশিকা দেখুুন।


