ভাইরাস হলো জীবনহীন, অতি ক্ষুদ্র একধরনের জীবাণু যা জীবন্ত প্রাণীর শরীরে সংক্রমণ ঘটায়। ভাইরাসের নিজস্ব কোনো কোষ বা বিপাকক্রিয়া (মেটাবলিজম) নেই। ভাইরাস তাদের নিজস্ব জিনগত উপাদান জীবন্ত কোষের মধ্যে প্রবেশ করিয়ে কোষকে তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করতে বাধ্য করে। ফলে, কোষ তার নিজের কাজ না করে ভাইরাসের ডিএনএ বা আরএনএ অনুযায়ী নতুন ভাইরাস তৈরি করতে শুরু করে।
ভাইরাস পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি জীবেই সংক্রমণ ঘটাতে পারে। এমনকি ব্যাকটেরিয়াও ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়। মানুষের ভাইরাসজনিত রোগগুলোর মধ্যে রয়েছে হামের মতো রোগ, ফ্লু, কোভিড-১৯ এবং সাধারণ সর্দি-কাশি সহ আরো অনেক।
সব ভাইরাসেই ডিএনএ বা আরএনএ জাতীয় জিনগত উপাদান থাকে, যা একটি প্রোটিনের খোলস বা ক্যাপসিডের ভিতরে আবদ্ধ থাকে। তবে ভাইরাসদের আরও কিছু “সরঞ্জাম” থাকে যা তাদের কোষে সংক্রমণ ঘটাতে সাহায্য করে। কিছু ভাইরাসে লোহার মতো ধারালো কাঁটা থাকে যা ব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীরে ছিদ্র করতে পারে। কিছু ভাইরাসের বাইরের একটি স্তর থাকে যা কোষের মেমব্রেনের মতো দেখতে — এদের “এনভেলপড ভাইরাস” বলা হয়। কোভিড-১৯ রোগের জন্য দায়ী SARS-CoV-2 ভাইরাস এমনই একটি উদাহরণ।

ক্রেডিট: brgfx/freepik
ভাইরাসের আকৃতিও বিচিত্র হয়। যেমন, ব্যাকটেরিয়াকে সংক্রমণ করে এমন এক ধরনের ভাইরাস, ব্যাকটেরিওফাজ, দেখতে ছয় পায়ের পোকামাকড়ের মতো। গাছপালায় সংক্রমণ ঘটানো টোব্যাকো মজাইক ভাইরাস দেখতে লম্বাটে নলের মতো।
কিছু বিজ্ঞানীর মতে, ভাইরাস জীবিত নয়, কারণ তারা নিজেরা নিজেরা বংশবৃদ্ধি করতে পারে না। কিন্তু ভাইরাসের কিছু বৈশিষ্ট্য জীবন্ত প্রাণীর মতোই। যেমন, ভাইরাস সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত বা বিবর্তিত হয়। ভাইরাসের ডিএনএ বা আরএনএ-তে হঠাৎ পরিবর্তন বা মিউটেশন হলে এটি ঘটে। আবার, যখন দুটি ভাইরাস একই কোষে সংক্রমণ ঘটায়, তখন তারা তাদের জিনগত উপাদান বিনিময় করতে পারে। এই মিশ্রণ থেকে একধরনের নতুন ভাইরাস জন্ম নিতে পারে যার মধ্যে ওষুধ বা ভ্যাকসিন প্রতিরোধের ক্ষমতা থাকতে পারে।
এই কারণেই প্রতিবছর ফ্লু ভ্যাকসিন নেওয়া জরুরি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ফ্লু ভাইরাস নিজেদের জিন বদলে নতুন রূপ নেয়। তাই আগের বছরের টিকা এ বছরের ভাইরাস থেকে সুরক্ষা দিতে নাও পারে।
মজার ব্যাপার হলো, HearNPV নামের একটি ভাইরাস শুঁয়োপোকাদের আচরণ বদলে দেয়, যার ফলে তাদের শিকারির হাতে পড়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
——
বিজ্ঞান কথা-র সম্পূর্ণ তালিকা দেখুন
নিয়মিত আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের নিউজলেটারে এবং ফলো করুন আমাদের টেলিগ্রাম, ইনস্টাগ্রাম, টুইটার এবং ফেসবুক-এ। এছাড়াও যুক্ত হতে পারেন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে।

এই নিবন্ধটি Creative Commons Attribution-NoDerivatives 4.0 International License-এর অধীনে লাইসেন্সকৃত। পুনঃপ্রকাশের জন্য পুনঃপ্রকাশের নির্দেশিকা দেখুুন।


